নৃগোষ্ঠীর নাম ও জীবনধারার কিছু বৈশিষ্ট্য:

'ক'

'খ'

'গ'

বেশিরভাগ মানুষ স্টার সানডে পালন করে।পানি দিয়ে বিশেষ একটি উৎসব পালন করে।ছেলেমেয়ে উভয়ের হাতে ও গলায় গহনা দেখা যায়।

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত সমাজকে 'আদাম' বা 'পাড়া' বলে।

উত্তরঃ

চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, তাই তাদের অধিকাংশ গ্রামে কিয়াং বা বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিনকে ভক্তি সহকারে পালন করে। তারা গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু ও বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির দিনটি সাড়ম্বরে পালন করে।

উত্তরঃ

ছকে 'ক' দ্বারা গারো নৃ-গোষ্ঠীর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। স্টার সানডে হলো খ্রিষ্টান ধর্মীয় উৎসব। যা আমরা বড় দিন হিসেবে জানি। বর্তমানে গারোদের অধিকাংশ লোক খ্রিষ্টধর্মালম্বী। পূর্বে তাদের ধর্মের নাম ছিল 'সাংসারেক'। সেই ধর্ম অনুসারে তারা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করত। তখন তাদের প্রধান দেবতার নাম ছিল 'তাতারা রাবুগা'। গারোরা সালজং, সুসিমে, গোয়েরা, মেন প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করত। নাচ-গান ও পশু বলিদানের মাধ্যমে তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করত। এখন তারা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী হওয়ায় বড়দিনসহ খ্রিষ্টধর্মীয় উৎসব পালন করে।

সুতরাং বলা যায় প্রদত্ত ছকে 'ক'-এ উল্লিয়িত বৈশিষ্ট্য দ্বারা গারো নৃগোষ্ঠীর ইঙ্গিত সুস্পষ্ট।

উত্তরঃ

হ্যাঁ, ছকে 'খ' দ্বারা মারমা এবং 'গ' দ্বারা সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জীবন নির্দেশ করা হয়েছে। তাদের সাংস্কৃতিক জীবনে ভিন্নতা রয়েছে।

আবাসস্থান অনুসারে মারমাদের ঘরবাড়ি বাঁশ, কাঠ ও ছনের তৈরি যা কয়েকটি খুঁটির ওপর মাটি থেকে ৬-৭ ফুট উপরে নির্মিত হয়। অন্যদিকে সাঁওতালরা মাটির ঘরে বাস করে। তাদের বাড়ির দেয়াল মাটির তৈরি এবং তাতে খড়ের ছাউনি থাকে। পোশাকের মধ্যেও তাদের ভিন্নতা রয়েছে। মারমা পুরুষেরা মাথায় 'গবং', গায়ে জামা ও লুঙ্গি পরে। মহিলারা গায়ে 'আঞ্জি' নামক ব্লাউজ পরে। এছাড়াও তারা 'থামি' পরে। আর সাঁওতাল পুরুষরা তাদের মতো লুঙ্গি পরলেও মেয়েরা 'শাড়ি পরে। সাঁওতালরা বেশ অলঙ্কারপ্রিয়। ছেলেমেয়ে উভয়ের হাতে ও গলায় গহনা দেখা যায়। উৎসবের দিক দিয়ে তাদের মধ্য বৈচিত্র্য আছে। মারমারা নববর্ষ উদযাপন করে। তার নাম । সাংগ্রাই। এ সময় তারা পানি নিয়ে 'জলোৎসবে' মেতে উঠে। অন্যদিকে সাঁওতালদের নিজস্ব উৎসবাদির মধ্যে 'সোহরাই' এবং 'বাহা' উল্লেখযোগ্য। তাদের 'ঝুমুর নাচ' সারা বাংলাদেশে প্রসিদ্ধ। বিবাহ অনুষ্ঠানে তারা 'দোন' ও 'ঝিকা', নাচের আয়োজন করে থাকে। তবে খাদ্যের বিচারে তারা উভয় নৃগোষ্ঠী ভাত, মাছ, মাংস খায়। সুতরাং বলা যায়, মারমা ও সাঁওতাল নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক চর্চার ভিন্নতা রয়েছে।

121

বাংলাদেশে বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী বাঙালিদের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন : চাকমা, গারো, সাঁওতাল, মারমা ও রাখাইনদের ভৌগোলিক অবস্থান, জীবনধারা, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানব। 

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা- 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানব এবং মানচিত্রে শনাক্ত করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাথে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ব্যাখ্যা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ব্যাখ্যা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

290
উত্তরঃ

সমতলভূমিতে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি ও মালো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এরা দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া এবং পাবনা জেলার সমতলভূমিতে বাস করে। এদের মধ্যে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী সংখ্যা ও প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি।

123
উত্তরঃ

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি, মণিপুরি, গারো, হাজং এবং কোচ নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ও উঁচু ভূমিতে তারা নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। তারা লোকগীতি, নৃত্য এবং ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির পরিচয় প্রকাশ করে।

145
উত্তরঃ

রাখাইন নৃগোষ্ঠীর প্রধান বসতি কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়। তারা মূলত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে। রাখাইনরা কৃষি, নৌকা নির্মাণ এবং মৎস্যশিকার পেশায় দক্ষ।

129
উত্তরঃ

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গারো, হাজং, কোচ, খাসি এবং মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো কৃষিকাজ ও নৃত্য-গীতের জন্য পরিচিত।

211
উত্তরঃ

পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই নৃগোষ্ঠীগুলো পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করলেও কৃষি ও পশুপালন তাদের প্রধান পেশা।

139
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews