উদ্ভিদের জীবনচক্রে যে পুষ্টি উপাদানগুলো অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে গৌণ উপাদান বলে।
পটাসিয়ামের দুটি অভাবজনিত লক্ষণ হলো-
i. পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ে।
ii. সালোকসংশ্লেষণের হার হ্রাস পায়।
নোবেল তার বাড়ি সংলগ্ন দুটি পুকুরে ভিন্ন জাতের মাছের চাষ করে।
১ম পুকুরে চিংড়ি চাষ করে। নিচে প্রথম পুকুরের চিংড়ির জন্য ১ কেজি
খাদ্যের তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
উপাদান | পরিমাণ |
চালের কুঁড়া বা গমের ভুসি | ৫০০ গ্রাম |
সরিষার খৈল | ১৫০ গ্রাম |
শুঁটকির গুঁড়া/ফিশমিল | ২৫০ গ্রাম |
শামুক-ঝিনুকের খোলসের গুঁড়া | ৯৫ গ্রাম |
লবণ | ৩ গ্রাম |
ভিটামিন মিশ্রণ | ২ গ্রাম |
মোট | ১০০০ গ্রাম বা ১ কেজি |
অর্থাৎ, খাদ্য উপাদানগুলো উল্লেখিত পরিমাণে মিশিয়ে নোবেল তার পুকুরের চিংড়ি মাছের জন্য ১ কেজি খাদ্য তৈরি করবে।
মৎস্য কর্মকর্তা নোবেলকে মাছের ভালো উৎপাদনের জন্য সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগের পরামর্শ দেন।
প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য বাইরে থেকে যে অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
মাছ চাষের ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরে অধিক সংখ্যক পোনা ছাড়া হয়। এ অবস্থায় শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে পারেনা। এমনকি সার প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করলেও তা মাছের জন্য যথেষ্ট হয় না। মাছকে নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করলে অধিক ঘনত্বের মাছ চাষ করা যায়, মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া মাছের দৈহিক গঠন সুন্দর হয় ও বাজারে বিক্রি করে অধিক মুনাফা লাভ করা যায়।
অতএব বলা যায়, মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ ছিল।
Related Question
View Allউদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলতে বোঝায় যে উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না এবং যথাযথভাবে শস্য উৎপাদন করতে পারে না (যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদি)।
পরিখা পদ্ধতিতে কম্পোস্ট তৈরির ক্ষেত্রে একটি পরিখা ফাঁকা রাখতে হয়, কারণ নিকটবর্তী পরিখার কম্পোস্ট পার্শ্ববর্তী পরিখাতে স্থানান্তর করে উলটপালট করা হয়। ফলে উপাদানগুলো দ্রুত পচে যায় ও অল্প সময়ে কম্পোস্ট তৈরি হয়ে যায়।
কৃষক হাফিজের জমিতে ধানের চারায় আশানুরূপ হারে কুশি গজায়নি এবং জমিতে পোকামাকড়ও দেখা গিয়েছিল।
ধানের চারায় কুশি কম গজানোর কারণ হলো নাইট্রোজেন নামক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি। কৃষক হাফিজ জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করে এ সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। সবুজ সার, কম্পোস্ট সার ইত্যাদি মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে, যেগুলো কৃষক হাফিজ তার জমিতে ব্যবহার করতে পারতেন। ধানের পোকা দূর করার জন্য তিনি তামাক পাতার নির্যাস প্রয়োগ করতে পারতেন। জমিতে প্রেইং ম্যানটিড এর সংখ্যা বাড়ালে তা ক্ষতিকারক পোকা দমনে সহায়ক হতো। এছাড়া জমিতে গাছের ডাল বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দিলেও সুফল পাওয়া যেত। অর্থাৎ, জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে হাফিজ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারতেন।
হাফিজ দ্বিতীয় দফায় ফসলের পুষ্টি ঘাটতি পূরণ ও রোগবালাই দমনে জৈব ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন।
হাফিজ সার হিসেবে গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল - ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তিনি জানেন এতে গাছের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য উপাদানই আছে। এছাড়াও এসব সার মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি পায়। জৈব পদার্থ মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা, মাটির উর্বরতা, ফসলের ফলন, উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধি করে। জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি কীটপতঙ্গ দমনের জন্য আলোক ফাঁদ এবং জমির বিভিন্ন জায়গায় ডালপালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করেন। জমিকে সবসময় আগাছামুক্ত রাখেন, যা পোকার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। ফলে কীটপতঙ্গ দমন ব্যবস্থা হয় পরিবেশের কোনো ক্ষতি ছাড়াই।
অর্থাৎ, হাফিজের দ্বিতীয় দফায় গৃহীত জৈব ব্যবস্থাপনা শুধু পুষ্টি ঘাটতি - পূরণই নয় বরং রোগবালাই দমনেও সহায়ক ভূমিকা রেখেছে উক্তিটি যথার্থ।
পরিবেশ বাঁচাতে জৈব ও অরাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়।
রাসায়নিক বালাইনাশক মাত্রই বিষ। এ জাতীয় বালাইনাশক প্রয়োগের ফলে তা উদ্ভিদের জীবনচক্রে ঢুকে ফলনকেও বিষাক্ত করে দিচ্ছে যা খেয়ে মানুষ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পরিবেশেরও চরম ক্ষতি হচ্ছে। তাই এ জাতীয় বালাইনাশককে নীরব ঘাতক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
