ই-সেবার উদ্দেশ্য হলো নাগরিক জীবনে প্রয়োজন এমন বিভিন্ন সেবা স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে ও হয়রানিমুক্তভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে জনগণের কল্যাণের জন্য নানা - ধরনের সেবা রয়েছে; যেমন- যাতায়াত, টিকেট কাটা, কথা বলা, জমির দলিলের কপি তৈরি করা প্রভৃতি। এসব সেবা ডিজিটাল বা electronic পদ্ধতিতে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গৃহীত পদ্ধতিই হলো ই-সেবা। ই-সেবার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প খরচ, স্বল্প সময় ও ঝামেলাহীন সেবা নিশ্চিত করা। ই-পর্চা, টেলিমেডিসিন, পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল সংস্করণ, অনলাইন আয়কর হিসাব করার ক্যালকুলেটর প্রভৃতি ই-সেবার অন্তর্ভুক্ত।
সরকারি এবং বেসরকারি অনেক সেবামূলক সংস্থা সার্বক্ষণিকভাবে অথবা সময়ে সময়ে দেশের জনগণকে বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে। বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটে এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার
করে এসব সেবাসমূহ স্বল্প সময়, অল্প খরচ ও ঝামেলাহীনভাবে পৌঁছে। দেওয়াই ই-সেবা। ই-সেবার একটি সেবার নাম ই-পূর্জি। এটি দেশের প্রথমদিককার ই-সেবার একটি। পূর্জি হলো- চিনিকলসমূহে কখন আখ সরবরাহ করতে হবে সেজন্য আখচাষীদের দেওয়া একটি অনুমতিপত্র। নুরুল মিয়া একজন আখচাষী। সে মিটিং-এ ই-পূর্জি সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারল। এ অনুমতিপত্র পেলে সে পূর্জি সম্পর্কিত নানা তথ্য প্রয়োজনমতো মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে জানতে পারবে। ইলেকট্রনিক উপায়ে এ সেবা পাওয়া যাবে বলে তাকে বেশি দূরে শহরে যেতে হবে। আখচাষে নানা বিড়ম্বনা ও হয়রানির অবসান হবে। পাশাপাশি আখের সরবরাহ সময়মতো নিশ্চিত হওয়ার কারণে চিনিকলের উৎপাদনও বেড়ে যাবে। চাষীরা আখচাষে ভুল তথ্যের জন্য ক্ষতিগ্রস্তও হবে না। নুরুল মিয়ার জীবনে ই-সার্ভিস তার কর্মস্থলের ক্ষেত্রে এক নতুন পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
নুরুল মিয়া মিটিং-এ যে বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারল তা হলো- ১. ই-সেবা, ২. ই-পূর্জি।
১. ই-সেবা: সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের সেবা
চালু আছে যা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক উপায়ে বা প্রযুক্তির ব্যবহার করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ই-সেবা বা ই-সার্ভিস। ই-সেবা হলো ইলেকট্রনিক সেবা। এ পদ্ধতিতে সেবাগ্রহীতা ঘরে বসে মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই এ সেবা গ্রহণ করতে পারেন। অনলাইন বা মোবাইলে টিকেট কাটা, ইলেকট্রনিক উপায়ে বা অনলাইনে পরিসেবাসমূহের বিল পরিশোধ করা, ইলেকট্রনিক উপায়ে মানি ট্রান্সফার করা, টেলিফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে জমির কপি সংগ্রহ করা প্রভৃতি এ ই-সেবার অন্তর্ভুক্ত যা তৈরি করা হয়েছে জনগণের কাছে সেবা দ্রুত, স্বল্প খরচে এবং ঝামেলাহীনভাবে পৌঁছে দিতে।
২.
ই-পূর্জি: ই-পূর্জি দেশের প্রথমদিককার ই-সেবাসমূহের একটি।
দেশের ১৫টি চিনিকলের সকল আখচাষী এখন SMS এর মাধ্যমে পূর্জি তথ্য পাচ্ছে। পূর্জি হলো চিনিকলসমূহে কখন আখ সরবরাহ করতে হবে সে জন্য আওতাধীন আখচাষীদের দেওয়া একটি অনুমতিপত্র এসএমএস-এর মাধ্যমে আখচাষীরা তাৎক্ষণিকভাবে পূর্জির তথ্য পাচ্ছে বলে এখন চাষীদের হয়রানি ও বিড়ম্বনার অবসান হয়েছে। পাশাপাশি সময়মতো আখের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় চিনিকলের উৎপাদনও বেড়েছে।
Related Question
View AllE-learning এর পূর্ণরূপ হলো- Electronic Learning.
E-learning প্রযুক্তির দুটি ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো-
১. মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন বিজ্ঞানের এক্সপেরিমেন্ট করানো।
২. ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ের উপর কোর্স করা ও পরীক্ষা দেওয়া এবং অনলাইন সার্টিফিকেট গ্রহণ করা।
মোস্তাফিজুর রহমান তার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ান সনাতন পদ্ধতিতে আর সরোয়ার সাহেব ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ান মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে। তাদের দু'জনের পাঠদান প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। নিচে মোস্তাফিজুর রহমান ও সরোয়ার সাহেবের পাঠদান পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো-
সনাতন পদ্ধতি | মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতি |
১. এটি একটি সাধারণ পাঠদান প্রক্রিয়া। | ১. এটি একটি ই-লার্নিং পদ্ধতি। |
২. এটি interactive হতে পারে না এবং এতে হাতে-কলমে এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ কম থাকে | ২.এটি intreractive হতে পারে এবং এতে ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে কলমে এক্সপেরিমেন্ট করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে |
৩. এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের গণ্ডির ভিতর স্বল্প মাধ্যম ব্যবহারে পাঠদান করানো হয়। | ৩. এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে সচল, সজীব ও আকর্ষণীয় ভুবন তৈরি করা যায়। |
৪. এটি একটি পুরাতন পদ্ধতি। | ৪. এটি একটি আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতি। |
মোঃ শিবলী সরোয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক পদ্ধতি মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতি ব্যবহারে পাঠদান করান। মাল্টিমিডিয়া মানে বহুমাধ্যম। শব্দ, বর্ণ, চিত্রের সমন্বয়ে গঠিত হয় মাল্টিমিডিয়া। এর মাধ্যমে সচল, সজীব ও চলমান চিত্র তৈরি করা যায়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাধ্যমের সূচনা করেছে যা পূর্বের মাধ্যম থেকে অনেক শক্তিশালী ও কার্যকর।
মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার তেমন একটি পদ্ধতি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষাদান অনেক সহজ ও সময়-অর্থ সাশ্রয়ী। সরোয়ার সাহেবের শিক্ষাদান পদ্ধতি প্রযুক্তিনির্ভর। তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে-কলমে এক্সপেরিমেন্ট করান। কম্পিউটার স্লাইড বা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহারে একাধিক নিখুঁত বোধগম্য' ছবি ব্যবহার করে শিক্ষাদান করেন। সরোয়ার সাহেবের ক্লাসরুম হলো মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। ফলে তিনি ছবি, অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার বিষয়বস্তুকে অধিক আকর্ষণীয়, সহজবোধ্য ও জ্ঞাননির্ভর করে উপস্থাপন করতে পারেন। তিনি বিভিন্ন ডিজিটাল কন্টেন্ট ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীদের পড়ান। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের লেকচার কপি প্রদান করেন কিংবা অনলাইনে দিয়ে থাকেন। যার ফলে তারা সম্পূর্ণ মনোেযাগ দিয়ে পড়া বুঝতে পারে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইন থেকে বই নামানোর পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। এ কারণেই সরোয়ার সাহেবের ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীরা বেশি আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্র এখন অনেক বিস্তৃত।
ই-সেবার উদ্দেশ্য হলো নাগরিক জীবনে প্রয়োজন এমন বিভিন্ন সেবা স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে ও হয়রানিমুক্তভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে জনগণের কল্যাণের জন্য নানা - ধরনের সেবা রয়েছে; যেমন- যাতায়াত, টিকেট কাটা, কথা বলা, জমির দলিলের কপি তৈরি করা প্রভৃতি। এসব সেবা ডিজিটাল বা electronic পদ্ধতিতে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গৃহীত পদ্ধতিই হলো ই-সেবা। ই-সেবার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প খরচ, স্বল্প সময় ও ঝামেলাহীন সেবা নিশ্চিত করা। ই-পর্চা, টেলিমেডিসিন, পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল সংস্করণ, অনলাইন আয়কর হিসাব করার ক্যালকুলেটর প্রভৃতি ই-সেবার অন্তর্ভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!