শক্তির একক হলো জুল।
যেসব জ্বালানি নিঃশেষ হয়ে গেলেও পুনরায় উৎপন্ন করা যায় সেসব জ্বালানিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলে। বায়োগ্যাস একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি। গোবর, মানুষের মলমূত্র, পাতা, খড়কুটা প্রভৃতি হতে বায়ুর অনুপস্থিতিতে ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে বায়োগ্যাস উৎপন্ন করা হয়। অর্থাৎ এর উৎস সীমিত নয় এবং নিঃশেষ হওয়ারও কোনো শঙ্কা নেই। প্রাণী ও উদ্ভিদের বর্জ্য পদার্থ সব সময়ই উৎপন্ন হবে এবং তা থেকে নতুনভাবে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা যাবে। এ কারণে বায়োগ্যাস একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
উদ্দীপকে শক্তির রূপান্তরের ৫টি বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। এগুলো হলো-
১. কাপড় ইস্ত্রি করতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তির তাপ শক্তিতে রূপান্তর।
২. বৈদ্যুতিক চুম্বকের সাহায্যে মাল তোলার ক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তির যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর।
৩. ফ্যানের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তির যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর।
৪. টিভির ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তির তাপ, আলো ও শব্দ শক্তিতে রূপান্তর।
৫. ডুবোজাহাজের ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তির যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর।
শক্তির সংরক্ষণশীলতা বা নিত্যতা বিধি হলো- শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি কেবলমাত্র এক রূপ থেকে অন্য এক বা একাধিক রূপে রূপান্তরিত হয়। বিশ্বের মোট শক্তির পরিমাণ নির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।
উদ্দীপকের আলোকে শক্তির সংরক্ষণশীলতা বা নিত্যতা বিধির সত্যতা : উদ্দীপকের ঘটনায় দেখা যায় বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ শক্তি তাপশক্তিতে, বৈদ্যুতিক চুম্বকের ক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে, ফ্যানের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে, টিভির ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি তাপ, আলো ও শব্দ শক্তিতে এবং ডুবোজাহাজে পারমাণবিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়েছে। কোনোক্ষেত্রেই শক্তি ধ্বংস বা নষ্ট হয়ে যায়নি। শুধু এক রূপ থেকে অন্য এক রা একাধিক রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। রূপান্তরিত শক্তিকে যদি পরিমাপ করা হয় তবে তা মূল শক্তির সমান হবে।
সুতরাং উদ্দীপকের আলোকে শক্তির নিত্যতা বিধির সত্যতা প্রমাণিত হলো।
Related Question
View Allঅনবায়নযোগ্য শক্তি হলো সেসব শক্তি যা একবার ব্যবহার করা হলে, তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি। প্রাকৃতিক গ্যাসও এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। প্রকৃতিতে এটি তৈরি হতে যত সময় লাগে তার চেয়ে কম সময়ে ব্যয়িত হয়। তাই প্রাকৃতিক গ্যাস অনবায়নযোগ্য শক্তি।
সামিহার দেখা কাপ্তাইয়ের পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনে পানির বিভব শক্তি ব্যবহার করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয়। আমরা জানি, পানির তলের উচ্চতা বৃদ্ধি বা এর গভীরতা বৃদ্ধির ফলে এর মধ্যে অধিক বিভবশক্তি জমা হয়। পার্বত্য এলাকার পাহাড়ের উপত্যকায় নিচের প্রান্তে বাঁধ দেওয়ার ফলে, কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহ বাঁধে বাধা পেয়ে জমা হতে থাকে, এতে বাঁধের পেছনে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়, যেটিকে আমরা কাপ্তাই হ্রদ বলি। হ্রদ পানিতে পূর্ণ হয়ে গেলে, হ্রদ থেকে পানি একটি মোটা নলের ভেতর দিয়ে নিচে অবস্থিত একটি তড়িৎ উৎপাদন কেন্দ্রে প্রবাহিত করা হয়। পানি পতনের সময় এর বিভব শক্তি গতিশক্তিতে 'রূপান্তরিত হয়। এ গতিশক্তি একটি টার্বাইনকে ঘোরায়। টার্বাইন হলো ব্লেডযুক্ত একটি চাকা। টার্বাইনটি একটি তড়িৎ জেনারেটর এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এ জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটিই কাপ্তাইয়ের পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল।
সামিহার গ্রামে উদ্দীপকে ব্যবহৃত শক্তিটি হচ্ছে সৌর শক্তি। নিচে সৌর শক্তির উপযোগিতা আলোচনা করা হলো-
সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি। আমরা জানি, সূর্য সকল শক্তির উৎস। পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। সৌরশক্তি একটি অফুরন্ত শক্তির উৎস। এটি কখনো নিঃশেষ হবে না। এ শক্তি পরিবেশ বান্ধব কারণ এটি বাতাসে CO2 ছড়ায় না। শীত প্রধান দেশে সৌরশক্তিকে ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। শস্য, মাছ, সবজি শুকানোর কাজে সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়। সৌরশক্তি দ্বারা বয়লারে বাষ্প তৈরি করেও তার দ্বারা তড়িৎ উৎপাদনের জন্য টার্বাইন ঘুরানো হয়। আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে সৌরকোষ। সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে তা থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। এছাড়া সৌরকোষের রয়েছে নানা রকমের ব্যবহার। যেমন- কৃত্রিম উপগ্রহে তড়িৎশক্তি নিম্ন ভোল্টেজের হয় বলে এ শক্তি ব্যবহারে বিপদের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কাজ সম্পাদনকারী কোনো ব্যক্তি বা উৎসের কাজ করার হারকে ক্ষমতা বলে।
শক্তি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ শক্তির সব রূপ আমরা সরাসরি ব্যবহার করতে পারি না। এক্ষেত্রে শক্তির রূপান্তর প্রয়োজন। যেমন- আমরা যে খাবার খেয়ে শক্তি পাই তা এক ধরনের শক্তির রূপান্তর। শক্তির রূপান্তর না ঘটলে খাবার খেয়েও আমাদের কোনো উপকার হতো না। অনুরূপভাবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেকটি কাজেই কোনো না কোনোভাবে শক্তির রূপান্তর ঘটে। যেমন- গাড়িতে চলাফেরা, কাপড় ইস্ত্রি করা, টেলিফোনে কথা বলা, সাইকেল চালানো প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে শক্তির রূপান্তর। এ কারণেই শক্তির রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!