বড়োরানিরা ষড়যন্ত্র করে ছোটোরানির সন্তানদের হত্যা করার জন্য সন্তান প্রসবের পরে শিকলে নাড়া দিলো না।
'সাত ভাই চম্পা' গল্পে রাজা ছোটোরানির সন্তান হওয়া মাত্র শিকলে নাড়া দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। বড়োরানিরা আঁতুড়ঘরে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই দুইবার শিকলে নাড়া দেয়। কিন্তু সত্যিই যখন ছোটো রানির সন্তান হয়, তখন তারা শিশুগুলোকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আর শিকলে নাড়া দেয় না। সন্তানগুলোকে পাঁশগাদায় পুঁতে রেখে আসার পর তারা শিকলে নাড়া দেয় এবং রাজাকে কতগুলো ব্যাঙের ছানা ও ইঁদুরের ছানা এনে দেখায়। মূলত, ছোটোরানির ছেলেমেয়েগুলোকে পাঁশগাদায় পুঁতে হত্যা করার জন্যই নিষ্ঠুর বড়োরানিরা আর শিকলে নাড়া দেয়নি।
Related Question
View Allদক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের 'সাত ভাই চম্পা' গল্পে এক রাজা ও তার সাত রানির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। ছোটোরানিকে রাজা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এ কারণে বড়ো ছয় রানি ছোটোরানিকে প্রচন্ড হিংসা করত। তাদের হিংসা ও ষড়যন্ত্রের কারণে ছোটোরানি রাজ্য থেকে বিতাড়িত হন এবং ঘুঁটে-কুড়ানি রূপে জীবন কাটাতে থাকেন।
'সাত ভাই চম্পা' গল্পে দেখা যায় বড়োরানিরা ছোটোরানিকে পছন্দ করে না। ছোটোরানি ছিলেন খুব শান্ত স্বভাবের। ফলে রাজা তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এরপর ছোটোরানি সন্তানসম্ভবা হলে বড়োরানিরা তাকে আরও বেশি হিংসা করতে শুরু করে। সন্তানের আগমনের খুশিতে রাজা যখন সকলের জন্য রাজভান্ডার খুলে দেন, তখন তারা যেন হিংসায় জ্বলে-পুড়ে মরে যেতে থাকে।
প্রতিহিংসাপরায়ণ বড়োরানিরা ছোটোরানির সন্তান প্রসবের পর সন্তানগুলোকে হাঁড়িতে ভরে পাঁশগাদায় পুঁতে ফেলে রাখে। আর রাজাকে কতগুলো ব্যাঙের ছানা ও ইঁদুরের ছানা প্রসবের সংবাদ দেয়। এতে রাজা রেগে গিয়ে ছোটোরানিকে রাজপুরী থেকে বের করে দেন। দুঃখী ছোটোরানি ঘুঁটে-কুড়ানি দাসী হয়ে পথে পথে ঘুরতে থাকেন। তার দুঃখে গাছ-পাথর ফাটে, নদী-নালা শুকিয়ে যায়।
উপরের আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, ছোটোরানির প্রতি বড়োরানিদের তীব্র হিংসা-বিদ্বেষের কারণে তারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ কারণেই ছোটোরানিকে ঘুঁটে-কুড়ানি হয়ে জীবন কাটাতে হয়। তাই বলা যায়, বড়োরানিদের হিংসাই ছিল ছোটোরানির দুর্ভোগের মূল কারণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!