বস্তুর ভর যত বেশি হবে সংশ্লিষ্ট বস্তুর ওপর ঘর্ষণ বল তত বেশি হবে।
তেল বা গ্রিজ তলগুলোকে মসৃণ করে এবং ঘর্ষণকে কমিয়ে দেয়। এ কারণে যন্ত্রপাতির গতিশীল অংশগুলো তেল বা গ্রিজ দ্বারা আবৃত করে যা ঘর্ষণকে কমায় এবং যন্ত্রপাতিকে ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। ঘর্ষণ কমানোর আর একটি উপায় হচ্ছে কোনো তলের ওপর দিয়ে একটি বস্তুকে পিছলিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে গড়িয়ে নেওয়া।
উদ্দীপক অনুযায়ী, নোমান যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়। তৃতীয় গতিসূত্রটি হলো, 'প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত
প্রতিক্রিয়া আছে।' নোমান রাবার ব্যান্ডটি নিয়ে দুই হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে প্রসারণ করার সময় ক্রিয়াবল প্রয়োগ করলো। প্রত্যেক বস্তুই তার আকার-আকৃতি পরিবর্তনের সময় কিছুটা বাধার সৃষ্টি করে, তাই এক্ষেত্রে রাবার ব্যান্ডটিও প্রযুক্ত ক্রিয়াবলের বিপরীতে সমমানের প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করবে। রাবার ব্যান্ড হতে প্রাপ্ত এ প্রতিক্রিয়া বলের কারণে নোমানের আঙ্গুলগুলোতে ব্যাথার সৃষ্টি হয়।
রাবার ব্যান্ডের আকৃতি পরিবর্তনের জন্য নোমান তার দুই হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে ক্রিয়াবল প্রয়োগ করে। এর বিপরীতে রাবার ব্যান্ড ক্রিয়াবলের সমমানের যে প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে তা নোমানের
আঙ্গুলের ওপর প্রযুক্ত হওয়ায় সে ব্যথা অনুভব করে। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি নিউটনের তৃতীয় সূত্র সম্পর্কিত, যার বিবৃতি হলো, প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে'।
নিল
বা
নিউটনের তৃতীয় সূত্র সম্পর্কিত আরো বেশ কিছু অভিজ্ঞতা আমরা দৈনন্দিন জীবনে লাভ করি। এর মধ্যে কয়েকটি নিম্নে বর্ণনা করা হলো-
ক্রিকেটের ব্যাট এবং বলের মধ্যকার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া: ক্রিকেটার যখন
ব্যাট দিয়ে বলকে আঘাত করেন, তখন ব্যাটটি ক্রিকেট বলের ওপর একটি বল প্রয়োগ করে। এটি ক্রিয়া। ক্রিকেট বলটিও ব্যাটের উপর একটি সমমানের বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে, যা প্রতিক্রিয়া নামে অভিহিত।
টেবিলের ওপর বইয়ের অবস্থান: কোনো বইকে টেবিলের ওপর রাখা
হলে, বইয়ের ওপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল তথা বইটির ওজন খাড়া নিচের দিকে ক্রিয়া করে। বইটির ওপর যদি কেবলমাত্র তার ওজন কাজ করতো অন্য কোনো বল ক্রিয়া না করতো, তাহলে বইটি সাম্যাবস্থায় থাকতো না বরং টেবিলের মধ্য দিয়ে নিচে চলে যেতো। কিন্তু তা হয় না। কারণ বইটি টেবিলের ওপর তার ওজনের সমান বল প্রয়োগ করছে এবং টেবিলটিও একটি প্রতিক্রিয়া বলে বইকে উপরের দিকে ঠেলছে।
ভূমির ওপর দাঁড়ানো এবং হাঁটা: ভূমির ওপর দাঁড়ানো এবং হাঁটার
ক্ষেত্রে আমরা নিচের দিকে ক্রিয়াবল প্রয়োগ করি। এক্ষেত্রে ভূমি তার বিপরীত দিকে (অর্থাৎ উপরের দিকে) ক্রিয়াবলের সমান প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে।
নৌকা চালানো: একজন মাঝি যখন নৌকা চালানোর সময় বাঁশের লগি দিয়ে ভূমিতে ধাক্কা দেন তখন ভূমিও লগির ওপর সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে। এ প্রতিক্রিয়া বলের অনুভূমিক উপাংশই নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
Related Question
View Allযে বল কেবল দুটি বস্তুর ভৌত সংস্পর্শে এসে পরস্পরের উপর ক্রিয়া করে তাকে স্পর্শ বল বলে।
আমরা জানি যে, কোনো বস্তুই নিজে থেকে এর অবস্থান পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তু স্থির থাকলে চিরকাল স্থির থাকতে চায়, গতিশীল থাকলে চিরকাল গতিশীল থাকতে চায়। বস্তুর অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বাইরে থেকে কিছু একটা প্রয়োগ করতে হয়, যা বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন করে তাকেই বল বলা হয়।
অর্থাৎ বল হলো সেই ভৌত রাশি যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায়।
ধরি, বাসটির উপর ক্রিয়াশীল বলের মান F
এখানে, বাসের ভর, m- ১৪০০ কেজি
ত্বরণ, এ ৪ মি/সে
বল F=?
আমার জানি, F = ma
= ১৪০০ কেজি × ৪ মি/সে' ৫৬০০ নিউটন
সুতরাং বাসটির ওপর ক্রিয়াশীল বলের মান ৫৬০০ নিউটন।
বস্তু তার গতির যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে জড়তা বলে।
স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।
গতিশীল বাস যখন থেমে যায় তখন যাত্রীর শরীরের নিচের অংশ বাসের সাথে থেমে যায়। কিন্তু উপরের অংশ তখনও গতিশীল থাকার কারণে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গতি জড়তার কারণে হঠাৎ গাড়িটি থামালে চলন্ত গাড়ির যাত্রীগণ সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পক্ষান্তরে বাসটি পুনরায় চলতে শুরু করলে যাত্রীদের শরীরের নিচের অংশ গাড়ির সাথে চলতে শুরু করে, কিন্তু উপরের অংশ বাস সংলগ্ন না হওয়ায় তা পেছনের দিকে হেলে পড়ে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে স্থিতি।
জড়তার কারণে স্থির বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা পিছনের দিকে হেলে পড়েন।
সুতরাং যাত্রীরা প্রথমে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লেও পরবর্তীতে পিছনে হেলে পড়ার কারণ হলো- যাত্রীদের উপর প্রথম ক্ষেত্রে গতি জড়তা কাজ করলেও পরের ক্ষেত্রে স্থিতি জড়তা কাজ করে।
নিউটনের গতি বিষয়ক দ্বিতীয় সূত্রটি হলো 'বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই হয়।'
বস্তু যে অবস্থায় আছে চিরকাল সেই অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সেই অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম, তাই জড়তা। স্থিতিশীল বস্তুর চিরকাল স্থির থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা স্থিতি বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে স্থিতি জড়তা এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে গতিশীল থাকতে চাঁওয়ার যে প্রবণতা বা ধর্ম তাকে গতি জড়তা বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!