প্রতিবন্ধী শিশু বলতে তাদের বোঝানো হয় যারা দৈহিক, মানসিক এবং বোধশক্তিজনিত দিক থেকে অসুবিধাগ্রস্ত এবং এসব কারণে সুষ্ঠুভাবে সামাজিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত হয়।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আচরণ স্বাভাবিক মানের থাকে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানসিক বৈশিষ্ট্য, সংবেদন ক্ষমতা, কথা বলা ও ভাব বিনিময় বৈশিষ্ট্য, আচরণগত ও আবাসিক বৈশিষ্ট্য ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা দেখা যায়। এরা এসকল থেকে তাদের আচরণ গুলো স্বাভাবিক মানের তুলনায় অধিক কম বা বেশি করে থাকে। যা দেখেই তাদের শনাক্ত করা যায়।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় বা সমবয়সীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তাদের আচরণে ভিন্নতা থাকে।
উদ্দীপকের জিমের বয়স চার বছর, তার মধ্যে অসংগত আচরণ ও আক্রমণাত্মক মনোভাব লক্ষ করা যায়। সে হঠাৎ-ই রাগ করে আবার একই খেলনা গাড়ি নিয়ে সারাক্ষণ একা একা থাকে। যা একটি অটিস্টিক শিশুর সাথে মিলে যায়। অথচ জিম এখন প্রাক বিদ্যালয়গামী স্তরে অবস্থান করছে। এখন অনেক প্রশ্ন করা, বিভিন্ন খেলনা দিয়ে খেলার বয়স জিমের। তাছাড়া অন্যের সাথে মেলামেশা করা, সংগত আচরণ করা ইত্যাদি বিষয় শেখার উপযুক্ত বয়স এখন জিমের। তার বয়সী অন্যান্য শিশুরা এসময় অন্যের সাথে মেশে, বিভিন্ন খেলনা দিয়ে সবার সাথে খেলতে চায়, নানান প্রশ্ন করে। অথচ জিমের মধ্যে এসকল আচরণ পরিলক্ষিত হয় না।
জিম একজন প্রতিবন্ধী শিশু। যে সব শিশুর শারীরিক ক্ষমতা, মানসিক যোগ্যতা, সংবেদীয় ক্ষমতা, সামাজিক ভাববিনিময় দক্ষতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য স্বাভাবিক শিশুর তুলনার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম থাকে তাদের প্রতিবন্ধী শিশু বলা হয়।
উদ্দীপকের জীমের আচরণ অসংগত ও আক্রমণাত্মক হলেও জিমের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, কর্মকাণ্ড তার উন্নতির জন্য সহায়ক। এক্ষেত্রে সমাজেরও কিছু করণীয় আছে। যেমন- জিমের মত প্রতিবন্ধী সম্পর্কিত তথ্য স্থানীয় জনগণের সহায়তায় প্রচার করে তার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে হবে। তাকে সমাজভিত্তিক পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় চিকিৎসাসেবা, স্পিচ থেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, কাউন্সিলিং ও সহায়ক উপকরণ দেয়া যেতে পারে। জিমকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়ে সম অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য প্রশিক্ষণসহ সমাজের সর্বস্তরের লোক পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারে। এছাড়া গুরুতর ও দুঃস্থ প্রতিবন্ধী শিশুদেরও তত্ত্বাবধানের জন্য যদি উপযুক্ত অভিভাবক না থাকে তবে সমাজকে তার দায়িত্ব গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সর্বোপরি, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণ প্রতিরোধ করার কিংবা প্রতিবন্ধিতার অবনতি রোধ করার জন্য সমাজ সচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
Related Question
View Allমানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতা ০-২৬ ডেসিবল।
প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশুকে তার ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া আবশ্যক। তাই তাদের শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা, সুপ্ত ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং স্বনির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে অবদান রাখা।
ডাক্তার ইমনের মধ্যে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা খুঁজে পেলেন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাদের বলা হয় যারা বধির এবং কানে শোনে না। কান ও শ্রবণ সংবেদন পরিবাহী অঙ্গের কোনো প্রকার ক্ষতির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয়।
শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে কথা শোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। কোনো শিশুর ০ থেকে ২৬ ডেসিবল পর্যন্ত শ্রবণ অক্ষমতা থাকলে তাদের শ্রবণে সমস্যা হয় না বলে তাদের স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা সম্পন্ন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ২৬ ডেসিবল এর চেয়ে তীব্র শব্দগুলো শুনতে সমস্যা হলে সে অবস্থাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়। ইমনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাকে বার বার ডাকার পর সে সাড়া দেয়। অর্থাৎ সাধারণ ডেসিবলের শব্দ সে শুনতে পায় না। সে যেহেতু স্বাভাবিক মাত্রার শব্দ শুনতে পায় না তাই জোরে বাড়িয়ে টিভি দেখে ও তার উচ্চারণের ক্ষেত্রেও অস্পষ্টতা দেখা যায়। এসকল বৈশিষ্ট্যই একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর মধ্যে লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, ইমন একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী।
ইমন যেহেতু শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাই তাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রা অনুসারে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
ইমনের মতো শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষকের দরকার। শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করে বা না করে কেবল কানের সাহায্যে যারা অন্যের কথা শুনতে পায় না, তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলে।
শিক্ষক যদি ধীরে ও উচ্চ স্বরে প্রতিবন্ধী শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করে কথা বলেন তবে তা শিশুর শিক্ষা গ্রহণের পক্ষে সহায়ক হবে। গুরুতর ও মধ্যম মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ইশারা ভাষা শিক্ষা দিতে হবে। এছাড়াও সকল ধরনের শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে ওষ্ঠপাঠ বিষয়ে শিক্ষা দিলে তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সহজ হয়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির শ্রবণ সহায়ক বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র পাওয়া যায়। শিশুর প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী এ রকম যন্ত্র ব্যবহার করতে দেয়া যায়। তবে শ্রবণ যন্ত্র দেয়া হলে তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়াও জরুরি।
উপরিউক্ত শিক্ষা পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদান করা যাবে।
অটিজমের ক্ষেত্রে মেয়ে ও ছেলে শিশুর অনুপাত প্রায় ১ : ৪।
প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের মতো হয় না। সমাজের মানুষের শিক্ষা সচেতনতার অভাবের কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাদের আচরণের অস্বাভাবিকতার কারণে এসব শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের রাস্তাঘাটে চলাচলে, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কিংবা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!