সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হচ্ছে- প্রশাসন পরিচালনা।
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নামে একটি আইনসভা থাকবে এবং এর ওপর প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ন্যস্ত হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন ও প্রচলিত আইন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করতে পারে। সংসদ আইনের মাধ্যমে যেকোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ প্রদান, বিধি, উপবিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দিতে পারে। সংসদ প্রণীত আইনে রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি প্রদান করবেন।
উদ্দীপকে জনাব 'P' দ্বারা রাষ্ট্রপতিকে বোঝানো হয়েছে। আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন। প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হয়। কিন্তু তার হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। দেশের সরকার গঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং অর্থ, বিচার, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সম্পাদন করেন। আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা, সংসদ বিষয়ক ক্ষমতা, অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা, অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতার অধিকারী। এছাড়া রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করতে পারেন। যখন তিনি বুঝতে পারেন যে, যুদ্ধ, বহিঃশত্রুর আক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে বাংলাদেশ বা এর কোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হয় তাহলে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। জরুরি অবস্থাকালে সংবিধানের কিছু বিধান ও মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিত থাকে।
উদ্দীপকে জনাব 'Q' দ্বারা প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীই হলেন শাসনব্যবস্থার কেন্দ্র। তিনি সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা ও মন্ত্রিসভার প্রধান। তিনিই মন্ত্রিসভা গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিকাংশ সদস্যের অস্থাভাজন সাংসদকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদানমন্ত্রী গ্রহণ করেন। সকল নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা অনেক উপরে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হলেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মূল স্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সম্মানজনক পদমর্যাদার অধিকারী। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তাঁর শাসন পরিচালনার জন্য সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। প্রধানমন্ত্রী আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা, সংসদ পরিচালনায় ক্ষমতা, অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় কাজের সমন্বয়ের ক্ষমতা, জাতির মুখপাত্র, দলের নেতা প্রভৃতি ক্ষমতার অধিকারী। এ কারণেই শাসনব্যবস্থার কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
Related Question
View Allপৌরসভা বাংলাদেশের শহরাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার একটি একক। বাংলাদেশে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ মহানগরগুলোর ১২টি সিটি কর্পোরেশন ছাড়া ৩৩১টি পৌরসভা আছে। বৃহত্তম পৌরসভা হলো বগুড়া।
'স্থানীয় প্রশাসন' বলতে সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের তথা বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা শাসনব্যবস্থাকে বুঝায়। প্রশাসনের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি। এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
আমাদের দেশে জনাব 'ক'-এর অবস্থান হলো স্থানীয় প্রশাসন কাঠামোর তৃতীয় স্তরে। অর্থাৎ জনাব 'ক' একজন জেলা প্রশাসক।
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনে বিভাগের পরেই জেলার অবস্থান। জেলা প্রশাসককে কেন্দ্র করে জেলার সমগ্র শাসন আবর্তিত হয়। জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার হলেন জেলা প্রশাসনের মধ্যমণি।
তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অভিজ্ঞ সদস্য। উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর কার্যাবলির সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যাবলির সাদৃশ্য বিদ্যমান থাকায় তাকে আমরা জেলা প্রশাসক হিসেবে অভিহিত করতে পারি। তিনি প্রশাসনের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বিভাগীয় কমিশনারের পরেই তার স্থান। তাই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসন পরিচালনার জন্য তাঁকে বহুবিধ কার্য সম্পাদন করত হয়। অতএব নিঃসন্দেহে বলা যায়, জনাব 'ক' আমাদের দেশের একজন জেলা প্রশাসক।
উদ্দীপকে জনাব 'ক' একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন।
একজন জেলা প্রশাসক তার কাজের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন। জেলা প্রশাসকের কার্যাবলি ব্যাপক। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, জেলা প্রশাসক জনাব 'ক' ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর হিসেবে জেলার ভূমিরাজস্ব ও অন্যান্য কর ধার্য ও আদায় করেন। আবার তিনি জেলার একজন প্রথম শ্রেণির বিচারক হিসেবে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে গৃহীত শাসনসংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ তদারক করা, সরকারি নীতি নির্ধারণ এবং সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় সরকারকে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা করা জেলা প্রশাসনের শাসনসংক্রান্ত কাজ। আবার সমন্বয় সাধনসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত সরকারি সকল দপ্তরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেন। জেলা প্রশাসক জেলার উন্নয়নের জন্য জেলার গণ্যমান্য লোকদের সাথে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সেসবের সমাধানের লক্ষ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত কাজ, সেবামূলক কাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত কাজ, শান্তি রক্ষামূলক কাজসহ একজন জেলা প্রশাসক জেলার প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে বহুবিধ দায়-দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেলার প্রকাশনা ও সংবাদপত্র বিভাগের প্রধান নিয়ন্ত্রক। তিনি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। আগ্নেয়াস্ত্র, স্পিরিট, বিষ প্রভৃতির লাইসেন্স প্রদানের দায়িত্ব তার ওপরই ন্যস্ত। এছাড়াও জেলা প্রশাসক জেলার প্রতিরোধমূলক বিচারকার্য সম্পন্ন করেন। তিনি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কাজ পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করে থাকেন। কাজেই জেলা প্রশাসককে জেলার পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক ও নিয়ন্ত্রক বলা হয়।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে জাতীয় সংসদের সদস্য হচ্ছে ৩৫০ জন।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয় এবং ওই জনগণের নিকট তা দায়িত্বশীল থাকে। বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!