শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
মধ্যযুগে বাংলার কৃষিব্যবস্থা ছিল প্রকৃতি নির্ভর।
বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল উৎস ছিল কৃষি। এখানে কৃষি ফলনের প্রাচুর্য থাকলেও এ সময়ের চাষাবাদ পদ্ধতি ছিল অনুন্নত। আধুনিক সময়ের মতো পানি সেচ ব্যবস্থা সে যুগে ছিল না। ফলে কৃষককে অধিকাংশ সময়েই সেচের জন্য বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। ফলে উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এ সময় উৎপন্ন ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ধান, গম, তুলা, ইক্ষু, পাট, আদা, তিল, শিম, রসুন, হলুদ, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লেখিত অনুষ্ঠানগুলোর সাথে মধ্যযুগের রীতিনীতির মিল রয়েছে।
মধ্যযুগের মুসলমানরা কতগুলো সামাজিক উৎসব পালন করত। এগুলো এখনও মুসলমানরা পালন করে। যেমন- নবজাত শিশুর নামকরণকে কেন্দ্র করে 'আকিকা' নামক বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এছাড়া 'খতনা' অনুষ্ঠান মুসলমান সমাজের অতি পরিচিত সামাজিক উৎসব। বিয়েও তাদের একটি বিশেষ উৎসবমুখর অনুষ্ঠান। এছাড়া তারা মৃতদেহ সৎকার এবং মৃতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে কতগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি পালন করে। মধ্যযুগে মুসলমানদের মতো হিন্দুরাও জন্ম, বিয়ে ও মৃত্যু উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক রীতিনীতি পালন করত। সন্তান জন্মের পর তাকে গঙ্গাজল দিয়ে ধৌত করা হতো। ষষ্ঠ দিনে ষষ্ঠী পূজার আয়োজন করা হতো। ব্রাহ্মণ শিশুর কোষ্ঠী গণনা করতেন। একমাস পর বালক উত্থান পর্ব পালন করা হতো। ছয় মাসের সময় করা হতো অন্নপ্রাশনের ব্যবস্থা। মুসলমান সমাজের মতো হিন্দু সমাজেও বিয়ে ছিল একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক অনুষ্ঠান।
উদ্দীপকের মদন থাপা তার মুসলিম সহপাঠীদের সাথে আকিকা, খতনা, বিয়ে ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যায়। আবার সে হিন্দু সহপাঠীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করে। মদন থাপার উপভোগ করা এই অনুষ্ঠানগুলে মধ্যযুগের আচার-অনুষ্ঠান ও রীতিনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুষ্ঠানগুলোর সাথে মধ্যযুগের রীতিনীতির মিল রয়েছে।
উক্ত আমলে তথা মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতি সমৃদ্ধ ছিল। কেননা, এ যুগে অর্থনৈতিকভাবে বাংলা ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ।
নদীমাতৃক বাংলার ভূমি চিরদিনই প্রকৃতির অকৃপণ আশীর্বাদে পরিপুষ্ট। এখানকার কৃষিভূমি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় আবহমানকাল থেকেই বৃষি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এ দেশের অধিবাসীদের বৃহত্তর অংশ ছিল কৃষক। বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। এখানে প্রচুর পরিমাণে কৃষিপণ্য যেমন: ধান, গম, পাট তুলা, ইক্ষু, পেঁয়াজ, রসুন জন্মাতো। ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা হতো। বস্তুত অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভূমির উর্বরতা ও ফলনের প্রাচুর্যের জন্য কৃষিকে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল উৎস বলা হয়।
বাংলার কৃষি ও শিল্প পণ্যের প্রাচুর্য এবং বিদেশে এগুলোর ব্যাপক চাহিদার ফলে বিদেশের সাথে বাংলার বাণিজ্যিক তৎপরতা মুসলমান শাসন আমলে অভূতপূর্ব প্রসার লাভ করেছিল। বাংলার বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সুতি কাপড়, মসলিন, রেশমি বস্তু, চিনি, গুড়, আদা ইত্যাদি। বিবিধ কৃষি ও শিল্পজাত দ্রব্য ছাড়াও বাংলা থেকে লবণ, গালা, আফিম, নানা প্রকার মসলা, ঔষধ ইত্যাদি ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। ব্যবসা-বাণিজ্যের সিংহভাগই ছিল রপ্তানি নির্ভর।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, মধ্যযুগে বাংলা ছিল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ।
Related Question
View Allকবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন।
বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। বাংলার কৃষিভূমি অস্বাভাবিক উর্বর হওয়ায় এখানে ধান, গম, পাট, আদা, পিঁয়াজ, তেল, সরিষা, পান, সুপারি, রেশম, ডাল, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। ফলে উদ্বৃত্ত বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এর ফলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল।
রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বাংলার সুলতানি আমলের মিল রয়েছে।
সুলতানি আমলে বাংলার অভিজাতরা ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল মাছ, মাংস, শাক, সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের খাদ্য তালিকায় আচারের নামও পাওয়া যায়। এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয়। খাদ্য হিসেবে রুটির কথাও পাওয়া যায়। খিচুড়ি ছিল তখনকার সমাজের প্রধান খাদ্য।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রেজা সাহেব গত সপ্তাহে তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিষ্টির আয়োজন করেন। এ খাবারগুলোর সাথে বাংলার সুলতানি আমলের খাওয়া-দাওয়ার মিল বিদ্যমান।
রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা সুলতানি আমলের চেয়ে সমৃদ্ধ ছিল না বলে আমি মনে করি।
সুলতানি আমলে বাংলায় অনেক কৃষিপণ্য উৎপন্ন হতো। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ধান, গম, পাট, রেশম, হলুদ, শশা, পিঁয়াজ, তুলা, আদা, জোয়ার, তিল, পান, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি। ফলে উদ্বৃত্ত দ্রব্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়াও বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানকার নির্মিত বস্ত্রগুলো গুণ ও মানের বিচারে যথেষ্ট উন্নত ছিল বিধায় বিদেশে এগুলোর প্রচুর চাহিদা ছিল। এদেশের মসলিন কাপড়ের প্রচুর চাহিদা ছিল ইউরোপের বাজারে।
এছাড়া সুলতানি আমলে বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সুতি কাপড়, রেশমি বস্ত্র, চিনি, গুড়, আদা, লঙ্কা, লবণ, নানা প্রকার মসলা, আফিম, ঔষধ ইত্যাদি। বাংলায় আমদানি করা হতো স্বর্ণ, রৌপ্য ও মূল্যবান পাথর। ফলে রপ্তানি বেশি হওয়ার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য বজায় ছিল সুলতানি আমলে।
উদ্দীপকের রেজা সাহেবের আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের পরিমাণ খুবই স্বল্প। তাই একথা বলা যায় যে, রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থার চেয়ে সুলতানি আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সমৃদ্ধ ছিল।
সুবাদার শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
বাংলার বহু স্থানে আজও মুঘল শাসকদের শিল্প প্রীতির নিদর্শন রয়েছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু সংখ্যক মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। ফলে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য মধ্য যুগকে মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!