'১৯৭১' উপন্যাসে অন্যতম একটি চরিত্র হলো নীলু সেন। কাহিনির পরম্পরায় উপন্যাসে দেখা যায়, নীলু সেন গত রাতে এক পলকের জন্যও ঘুমাতে পারেননি। তিনি দোতলায় তার শোয়ার ঘরের বারান্দায় সারা রাত গড়াগড়ি করেছেন। নীলু সেনের ভাগ্নে বলাই মামার সংকটজনক অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাই রাত দুটোর সময় সে ঠিক করে মামার জন্য ডাক্তার আনতে সরাইল রাজারে যাবে। পথঘাট শুকনা থাকায় সে বদিউজ্জামানের সাইকেল নিয়ে যেতে চায়। অসুখের তাড়নায় নীলু সেন তখন প্রলাপ বকতে শুরু করেন। তার মনে হয়েছে তিনি আর বেশি সময় বাঁচবেন না তাই বুলাইকে পাশে রাখতে চেয়েছেন। নীলু সেন তলপেটের ব্যথায় কাতর হওয়ায় মুখ দিয়ে গাঁজলা বের হতে থাকে। অর্থাৎ প্রবল পেটের ব্যথার কারণে মরণাপন্ন হওয়ায় নীলগঞ্জের নীলু সেন সেই রাতে এক পলকের জন্যও ঘুমাতে পারেননি।
Related Question
View Allহুমায়ূন আহমেদের '১৯৭১' উপন্যাসটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। ময়মনসিংহ জেলার এক দুর্গম গ্রাম নীলগঞ্জ এ উপন্যাসের কেন্দ্রভূমি। মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকের সময়কালকে ধারণ করে এর ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে।
নীলগঞ্জ গ্রামে অতর্কিতে পাকসেনাদের আগমন ও বাঙালিদের উপর নির্যাতন-নিপীড়নের বিষয়গুলো ঐতিহাসিক তথ্যকে উপজীব্য করেছে। পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালিদের উপর নির্যাতনের জন্য রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। এমনকি এদেশীয় কিছু লোক নিজের ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় পাকবাহিনীকে সাহায্য করতে বাধ্য হয়েছে। ঔপন্যাসিক বাঙালিদের উপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ, নারীদের শ্লীলতাহানি প্রভৃতি বিষয় আলোচ্য উপন্যাসে বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেছেন।
পাকস্তানি মিলিটারি অফিসার মেজর এজাজ নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করার পর গ্রামের মসজিদের ইমাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা, গ্রামের মাতবর জয়নাল মিয়াকে জেরা করা এরকম নানা বিষয় উপন্যাসে উঠে এসেছে। সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের উত্তরসূরি নীলু সেনকে নির্মমভাবে হত্যা, হত্যাকাণ্ডের বিচারের ধুয়া তুলে মনা কৈবর্ত ও বিরু কৈবর্তকে হত্যা, সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকার সম্ভ্রমহানি প্রভৃতি বিষয় যেন মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনার প্রতিচ্ছবি। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক বাঙালি মৃত্যুভয়ে পালিয়ে ছিল। যে বিষয়টি বদিউজ্জামানের পালিয়ে থাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাকিস্তানি সেনারা মুসলমানদের হত্যা করে না বলে যে মিথ প্রচলিত ছিল তা সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন ঔপন্যাসিক। ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহের ধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে তিনি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নিজস্ব বয়ান রচনা করেছেন। ইতিহাসের খেরো খাতা থেকে অকপটে তথ্য গ্রহণ করেছেন।
মেজর এজাজ আহমেদের মনস্তত্ব সম্পর্কে আলোচনা ও বিশ্লেষণ, রফিক চরিত্রটিকে রহস্যময় করে নির্মাণ লেখকের কল্পনার ফসল। লেখক তাঁর কল্পনায় মেজরের চরিত্রকে নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন যিনি একই সাথে নিষ্ঠুর ও বুদ্ধিমান। মুক্তিযুদ্ধের সময়টিকে ভিন্ন মাত্রায় পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে। তাই বলা যায়, '১৯৭১' উপন্যাসটি ঐতিহাসিক বাস্তবতার সাথে ঔপন্যাসিকের কল্পনার অনবদ্য মেলবন্ধন। মন্তব্যটি যৌক্তিক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!