"নীলগঞ্জের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে যুদ্ধের নিপুণ বর্ণনাই প্রমাণ করে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক বিস্তার।” '১৯৭১' উপন্যাসের আলোকে মন্তব্যটি বর্ণনা কর।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

"নীলগঞ্জের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে যুদ্ধের নিপুণ বর্ণনাই। প্রমাণ-করে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক বিস্তার।" '১৯৭১' উপন্যাসের বাস্তবতায় আলোচ্য উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ।

'১৯৭১' উপন্যাসে বর্ণিত নীলগঞ্জ দুর্গম এলাকা। নান্দাইল রোড নামক অখ্যাত স্টেশন থেকে চল্লিশ মাইল ভেতরে অরণ্য ঘেরা এ অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই নড়বড়ে। গরুরগাড়িতে করে আসতে হয় ত্রিশ মাইল, বর্ষাকালে সেই উপায়ও থাকে না। জনদুর্ভোগ ও বসবাসের অনুপোযোগী বলে একমাত্র প্রাইমারি স্কুলে হেডমাস্টার ছাড়া কোনো শিক্ষক টিকতে পারে না। অথচ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাসখানেকের মাথায় মে মাসের প্রথম দিনই মিলিটারি প্রবেশ করে গ্রামে। সাধারণের নির্বিকার জীবনকে তছনছ করে ফেলে মুহূর্তে।

পাক হানাদার বাহিনীর একটি ইউনিট গোপন তথ্যের সূত্র ধরে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করে। গোপন সংবাদটি হলো পাকবাহিনীর এই ইউনিটের মেজর এজাজ আহমেদের বন্ধু মেজর বখতিয়ারকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ইউনিট জিম্মি করেছে। মুক্তিবাহিনীর সেই দলটি নীলগঞ্জ গ্রামের পার্শ্ববর্তী মধুবন জঙ্গলে অবস্থান করছে। পাকিস্তানি মিলিটারির মেজর এজাজ নীলগঞ্জ গ্রামের অধিবাসীদের কাছ থেকে নানা কৌশলে মুক্তিবাহিনীর খবর পেতে মরিয়া। তারা প্রথমত নীলগঞ্জ মসজিদের ইমাম সাহেবকে ও হেডমাস্টার আজিজুর রহমান মল্লিককে সন্দেহের বশে তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ধীরে ধীরে তারা কঠোর থেকে কঠোরতর পন্থা অবলম্বন করে।

গ্রামের মাতবর গোছের লোক জয়নাল মিয়ার বক্তব্যে মেজর এজাজের অনুমানকে বিশ্বাসযোগ্য করতে বাধ্য করে। জয়নাল মিয়া মুক্তিবাহিনীর কথা স্বীকার করে। তাদের মধুবন জঙ্গলেই মুক্তিবাহিনী অবস্থান করছে। তাদের সদস্যসংখ্যা একশজন প্রায়। এছাড়াও উপন্যাসের শেষে রফিকের কথাতেও স্পষ্ট হয় যে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুক্তিবাহিনী আছে। নীলগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতাই প্রমাণ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ লাভ করেছিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
190

Related Question

View All
উত্তরঃ

স্কুলঘরে মিলিটারির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে যাওয়ার কারণ মিলিটারি কর্মকর্তার সুনজরে আসা। '১৯৭১' উপন্যাসে পাকবাহিনী ১ মে নীলগঞ্জ গ্রামে হানা দেয়। মিলিটারির ভয়ে গ্রামের মানুষ তটস্থ হয়ে পড়ে। মিলিটারি গ্রামে পৌছার পর প্রাইমারি স্কুলে তাদের ঘাঁটি বানায়। মিলিটারি কর্মকর্তা স্কুলের দপ্তরিকে হেডমাস্টারের কাছ থেকে চাবি আনতে বলে। হেডয়াস্টার আজিজুর রহমান মল্লিককে মেজর এজাজ তলব করেন। গ্রামের সবাই হেডমাস্টারকে অভয় দিলেও সে একা যেতে রাজি হয় না। ভয়ে তার হাঁপানি রোগ বেড়ে যায়। ফলে সবাই মিলে যুক্তি করে দল বেঁধে মিলিটারি ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে যায়। গ্রামবাসী নিজেদের পাকিস্তানের পক্ষে বোঝাতে তারা পাকিস্তানের পতাকা ও তাদের পক্ষে স্লোগান দেয়। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছয়জনের দলটি পাকিস্তানের পতাকা হাতে স্কুলঘরে পাকিস্তানি মিলিটারির সঙ্গে দেখা করতে যায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
152
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews