পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র রচিত হয় ১৯৫৬ সালে।
দেশের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে স্বাধীনতাকামী মনোভাব অভ্যুদয়ের ফলে মুক্তিযুদ্ধ গণযুদ্ধে রূপ নেয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের সাথে সাথেই পাকিস্তান সরকারের সাথে এদেশের মানুষের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ এর নির্বাচন এ দেশের জনগণের মনে স্বাধীনতাকামী চেতনা তৈরি করেছিল। সর্বোপরি পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের দোসরদের অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা এদেশের জনগণকে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক, কবি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তির সংগ্রামে শামিল হয়। আর এভাবেই মুক্তিযুদ্ধ গণযুদ্ধে রূপ নেয়।
উদ্দীপকের আনসার আলী মুক্তিযুদ্ধের অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়মিত বাহিনীও অংশগ্রহণ করেছিল। এসব অনিয়মিত বাহিনী ছাত্র, কৃষক, যুবক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। তারা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যায়। এরপর তারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি • সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ আর হালকা অস্ত্র নিয়ে এরা অসীম সাহসী মনোবল নিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
উদ্দীপকে লক্ষণীয়, নীলুর বাবা আনসার আলী একজন কলেজ শিক্ষক ছিলেন। চারদিকে যুদ্ধের বিভীষিকাময় রূপ ও ঢাকার গণহত্যার দৃশ্য দেখে তিনি বাসার কাউকে না জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে নাম লেখিয়ে বহু অপারেশনে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। আনসার আলীর এই কর্মকাণ্ড ও মুক্তিযুদ্ধে যোগদান উপরে আলোচিত মুক্তিযুদ্ধের অনিয়মিত বাহিনীর অনুরূপ।' তাই বলা যায়, আনসার আলী অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
'আনসার আলীর মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা'- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের আনসার আলী বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতিচ্ছবি।
যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধ গণযুদ্ধে রূপ নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল ছাত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় ছাত্র সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া কিশোরও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে কৃষকদের অবদান ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। যুদ্ধের নয় মাসে কয়েক লক্ষ মা-বোন হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হন। এর বাইরে বিরাট সংখ্যক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, খাবার দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্র, সেবা দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। গণমাধ্যমও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং দুই লাখের অধিক মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন, যা আত্মত্যাগের বিশাল উপমা। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ অস্ত্রশস্ত্র আর্থিক সাহায্য ও লোকবল দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে, যা আত্মত্যাগের উজ্জল দৃষ্টান্ত। উদাহরণস্বরূপ ভারতের কথা বলা যায়। প্রবাসী বাঙালিরাও অর্থ দিয়ে প্রচার করে এ যুদ্ধে ব্যাপক অবদান রাখেন।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আনসার আলীর মতো অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়েই অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
Related Question
View Allমুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর হামলা করে। তারা এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার চরিত্রে দয়া, সরলতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও বাগ্মিতার সন্নিবেশ ঘটেছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বাংলার মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে তিনি নিরীহ বাঙালিদের রক্ষা করেন। বীর বাঙালি তার নেতৃত্বে অস্ত্রধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন দয়া, সরলতা, বাগ্মিতা ও মিষ্টি ব্যবহারের অধিকারী। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন। তার এ বিষয়গুলোর সাথে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডের মিল দেখতে পাই।
উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬৬ সালের ছয়দফাভিত্তিক আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
'শিখা চিরন্তন' ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত।
১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!