Related Question
View All‘বর্তমান শিক্ষার বিষময় ফল' বলতে লেখক মূলত সমাজে পণপ্রথার বিস্তার ও এর ভয়াবহ পরিণতিকে বুঝিয়েছেন। শিক্ষিত সমাজের মধ্যে যখন অর্থের লোভ এমনভাবে গ্রাস করে যে তারা শিক্ষাকে মানবিক মূল্যবোধের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, তখনই সেই শিক্ষাকে ‘বিষময় ফল’ বলা হয়েছে। এ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও মানুষ পণের লোভে কন্যাকে অবজ্ঞা করে, তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এখানে শিক্ষাকে জ্ঞানার্জনের বদলে কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মানবিক সম্পর্ককে বিষিয়ে তুলছে। এই অর্থলোভী মানসিকতা শিক্ষাকে ইতিবাচক প্রভাবের বদলে একটি ধ্বংসাত্মক শক্তিতে পরিণত করেছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ।
উদ্দীপকের হৈমুর বাবার সঙ্গে ‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমার বাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য হলো— উভয়েই নিজ কন্যাকে ভালো ঘরে বিয়ে দেওয়ার জন্য আর্থিক সংকটে ভোগেন এবং ঋণগ্রস্ত হন।
নিরুপমার বাবা তার একমাত্র মেয়ের ভালো বিয়ে দিতে গিয়ে বরপক্ষের দাবি করা দশ হাজার টাকা পণ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তিনি তার জমিদারির প্রায় সবকিছু বিক্রি করে, এমনকি ঋণ করেও পণ জোগাড়ের চেষ্টা করেন। তার শেষ সম্বলটুকুও চলে যায় মেয়ের বিয়েতে।
অনুরূপভাবে, উদ্দীপকের হৈমুর বাবা পেশায় অধ্যাপক হয়েও মেয়ের বিয়েতে মোটা অঙ্কের ঋণ করেন। তার জামাই পক্ষ ভেবেছিল হৈমুর বাবা হয়তো প্রচুর সম্পত্তির মালিক। কিন্তু তাদের ভুল ভাঙে যখন তারা জানতে পারে যে তিনি বরং ঋণগ্রস্ত। এই দুটি ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাবারা তাদের মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং সেই চেষ্টায় তারা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। এটি তৎকালীন সমাজে মেয়েদের বিয়ে দিতে পিতাদের অসহায়ত্ব ও পণপ্রথার ভয়াবহতাকেই তুলে ধরে।
না, উদ্দীপকের হৈমু ও ‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমাকে একসূত্রে গাঁথা যায় না। যদিও তাদের বাবারা মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন, তাদের ভাগ্যের পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ভিন্নতার কারণ হলো শ্বশুরবাড়ির আচরণ।
নিরুপমার পরিণতি: ‘দেনাপাওনা’ গল্পের নিরুপমা তার বাবার পণের টাকা দিতে না পারার কারণে শ্বশুরবাড়িতে অবহেলা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়। পণের জন্য তার বাবা যখন শেষ সম্বলটুকুও দেন, তখনো শ্বশুরবাড়ির লোভ মেটে না। নিরুপমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত পণের অপমান সইতে না পেরে সে মৃত্যুবরণ করে। তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কেবল অর্থকেই গুরুত্ব দেয়, মানবিক সম্পর্ক বা নিরুপমার প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা বা সম্মান ছিল না।
হৈমুর পরিণতি: উদ্দীপকের হৈমুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত। হৈমুর বাবা মোটা অঙ্কের ঋণ করে মেয়ের বিয়ে দেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এই বিষয়টি জানতে পারার পরেও হৈমুর প্রতি তাদের ভালোবাসা বা তার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা এতটুকুও কমেনি। বরং তারা হৈমুর বাবাকে ঋণমুক্ত করার জন্য এগিয়ে আসে। এখানে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পণের লোভের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতা ও পারিবারিক সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়েছে।
সিদ্ধান্ত: এই দুটি চরিত্রের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটি হলো শ্বশুরবাড়ির দিক থেকে প্রাপ্ত সম্মান ও ভালোবাসায়। নিরুপমা পণপ্রথার শিকার হয়ে অপমান ও মৃত্যুবরণ করে, অন্যদিকে হৈমু শ্বশুরবাড়ির মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণের কারণে একটি সম্মানজনক ও ভালোবাসাপূর্ণ জীবন পায়। তাই, যদিও তাদের বাবারা একই ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েন, তাদের ভাগ্য এবং শ্বশুরবাড়ির আচরণের ভিন্নতার কারণে হৈমু ও নিরুপমাকে একসূত্রে গাঁথা যায় না। একজন প্রতিকূলতার শিকার এবং অন্যজন সেই প্রতিকূলতা থেকে মুক্তি পায় মানবিকতার কারণে।
আপনার যদি এই উত্তরগুলো নিয়ে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!