ধর্ম বলতে কতকগুলো নিয়মকানুন, আচার অনুষ্ঠান ও বিশ্বাসকে বোঝায়।
আইন ভঙ্গমূলক কাজ হচ্ছে অপরাধ অন্যদিকে বিচ্যুতি হচ্ছে সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ।
বিচ্যুতি ও অপরাধ ঘনিষ্ঠ হলেও এরা এক নয়, প্রকৃতপক্ষে বিচ্যুতির ধারণা অপরাধের চেয়ে বড়। অপরাধ হলো কেবল আইনের লঙ্ঘন। অপরাধের শাস্তি রাষ্ট্র কতৃক নির্ধারিত। সে শাস্তি হতে পারে লঘু অথবা গুরু। কিন্তু বিচ্যুতি হচ্ছে সেই আচরণ যা আইন লঙ্ঘন করে না তবে বিচ্যুতিমূলক আচরণকে সমাজের অধিকাংশ মানুষ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে থাকে। এর মাধ্যমে সামাজিক সংহতি কিছুটা হলেও বিনষ্ট হয়। তাই বলা যায়, অপরাধ ও বিচ্যুতি মূলত দুটি আলাদা বিষয় এবং উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্যও পরিলক্ষিত হয়।
নিহাল চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দু ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তা হলো ভদ্রবেশী অপরাধ এবং ক্ষতিগ্রস্তবিহীন অপরাধ।
আমাদের দেশে কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি রয়েছেন, যারা তাদের পেশাগত প্রক্রিয়ায় এমন কিছু অপরাধমূলক কাজ করে যেগুলো সাধারণ মানুষের দ্বারা সচরাচর করা সম্ভব নয়। এগুলো হলো ভদ্রবেশী অপরাধ। ভদ্রবেশী অপরাধ হলো আয়কর ফাঁকি, ঘুষ গ্রহণ, জালিয়াতি, মিথ্যা সাক্ষ্যদান ইত্যাদি। ভদ্রবেশী অপরাধগুলো অনেকটা নীরবে ও গোপনে সংঘটিত হয়। এসব দিক বিচারে নিহাল' চৌধুরীর আয়কর ফাঁকি ও ঘুষ গ্রহণ প্রভৃতি কর্মকাণ্ড হলো দ্রবেশী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
আবার নিহাল চৌধুরী জুয়া খেলেন এবং মদ্যপান করেন, যা থেকে তিনি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কিন্তু তার এ কর্ম দ্বারা অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ আনয়ন করে না। তাই তার এ অপরাধ হলো ক্ষতিগ্রস্তবিহীন অপরাধ।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে দু ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়।
না, আইনের দৃষ্টিতে নিহাল চৌধুরীর সব কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ বা নৈতিকতার দিক থেকে সকল অপরাধ আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ নাও হতে পারে। যেমন কথায় কথায় মিথ্যা বলা, বাবা-মায়ের দেখাশুনা না করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বা নৈতিকতার দিক থেকে এগুলো বিচ্যুতি বা গর্হিত কাজ।
নিহাল চৌধুরী ঘুষ গ্রহণ, আয়কর ফাঁকি, জুয়াখেলা, মদ্যপান প্রভৃতি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। অপরাধের ধরন বিচারে তার উক্ত কর্মকাণ্ডগুলোকে অপরাধ বলা যায়। কিন্তু কথায় কথায় মিথ্যা বলা, বাবা-মায়ের দেখাশুনা না করা অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং তা বিচ্যুতি। নিহাল চৌধুরীর মিথ্যাচার বা বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখাশুনা না করা অপরাধ নয় কারণ এটি সমাজের দৃষ্টিতে অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু কাজের ছেলেকে অত্যাচারের মধ্য দিয়ে গরিব অসহায়দের প্রতি তার নেতিবাচক মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়, যা অপরাধের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ নিহাল চৌধুরীর কিছু কর্মকাণ্ড আছে যা আইনে নিষিদ্ধ নয় কিন্তু সমাজের দ্বারা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসমর্থিত। আর এগুলো অপরাধ নয় বিচ্যুতি।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের নিহাল চৌধুরী কর্তৃক সংঘটিত সব কর্মকাণ্ড অপরাধের শর্ত বিচারে অপরাধের অন্তর্ভুক্ত নয়।
Related Question
View Allধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি মতবাদ হলো সর্বপ্রাণবাদ।
ধর্ম হলো পবিত্র বস্তু সম্পর্কিত কতগুলো বিশ্বাস ও প্রথার সমষ্টি ।
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই অতিমাত্রায় কোনো শক্তির উপর ভর বা বিশ্বাস করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। ধর্ম জ্ঞান অপেক্ষা বিশ্বাস দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত। বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আশায় মানুষ প্রার্থনা করে। ধর্ম যেহেতু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত সেহেতু এটি মানসিক শান্তি প্রদান করে।
উদ্দীপকে সংঘটিত অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
অপরাধের একটি অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। যেমনটি মার্কস বলেছেন পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা গেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। গরিব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অপরাধী বেশি দেখা যায়। কারণ ধন-সম্পদের অধিকারীরাই আইন প্রণয়ন করে এবং অপরাধীদের বিচার তাদের এখতিয়ারে। তাই তারা অপরাধ করেও শাস্তি ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারে। আর গরিবরা অনেক সময় আর্থিক কারণে অপরাধ করে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তেমনি অত্যধিক ধন লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হতে পারে আর্থ- সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষের একটি অংশ তাদের পেশাগত কাজের মাধ্যমে অপরাধ করে থাকে যাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের রহমত তার স্বল্প উপার্জনে পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে সক্ষম হলেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়। বাবার চিকিৎসার অর্থ যোগানের জন্যই সে টাকা চুরি করে। অতএব এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রহমতের অপরাধ সংগঠনের পিছনে অর্থনৈতিক কারণটিই দায়ী।
উদ্দীপকে রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সমাজজীবনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জানো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি সমাজে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রচলিত থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত দুটি মাধ্যমে তথা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আইন, প্রথা প্রভৃতি মাধ্যম ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, জীবনযাপন পদ্ধতি ব্যক্তির জীবনে স্থায়ী ছাপ ফেলে যা সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকট গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখায় এবং তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ফলশ্রুতিতে মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সমাজ কাঙ্ক্ষিত পন্থায় গড়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। সুষ্ঠু সমাজজীবনের স্বার্থে একটি সমাজে আইন ব্যবস্থা প্রচলিত হয়। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীর শাস্তির বিধান করা হয়, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এছাড়া এসকল বিষয় ছাড়াও ব্যক্তির নিজস্ব মূল্যবোধ, আদর্শ, রীতি-নীতির পাশাপাশি সমাজের আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, লোকাচার ও লোকরীতি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন প্রকৃতি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকে রহমত টাকা চুরি করার পর পত্রিকায় একজন রিকশাচালকের সততার সংবাদ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়। যার ফলে সে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করা টাকা পুনরায় নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিবে। রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে তার নিজস্ব মূল্যবোধ, রীতি-নীতি, আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, প্রচার মাধ্যম ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে সমাজে বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিদ্যমান।
"সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের।
সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্জ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার- বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!