নিরু পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি মেয়ে। বাংলাদেশের বাইরে অরুণাচলেও তাদের জনগোষ্ঠীর লোকদের বসবাস রয়েছে। নিরু তার বান্ধবী শুভ্রার সাথে ময়মনসিংহে তার গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গেল। ফলে সে খুব কাছ থেকে শুভ্রাদের ধর্মীয় আচার-আচরণ ও জীবিকা নির্বাহ দেখার সুযোগ পেল। সেখানে শুভ্রার পরিবারের সকল সদস্যরা শুভ্রার মায়ের মতামতকে প্রাধান্য দিচ্ছে দেখে সে ভীষণ অবাক হলো।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

মারমাদের গ্রামের প্রধানকে 'রোয়াজা' বলা হয়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের মানুষ প্রাচীন কাল থেকে বিভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছে এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করেছে। একটি সংস্কৃতির সাথে অন্য সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানের বিনিময়ের ফলে তৈরি হয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণ, যা মানুষে মানুষে সাংস্কৃতিক আন্তঃসম্পর্কের ভিত রচনা করে। এ আন্তঃসম্পর্ক যতটা ঘনিষ্ঠ ও স্থায়ী তত, বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সুষম যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী নিরু চাকমা নৃগোষ্ঠীর একজন সদস্য।

নিরু পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি মেয়ে। বাংলাদেশের বাইরে অরুনাচলেও তাদের জনগোষ্ঠীর লোকদের বসবাস রয়েছে। এ বিষয়টির সাথে চাকমা নৃগোষ্ঠীর মিল রয়েছে।

চাকমারা নিজেদের তাঁত দিয়ে পোশাক তৈরি করে। চাকমা মেয়েদের পরনের কাপড়ের নাম 'পিনোন' এবং 'হাদি'। পূর্বে চাকমা পুরুষেরা এক রকম মোটা সুতার জামা, ধুতি ও গামছা পরত এবং মাথায় এক রকম পাগড়ি বাঁধত। ইদানীং তারা শার্ট, প্যান্ট ও লুঙ্গি পরিধান করে। চাকমা মহিলাদের তৈরি বিভিন্ন কাপড়ের মধ্যে 'ফুলগাদি' ও নানা ধরনের ওড়না দেশি ও বিদেশি সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চাকমারা বাঁশ ও বেত দিয়ে সুন্দর সুন্দর ঝুড়ি, পাখা, চিরুনি,। বাঁশি এবং বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে। চাকমাদের প্রধান খাদ্য ভাত। তারা ডাতের সাথে মাছ, মাংস এবং শাকসবজি খেতে ভালোবাসে। তাদের প্রিয় খাদ্য বাঁশ কোড়ল। বাঁশ কোড়ল দিয়ে চাকমা মেয়েরা কয়েক ধরনের রান্না ও ভাজি করে। চাকমারা হা-ডু-ডু, কুস্তি এবং 'ঘিলাখারা' খেলতে ভালোবাসে। ছোট ছোট মেয়েরা 'বউচি' খেলে। চাকমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ উৎসব হলো 'বিজু'। বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নববর্ষের প্রথম দিনে চাকমারা বিজু উৎসব পালন করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের নিরু হচ্ছে চাকমা নৃগোষ্ঠীর এবং তার বান্ধবী শুভ্রা গারো নৃগোষ্ঠীর লোক। তাই তাদের সামাজিক জীবনের মধ্যেও ভিন্নতা রয়েছে।

চাকমা সমাজে মূল অংশ পরিবার। কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে পঠিত হয় 'আদাম' বা 'পাড়া'। পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি। কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা। মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান। কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন 'চাকমা রাজা। চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক। চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতাই পরিবারের প্রধান। পক্ষান্তরে, গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। তাদের সমাজে মা হলেন পরিবারের প্রধান। সন্তানেরা মায়ের উপাধি ধারণ করে। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা পরিবারের সমুদয় সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে থাকে। গারো পরিবারে পিতা সংসার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। গারো সমাজের মূলে রয়েছে মাহারি বা মাতৃগোত্র পরিচয়। তাদের সামাজিক জীবনে বিশেষত বিয়ে, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির ভোগ-দখল ইত্যাদিতে এ মাহারির গুরুত্ব অপরিসীম। মাতার বংশ ধরেই গারোদের চাৎচি (গোত্র) ও মাহারি (মাতৃগোত্র) নির্ণয় করা হয়। গারো সমাজে একই মাহারির পুরুষ ও মহিলার মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ। বর ও কনেকে ভিন্ন ভিন্ন মাহারির অন্তর্ভুক্ত হতে হয়। গারো সমাজে বেশ কয়েকটি দল রয়েছে। এরকম পাঁচটি দল হচ্ছে- সাংমা, মারাক, মোমিন, শিরা ও আরেং।

পরিশেষে বলা যায়, নিরু ও শুভ্রাদের সামাজিক জীবনের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
317

বাংলাদেশে বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী বাঙালিদের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন : চাকমা, গারো, সাঁওতাল, মারমা ও রাখাইনদের ভৌগোলিক অবস্থান, জীবনধারা, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানব। 

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা- 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানব এবং মানচিত্রে শনাক্ত করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাথে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ব্যাখ্যা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ব্যাখ্যা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
419
উত্তরঃ

সমতলভূমিতে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি ও মালো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এরা দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া এবং পাবনা জেলার সমতলভূমিতে বাস করে। এদের মধ্যে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী সংখ্যা ও প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
215
উত্তরঃ

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি, মণিপুরি, গারো, হাজং এবং কোচ নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ও উঁচু ভূমিতে তারা নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। তারা লোকগীতি, নৃত্য এবং ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির পরিচয় প্রকাশ করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
212
উত্তরঃ

রাখাইন নৃগোষ্ঠীর প্রধান বসতি কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়। তারা মূলত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে। রাখাইনরা কৃষি, নৌকা নির্মাণ এবং মৎস্যশিকার পেশায় দক্ষ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
172
উত্তরঃ

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গারো, হাজং, কোচ, খাসি এবং মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো কৃষিকাজ ও নৃত্য-গীতের জন্য পরিচিত।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
289
উত্তরঃ

পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই নৃগোষ্ঠীগুলো পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করলেও কৃষি ও পশুপালন তাদের প্রধান পেশা।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
198
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews