দাদুরী ও শিখিনীর রব বর্ষাকালে শোনা যায়। i
বর্ষাকালে মেঘের গর্জন ও অবিরল বৃষ্টির জলে প্রকৃতিতে যে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তা বোঝাতে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ঋতুর রূপবৈচিত্র্যের কথা বলা হয়েছে। বর্ষাকালের আগমনে প্রকৃতি সতেজ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির সময় আকাশে যে মেঘ হয় তার রূপে সেজে ওঠে প্রকৃতি। বৃষ্টির পূর্বমূর্ত্ততে ঘন ঘন মেঘের গর্জনে মুখরিত হয় প্রকৃতি। ঝরতে থাকে অবিরল বৃষ্টি ধারা। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয় জলাশয়গুলো। থই থই পানিতে মনোরম এক পরিবেশ তৈরি হয় বর্ষাকালে। বৃষ্টি আপন মনে ঝরতে থাকে। সে যেন কোনো কিছুকেই ভয় পায় না, আপন বর্ষণের ধারায় প্রকৃতিকে ভরপুর করে দেয়। তাই কবি বর্ষাকালে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে আলোচ্য উক্তিটি করেন
উদ্দীপকের কবিতাংশে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষাকালের সৌন্দর্যের দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি বর্ষাকালের যে অপরূপ সৌন্দর্য তা বর্ণনা করেন। বর্ষার মেঘের গর্জন প্রকৃতিতে কোলাহল সৃষ্টি করে। বর্ষার মেঘ - প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলে। মেঘ প্রকৃতিতে স্নিগ্ধ, শান্ত ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করে। মেঘের ঘন গর্জন বৃষ্টিকে প্রকৃতিতে আগমন জানায়। অবিরল ধারায় ঝরতে থাকে বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় নদী-খাল-পুকুর। চারদিকে পানি থই থই করতে থাকে। নির্ভয়ে বৃষ্টি প্রকৃতিকে ঐশ্বর্যময় করে তোলার প্রয়াস পায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে আষাঢ় মাসের সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে। বৃষ্টির অবিরল জলধারায় আউশ ধানের খেত ভরে যায়। মেঘ কিছু সময়ের জন্য প্রকৃতিকে অন্ধকার করে তোলে। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয়েছে নদ-নদী। নদীর জলরাশি ও মেঘের গর্জন উদ্দীপকের 'কবিতাংশে দেখা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষাকালের মনোরম বর্ণনার দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে কেবল বর্ষাকালের দিকটি ফুটে উঠেছে কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর পরিবর্তন এবং সেই সাথে মানবমনের উপর ঋতুর প্রভাব বর্ণিত হওয়ায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করেনি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ঋতু পরিবর্তনের অপরূপ বর্ণনা তুলে ধরেছেন। কবি ঋতু বর্ণনায় প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সাথে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। কবি প্রত্যেক ঋতুকে তার আপন সৌন্দর্য দ্বারা সাজিয়ে তুলেছেন। তিনি বসন্তের নবীন পুষ্প, মলয়া সমীর, ভ্রমরের গুঞ্জন ও কোকিলের মনোমুগ্ধকর গানের বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়া কবিতায় গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ ও ছায়ার গুরুত্ব প্রকাশ করেছেন। বর্ষার মেঘ গর্জন ও অবিরল বৃষ্টিজলে স্নাত প্রকৃতি এবং শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুলের সুখ এবং শীতের প্রকৃতির যে পরিবর্তন তার প্রাণোচ্ছল বর্ণনা দিয়েছেন কবি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কবিতাংশটিতে বর্ষাকালের মনোরম সৌন্দর্য ও মানবমনের কথা বলা হয়েছে। আষাঢ়ে বৃষ্টিতে পরিপূর্ণ আউশের ধানের খেত, পরিপূর্ণ নদ-নদী উদ্দীপকের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে। বর্ণনায় মেঘের ঘন গর্জনে মুখরিত হয়েছে আকাশ। তার সাথে আছে স্নিগ্ধ-শীতল হাওয়া বয়ে যাওয়া প্রকৃতি। নদ-নদী জলে পরিপূর্ণ। তাই মাঝিরা ভয়ে পারাপার বন্ধ করে দেয়। বৃষ্টি তার আপন ধারায় ঝরে মানবমনে ভয়ের সৃষ্টি করে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও বর্ষা ঋতুর প্রায় একই ধরনের বর্ণনা লক্ষ করা যায়।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি বাংলায় ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মনের যে পরিপূর্ণতা আসে তা প্রকাশ করেছেন। ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে প্রকৃতিতেও যে প্রভাব পড়ে কবি তা শৈল্পিকভাবে প্রকাশ করেছেন, যা উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় না। উদ্দীপকে শুধু বর্ষাকালের সৌন্দর্য ও মানুষের মনোভাবের কথা প্রকাশিত হয়েছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় সব ঋতুর বর্ণনা করা হয়েছে, প্রকৃতির সাথে মানবমনের যে সম্পর্ক রয়েছে তা প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বর্ষাকালের রূপটি প্রকাশিত হয়েছে যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্রভাব প্রকাশ করে না।
Related Question
View Allমল্লার হলো সংগীতের একটি রাগ; রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।
রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণে' বলতে গ্রীষ্মে সূর্যের প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূর্যের প্রচণ্ড তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচণ্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্যের কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে বসন্তের সৌন্দর্যের কথা বর্ণিত হয়েছে যা 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে চারিদিক ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। দখিনা বাতাস প্রেমের দেবতার বার্তাবাহক হয়ে হাজির হয়। চারপাশের গাছপালায় নতুন পাতা এবং ফুলের সমারোহ থাকে। ফলে বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগের সাড়া পড়ে যায়।
উদ্দীপকে বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। এই সময় জোছনা রাতে সবাই বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। বসন্তের মাতাল সমীরণ সবাইকে সৌন্দর্য উপভোগের বার্তা দিয়ে গিয়েছে। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও আমরা দেখতে পাই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গো 'ঋতু বর্ণন' কবিতার বসন্ত ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।
ঋতু বর্ণন' কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্যের কথা বলা হলেও উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর কথা বর্ণিত হয়েছে বিধায় উদ্দীপকটি কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য এবং এর সঙ্গে মানবমন্ত্রে সম্পর্কের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তে নবীন পত্র-পুষ্প, 'গ্রীষ্মের সূর্যতাপ, বর্ষার অবিরল জলধারা, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুল, শীতের দীঘল রজনি যে পরিবর্তন সাধন করে তা কবি তাঁর কবিতায় সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির এই রূপমাধুরী মানুষের মনেও প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির মতোই মানুষের মনও একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে।
উদ্দীপকে বসন্তের মাতাল সমীরণের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে জোছনা রাতে সবাই বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। কেননা বসন্তের বন ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। এই শোভা উপভোগ করার আনন্দ সবাই পেতে চায়। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য তুলে ধরার জন্যই উদ্দীপকটির অবতারণা করা হয়েছে। 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও বসন্ত ঋতুর প্রায় একইরকম বর্ণনা ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বসন্তের রূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্তের রূপ ছাড়াও বাংলার সব ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কবিতায় গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর রূপমাধুরী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ঋতুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর সৌন্দর্য ব্যতীত অন্যান্য দিক অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি ঝতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।
'কিংশুক' শব্দের অর্থ পলাশ ফুল বা বৃক্ষ।
'নানা পুষ্প মালা গলে বড় হরষিত'- বলতে বসন্ত ঋতুতে নিজেকে সাজিয়ে আনন্দিত হওয়ার দিককে বোঝানো হয়েছে।
'ঋতু বর্ণন' কবিতায় বসন্ত প্রকৃতির নতুন সাজে সেজে ওঠার কথা বলা হয়েছে। বসন্তে নানা রকম ফুল ফোটে। প্রকৃতি তখন রঙিন রূপ ধারণ করে। বসন্তকে বরণ করতে এবং প্রকৃতির সাথে নিজেদের সংযুক্ত করতে সবাই নানা রকম সাজে নিজেকে সজ্জিত করে। ফুলের মালা গলায় পরে তারা আনন্দ, উল্লাস করে। এ দিক বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!