রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগ অগণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিপরায়ণ শাসন কায়েম করে। মুসলিম লীগ হয়ে পড়ে গণবিচ্ছিন্ন দল। এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজাম-ই- ইসলামী, গণতন্ত্রী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনকে সামনে রেখে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। আওয়ামী লীগসহ চারটি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্মৃতিস্তম্ভটি হলো ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, যেটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছিল।
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির অধিকার হরণের চেষ্টায় লিপ্ত হয়। এরই অংশ হিসেবে তারা প্রথমে আঘাত হানে বাঙালির মাতৃভাষার ওপর। পুরো পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৩.২৭% মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয় শাসকগোষ্ঠী। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র শিক্ষক বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের বাঙালিরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। সারা দেশব্যাপী মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ গুলি চালালে পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদদের নিহত হওয়ার স্থানে ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ বা শহিদ মিনার নির্মাণ করে। কিন্তু পুলিশ শহিদ মিনারটি ভেঙে দেয়। ১৯৬৩ সালে আবার নতুন করে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী সেই শহিদ মিনারটিও ভেঙে দেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বর্তমান শহিদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। এই শহিদ মিনার বাঙালি জাতিকে মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকের নেপালি রিদিতা শর্মা চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়। সে কলেজের সামনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে পায়। বাংলাদেশি বন্ধুদের কাছ থেকে রিদিতা জানতে পারলো স্তম্ভটি একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের সাথে স্মৃতি বিজড়িত। রিদিতার দেখা এই স্তম্ভটি উপরে বর্ণিত শহিদ মিনারকে নির্দেশ করে। যেটি নির্মাণের পিছনে ছিল ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের পটভূমি।
উদ্দীপকের স্মৃতিস্তম্ভটি হচ্ছে শহিদ মিনার। এর সাথে সম্পর্কিত আন্দোলনটি হলো ভাষা আন্দোলন, যেটি বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। এ আন্দোলন ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির চেতনার মর্মমূলে আঘাত করে এবং ধীরে ধীরে তারা স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি অবাঙালি শাসকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবহেলা, বঞ্চনা ও শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল, পাকিস্তানের হাতে তাদের ভাষা তথা সংস্কৃতি নিরাপদ নয়। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার বিষয়টি বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
বস্তুত ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের আন্দোলন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সূত্রপাত করে। ভাষা আন্দোলনের সাফল্যই ষাটের দশকের স্বাধিকার আদায়ের রাজনৈতিক আন্দোলনে প্রেরণা যোগায়। আর স্বায়ত্তশাসনের দাবির পথ ধরে আসে স্বাধীনতার দাবি। তারই ফলে বীর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য উজ্জীবিত হয়েছিল।
Related Question
View Allআওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী।
মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারপন্থীরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ে তোলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম লীগের এক অংশ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সংস্কারপন্থি ছিল তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অপর অংশ নানাভাবে দমন-নিপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারবাদীরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ইত্যাদি দাবি নিয়ে গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ।
উদ্দীপকে সবুজনগর অঞ্চলে ছোট দলগুলো স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলামী মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর। তারা জনগণের অশা- আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের শিক্ষারই প্রতিফলন।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের মাধ্যমে "ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না" এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্ত সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
মুসলিম লীগ ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল হয়েও ১৯৫৪ 'সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়। তাই বলা যায়, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না, এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের দ্বারা প্রমাণিত হয়।
১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের জাল হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!