নেতার আদেশ অমান্য করাই উত্ত যুদ্ধে অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
যেকোনো যুদ্ধে বা কাজে নেতা হলেন অনুসরণীয় আদর্শ। তিনি হলেন পরিচালক। তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক নির্দেশ যে কোনো কাজে সফলতা বা যুদ্ধে জয়লাভে সহায়তা করে। নেতার আদেশ অমান্য করে কোনো কালেই কোনো শক্তি জয়লাভ করতে পারেনি। এমন পরাজয়ের দৃষ্টান্তই উদ্দীপকে বর্ণিত ইসলামপুর এবং উহুদ যুদ্ধের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলা এবং নেতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য কমলাপুর গ্রামের মানুষ ইসলামপুর গ্রাম আক্রমণ করে। এ আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ইসলামপুর গ্রামের চেয়ারম্যান ইবনে আবদুল্লাহ ৫০ জন তীরন্দাজকে নির্দিষ্ট স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ অমান্য করার কারণে ইসলামপুরের পরাজয় ঘটে। উহুদ যুদ্ধেও একই কারণে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছিল। এ যুদ্ধে হযরত মুহাম্মদ (স) আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজ সৈন্যকে উদ্বুদ ও আইনাইন পর্বতের মাঝামাঝি সংকীর্ণ গিরিপথে নিয়োজিত করেন। যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ সৈন্যদের এখানে অবস্থান করতে বলেন। কিন্তু সৈন্যরা মহানবি (স)-এর আদেশ অমান্য করে গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ; যেমন- অশ্ব, উট, অস্ত্রশস্ত্র প্রভৃতি) মাল সংগ্রহের জন্য গিরিপথ থেকে সরে গেলে কুরাইশরা খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে এ পথ দিয়ে আক্রমণ করে মুসলমানদের পরাজিত করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্বুদ যুদ্ধের নেতা মুহাম্মদ (স) দূরদৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। তিনি যুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গিরিপথ থেকে সৈন্যদের না সরার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ না মানার কারণেই মুসলমানরা পরাজয়ের গ্লানি বরণ করে।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!