নীলগঞ্জ ছোট একটি গ্রাম। ময়মনসিংহ-ভৈরব লাইনের একটি স্টেশন 'নান্দাইল রোড'। সেখান থেকে দশ মাইল উত্তরে গেলে বুয়াইল বাজার এলাকার বিখ্যাত বাজার। স্টেশন থেকে রিকশায় যাওয়া যায় কিন্তু বর্ষার সেই জো নেই। বাজার থেকে মাইল ত্রিশেক উত্তরে মধুবন বাজার। সেখান থেকে পূর্ব দিকে সাত-আট মাইল গেলে মধুবনের জঙ্গলা মাঠ। এই মাঠের পেছনেই নীলগঞ্জ গ্রাম। চল্লিশ ঘরের একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ। সেখানকার মাটি উর্বর নয়, ফসল ভালো উৎপাদন হয় না। তবে শীতকালে ভালো সবজির চাষ হয়। গ্রামের মাঝখানে জলাভূমি কাস্তের মতো গ্রামটাকে দু'ভাগ করেছে। নিভৃত গ্রামেই এই উপন্যাসের যুদ্ধের ময়দান।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসে এমন এক সময়ের বর্ণনা উঠে এসেছে, যা পাঠ করে আমরা দেখতে পাই চারদিকে শুধু হতাশার ঘটনা। প্রীতিকর কোনো বিষয় আমরা লক্ষ করতে পারি না। এখানে বর্ণিত হয়েছে যুদ্ধের ঘটনা, মুক্তিযুদ্ধের নয়। বরং কীভাবে এই যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধে পরিণত হয়েছে তা দেখানো হয়েছে।
বর্ণবাদ, আইনের নামে অপব্যবহার, পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রভৃতি দৃশ্য ফুটে উঠেছে উপন্যাসের মাঝে। এ ছাড়াও ধর্ষণ, খুন, লুণ্ঠন তো আছেই। শুরুতেই মসজিদের ইমাম সাহেবকে স্কুলঘরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানোর বর্ণনা। তারপর নীলু সেনকে হত্যা। মনা কৈবর্তকে বিচারের নামে হত্যা, তার ভাইকে বিনা অপরাধে হত্যা করা। সফদারউল্লাহর বোন ও স্ত্রীর সম্ভ্রমহানি করা। কৈবর্তপাড়ায় অগ্নিসংযোগ করা। আজিজ মাস্টারের মতো একজন সাধারণ নিরপরাধ মানুষের সম্মানহানি ও অন্যায়ভাবে হত্যা। এ রকম আরও অনেক ঘটনার বর্ণনাই আমরা পাই উপন্যাসটিতে।
যুদ্ধ সংঘটনের কারণে আসা মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি আবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও যেন এ পরিস্থিতিকে আরও বেদনাতুর করে তুলেছে। ঝড়ে মীর আলির ঘরের চালা উড়ে যায়। সেই রাতেই ঝড়ের সময় সফদারউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকার সম্ভ্রমহানি হয়।
অর্থাৎ চারদিকে শুধু হতাশা ও দুঃখজনক বিষয় ঘটতে দেখা যায়। তাই '১৯৭১' উপন্যাসে সময়কে বারবার খারাপ বলা হয়েছে, যা যথাযথ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!