যে ব্যাংকের কার্যক্রম শরিয়তসম্মত পন্থায় তথা কুরআন ও হাদিস মোতাবেক পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি ব্যাংকিং বলে।
ইসলামি ব্যাংকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ইসলামি অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামি ব্যাংকিং পবিত্র কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ করা, সুদমুক্ত আর্থিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, বৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জন করা। ইসলামি ব্যাংকিং এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামি শরিয়াহ্ অনুসারে আর্থিক ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ করা।
মহসিন সাহেবের চিন্তা ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সমস্ত কার্যক্রম যথা-পুঁজি সংগ্রহ, অর্থ বিনিয়োগ, ক্রয়-বিক্রয়, জমা, গ্রহণ- প্রদান ইত্যাদি ইসলামি শরিয়তের আলোকে পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি ব্যাংকিং বলে। ইসলামি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ইসলামি শরিয়াহ অনুসারে আর্থিক ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ করা।
মুসলিম উম্মাহর আর্থিক লেনদেনকে ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করা এবং আর্থিক কর্মকাণ্ডকে শরিয়াহভিত্তিক করার নিমিত্তে ইসলামি ব্যাংক অত্যাবশ্যকীয়। কেননা মানুষের জীবনে অর্থ একটি অপরিহার্য বিষয়। অর্থ ছাড়া মানুষের জীবন অচল। আর মুসলিম উম্মাহ কিছুতেই সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না। তাই মুসলমানদের জন্য আর্থিক লেনদেনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ইসলামি ব্যাংকিং। উদ্দীপকে উল্লিখিত মহসিন সাহেব ইসলামি ব্যাংকিং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তার ব্রিকফিল্ডের হিসাব ইসলামি ব্যাংকে নিতে চান।
মহসিন সাহেব যে ব্যাংকিং তথা ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার কথা চিন্তা করেছেন, তা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি ব্যাংকিং পবিত্র কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এটি মানব কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ব্যবস্থা। আর্থিক ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ করা এ ব্যাংকিং ব্যবস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা। সুদি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সমাজে নানা বৈষম্য সৃষ্টি করে। সম্পদ গুটিকয়েক লোকের হাতে থাকে ফলে উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হয়। সুদি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দরিদ্র আরও দরিদ্র ধনী আরও ধনী হয়। ফলে সমাজে শ্রেণির তৈরি হয় ও বৈষম্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সুদি ব্যাংকিং এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা, ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ সাধন করা নয়। ফলে সুদি ব্যাংকিং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠারও প্রতিবন্ধক।
ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বের কল্যাণ সাধন করা। ইসলামি ব্যাংকগুলো শরিয়ত সম্মত পন্থায় ব্যবসায়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে জনকল্যাণের প্রতি দৃষ্টি রাখে। শ্রেণি তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে সহায়তা করতে বদ্ধপরিকর। ইসলামি ব্যাংকিং এর ফলে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়- যা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allআল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় সুলাহা।
তাকওয়ার দ্বিতীয় সোপান হলো এমন হালাল কথা, কাজ, বিষয় ও বস্তু বর্জনের স্তর, যে হালালের হালাল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, সন্দেহযুক্ত হালাল বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করতে এবং যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। জাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাল উপার্জন এবং জাকাতের বিষয়টি বাধ্যতামূলক। তার আলোচিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যা খুশি এব উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা- পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে।
ইবাদত কবুলের জন্য আমাদের হালাল উপার্জন করতে হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে- মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের আলোকে যথার্থ। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক। তাই মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোকদের কিছু দান করাকে সাদাকাত বলে। সাদাকাত অর্থ হলো দান। এটি দুই প্রকার। যথা- ১. নফল বা ঐচ্ছিক সাদাকাত এবং ২. ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক সাদাকাত। অর্থাৎ বাধ্যবাধকতা ছাড়া অথবা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে যে দান করা হয় তাই ওয়াজিব সাদাকাত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!