সর্বভারতীয় কংগ্রেসের জন্ম ১৮৮৫ সালে।
দ্বিজাতি তত্ত্ব' হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কাউন্সিলে সভাপতির ভাষণে মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমি গঠনের লক্ষ্যে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন। তার মতে, হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক রীতি, জীবন পরিচালনা, সাহিত্য, ইতিহাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে দুটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং জাতীয়তার মানদণ্ডে তারা পৃথক দুটি জাতি। তার এই মতবাদটি 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের সাথে মিল রয়েছে।
বক্তাভজা বলতে ১৯০৫ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ২ ভাগে বিভক্ত করাকে বোঝায়। ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলা প্রেসিডেন্সিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রদেশ। এই বিশাল আয়তনবিশিষ্ট জনবহুল বক্তা প্রদেশে একজন প্রশাসকের পক্ষে রাজধানী কলকাতা থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ছিল না। এ জন্য লর্ড কার্জন প্রশাসনিক অসুবিধা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলা প্রেসিডেন্সিকে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম এবং বাংলা প্রদেশ নামে ২টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুনের ইউনিয়নটি আয়তনে অনেক বড় এবং বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত। একজন চেয়ারম্যানের পক্ষে এত বড় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার জনগণও তাদের সুবিধার জন্য উক্ত অঞ্চলকে বিভক্ত করার দাবি তোলে। এরূপ অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ইউনিয়নটিকে দুটি ভাগে বিভক্তকরে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, উদ্দীপকের ঘটনাটি বঙ্গভঙ্গের সাথে মিল রয়েছে। কারণ ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার জন্য বঙ্গভঙ্গ করেছিল এবং পূর্ব বাংলার জনগণ নিজের সুবিধার কথা
বিবেচনা করে উক্ত বিষয়টি মেনে নিয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল মুসলমানদের জন্য ইতিবাচক এবং হিন্দুদের জন্য নেতিবাচক।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ মুসলমান জনগণের মধ্যে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগ্রত করে। মধ্যবিত্ত মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গকে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আশীর্বাদ বলে গণ্য করে। মুসলমানরা তাদের পূর্বমর্যাদা ফিরে পায় এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। মুসলমানদের মধ্যে নতুন জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত করে। মুসলমানরা অধিকারসচেতন হয়ে ওঠে, হিন্দু আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে।
বঙ্গভঙ্গের প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্থান ছিল নেতিবাচক। যদিও নতুন প্রদেশ গঠিত হওয়ায় নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মুসলমানদের অনুকূলে বক্তাভঙ্গের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। কিন্তু মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত ও উচ্চবর্ণের হিন্দু এবং গোড়া হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভজ্ঞাকে মেনে নিতে পারেনি, বরং চরমভাবে এর বিরোধিতা শুরু করে। হিন্দু প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এটিকে বজামাতার অজাচ্ছেদ হিসেবে উল্লেখ করে। কলকাতার আইন ব্যবসায়ীরা তাদের মক্কেল কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করতে থাকেন। সংবাদপত্রের মালিকরা তাদের পত্রিকার প্রচার ও বিক্রয় হ্রাসে চিন্তিত হয়ে পড়েন।
আলোচনা শেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা লাভবান হলেও পশ্চিম বাংলার মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত হিন্দু সম্প্রদায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এর ফলে হিন্দু ও মুসলমানরা একে অপরের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে থাকে।
Related Question
View Allমন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ৩ জন।
বঙ্গভঙ্গ বলতে ১৯০৫ সালে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ২ ভাগে বিভক্ত করাকে বোঝায়।
প্রায় ২ লক্ষ বর্গমাইল আয়তনের বাংলা প্রেসিডেন্সিকে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম এবং বাংলা প্রদেশ নামে ২টি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। ব্রিটিশ ভারতের তদানীন্তন ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন। যা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
উদ্দীপকে প্রণীত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
ভারতবর্ষের জনগণ ব্রিটিশ শাসনের এক পর্যায়ে তাদের শোষণ থেকে মুক্তি পেতে গণআন্দোলন শুরু করে। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের পরস্পর বিরোধী দাবির প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার মহাসমস্যায় পড়ে। ভারতের এই রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা দূর করার লক্ষ্যে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এটি কার্যকর করার লক্ষ্যে ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনি একটি বিল উত্থাপন করেন। এ বিলে ব্রিটিশ ভারতে 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই বিলটি রাজকীয় সম্মতির মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। এটিই ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' নামে খ্যাত।
উদ্দীপকের 'M' রাষ্ট্রের জনগণ ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন যাবৎ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে চলেছে। তাদের গণআন্দোলনে বাধ্য হয়ে শাসকগোষ্ঠী একটি নতুন আইন প্রণয়ন করে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। শাসকগোষ্ঠীর প্রণীত নতুন আইন অনুযায়ী জন্ম হয় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। এ আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইন অর্থাৎ ১৯৪৭সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হয়। এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এ আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে। ফলে পাকিস্তান ও ভারতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দূরীভূত হয়।
দীর্ঘ আন্দোলন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন কর হয়। এজন্য এ আইন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দলিল। উক্ত আইন প্রণয়নের ফলে এ উপমহাদেশে রক্তপাতহীন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ ছাড়াই স্বাধীন দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের কৃষ্টি, সভ্যতা, সাহিত্য ইত্যাদিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন প্রেরণা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দুটি স্বাধীন দেশের জনগণ নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে।
দ্বিজাতি তত্ত্ব' হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের কাউন্সিলে সভাপতির ভাষণে মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমি গঠনের লক্ষ্যে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন। তার মতে, হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক রীতি, জীবন পরিচালনা, সাহিত্য, ইতিহাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে দুটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে। সুতরাং জাতীয়তার মানদণ্ডে তারা পৃথক দুটি জাতি। তার এই মতবাদটি 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!