নৌকা ভ্রমণ

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

নৌকা ভ্রমণ

ভূমিকা: মানুষের জীবনে অপার আনন্দদান করতে পারে এমন জিনিসের মধ্যে ভ্রমণ অন্যতম। আর যদি হয় নৌভ্রমণ তা হলে তো কথা থাকে না। কারণ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের প্রায় সব মানুষেরই আছে নৌকা-ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। সকল প্রকার ভ্রমণমাধ্যমের মধ্যে নৌকা ভ্রমণ অপেক্ষাকৃত সহজ ও কম ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের নদীপথের অপূর্ব সৌন্দর্য শুধু আনন্দদায়কই নয়, তা উপভোগেরও একটি মহত্তম অনুষঙ্গ।

উপলক্ষ্য ও যাত্রাশুরু: বার্ষিক পরীক্ষার পর আমরা দীর্ঘ অবকাশ পেলাম। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে নৌকা ভ্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলাম। গন্তব্যস্থান মংলাবন্দরের অপর পাড়ের সুন্দরবন। আমরা সোমবারে খুলনার রূপসা ঘাট থেকে সকাল ৭টায় যাত্রা শুরু করলাম।

প্রস্তুতি গ্রহণ: আমরা একটা মাঝারি গড়নের ছৈওয়ালা নৌকা ভাড়া করলাম। নৌকার মাঝি চারজন। আমরা সাথে করে ক্যামেরা, টেপরেকর্ডার, ভিডিও, বাদাম, চিপস, পাউরুটি, পানি এবং বাসমতি চাল, খাসির মাংস ইত্যাদি নিয়ে রওনা দিলাম।

যাত্রাপথের বর্ণনা: আমাদের যাত্রা শুরুর সময় রূপসা নদীতে ভাটার টান। একজন মাঝি নৌকার হাল ধরল। আর তিনজন মাঝি দাঁড়টানা শুরু করল। আমাদের নৌকা পেল প্রচণ্ড গতি। আমরা নদীপাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে ছুটে চললাম। নদীর দুপাড়ের গ্রামগঞ্জ ফসলের সবুজ মাঠ আমাদের দারুণভাবে মুগ্ধ করল। নদীর ঘাটে ঘাটে শিশু-কিশোর, নর-নারীর জীবনপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করার এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা লাভ করলাম। নদীতে কেউ নৌকা চালায়, নদীর পাড়ে কেউ বসে জাল বোনে, নদীতে কেউ সাঁতার কাটছে, মাছ ধরে, নদীর থেকে কোনো কোনো গাঁয়ের বধূ কলসিতে জল নিয়ে ঘরে ফেরে। নদীর বুকে গাঙচিল উড়ে চলে। ঝাঁপ দিয়ে নেমে ছোট মাছ ধরে খায়। আরও কত কী! এসব দৃশ্য খুবই চমকপ্রদ। ঘণ্টাখানেক যেতে না যেতে আমরা চালনা নদীবন্দরে পৌছে গেলাম। আমাদের সাথে নেওয়া হালকা নাস্তা বন্ধুরা মিলে খেয়ে নিলাম। আর আশপাশের মনোরম দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ভুল করলাম না। টেপরেকর্ডার ছেড়ে দিয়ে ভাটিয়ালি গান শুনতে লাগলাম। এভাবে ঠিক দুপুরবেলা আমরা মোংলা নদীর অপর পাড়ে সুন্দরবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম।

নৌকাতে বসে সুন্দরবনের দৃশ্য উপভোগ: মাঝিরা আমাদের রান্নার কাজে সাহায্য করল। অনন্য ও অপূর্ব তাদের সাথে মিলেমিশে রান্না সম্পন্ন করল। দুপুর একটার দিকে আমরা মধ্যাহ্নভোজ সেরে নিলাম। তারপর নদীর তীর বেয়ে বনের পাশ ঘেঁষে চলতে থাকলাম। সুন্দরবনের তীরে একটা মা হরিণ তার বাচ্চা সাথে নিয়ে বিচরণ করছে দেখতে পেলাম। আমরা সকলে খুশিতে নেচে উঠলাম। মানুষের শব্দ শুনে হরিণগুলো বনের মাঝে লুকিয়ে গেল। সুন্দরবনের নদীর পাড়ের কেওড়া, হেতালি, সুন্দরী নানা জাতের গাছগাছালির সবুজ দৃশ্য সত্যিই চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর। যা আমাদের দলের সকলকে অপার আনন্দরসে আপ্লুত করলো। এভাবে বিকেল গড়িয়ে এলো। এবার আমাদের খুলনার পথে ফেরার পালা শুরু হলো। আমরা মোংলা টাউনে নেমে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিলাম।

সূর্যাস্তের দৃশ্য ও তারপর: মোংলা নদীতে বসে পশ্চিম আকাশে সূর্যাস্ত যেতে দেখলাম। সন্ধ্যা নেমে এলো প্রকৃতির বুকে। সূর্যের বিদায়ি আভা নদী তীরের গাছগাছালিতে ও নদীর পানিতে অপূর্ব রূপ ধারণ করলো। আমাদের সকলকে তা সত্যিই মুগ্ধ করল। সন্ধ্যায় মোংলাবন্দর ও শহরের বিজলি বাতি জ্বলে উঠল। বড় বড় জাহাজগুলোর বাতিগুলো যেন নদীর বুকে তারা ফুলের মতো ফুটে উঠলো। ক্রমে ক্রমে আঁধার গাঢ় হয়ে ঘনীভূত হলো। নদীর পাড়ের গ্রামগুলো নিস্তব্ধতার চাদরে ঢেকে গেল। আকাশে তারার মেলা ও পানির ছলাৎছলাৎ শব্দে আমাদের মনে শীতলতার পরশ বুলায়ে দিল। মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান শুরু হলো-

মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে

আমি আর বাইতে পারলাম না।'

গন্তব্য থেকে প্রত্যাবর্তন: প্রকৃতির দৃশ্য ও মাঝির গানের সুরের আওয়াজ আমাদের মুগ্ধ করে রাখল। তার রেশ শেষ হতে না হতে বাবলু বলে উঠল বকুল আর কত বেভুল থাকবি। আমরা যে খুলনায় ফিরে এসেছি। সকলে নৌকার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি নৌকা থেকে তীরে নতুন বাজারে নেমে পড়লাম। রাত তখন অনেক হয়ে গেছে। রিকশাতে চড়ে আমরা যার যার বাসার দিকে চললাম। মনের অলিন্দে তখন নৌকা ভ্রমণের অপার আনন্দ গভীর স্বপ্নকল্পনার বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে।

উপসংহার: নৌকা ভ্রমণ আমাদের সকলকে দিল এক আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। তা নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ এনে দিল। নৌকাপথে সুন্দরবন ভ্রমণের এই দৃশ্য আমার মনের মণিকোঠায় চিরদিন দোলা দিয়ে যাবে। দেশ, দেশের নদী ও নদী পাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং মানুষের জীবনধারা জানার জন্য সকলেরই নৌকাভ্রমণ করা উচিত বলে আমার মনে হয়।

1.1k

প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।

প্রবন্ধ-রচনার কৌশল

প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-

১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।

২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।

৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।

৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।

৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।

৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews