জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতি থেকে কবিতার রূপরস সংগ্রহ করেছেন।
'সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে'-লাইনটির মাধ্যমে কবি বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
কবি প্রিয় জন্মভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন বলে মৃত্যুর পরও তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসতে চান, মিশে থাকতে চান বাংলার প্রকৃতিতে। কবি জানেন না তিনি কী হয়ে বাংলার মাটিতে ফিরে আসবেন। হয়তোবা হাঁসের রূপে তিনি ফিরে আসবেন। তখন তার সারা দিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে সাঁতার কেটে। বাংলার সবুজ প্রকৃতির চিরচেনা সবকিছুর সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকার অভিপ্রায়ে কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকে 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার পুনরায় ফিরে আসতে চাওয়ার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
গ্রামপ্রধান বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যা আমাদের মুগ্ধ করে। এ কারণে বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বলা হয়।
উদ্দীপকে নয়ন দেশের বাইরে পড়ালেখা করতে গিয়েও নিজের দেশকে ভোলেনি। সে নিজের দেশের প্রকৃতির প্রতি সবসময় আকৃষ্ট হয়েছে। তাই বাইরের বিলাসবহুল জীবনের সুযোগ থাকতেও নিজের দেশে পুনরায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশ থেকে চলে যাওয়ার পরেও দেশে নতুন করে ফিরে আসার বিষয়টি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে। 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি দেশের সৌন্দর্যের প্রতি এতটাই মুগ্ধ হয়েছেন যে, তিনি মৃত্যুর পরেও বাংলার প্রকৃতির ছোট ছোট রূপ পরিগ্রহ করে ফিরে আসতে চেয়েছেন। কবিতায় কবি চলে যাওয়ার পরে পুনরায় ফিরে আসতে চাওয়ার বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার পুনরায় ফিরে আসতে চাওয়ার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের নয়নের প্রত্যাশা আর 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার প্রত্যাশায় একই সুর বিরাজ করে না।
নিজ দেশের সৌন্দর্যে মানুষ মুগ্ধ হয়ে থাকে বলেই অনেক দূরে যাওয়ার পরেও নিজের দেশ, দেশের সৌন্দর্য ভুলতে পারে না। তাই বারবার বিভিন্নভাবে কবি ফিরে আসতে চান।
উদ্দীপকে নয়ন দেশের বাইরে পড়ালেখা করে নিজের পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়ে যায়। কারণ তার মনে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মুগ্ধতা রয়ে যাওয়ায় সে প্রবাসে অন্য কোনো দেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ভাবে না। বরং নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে সে নিজের দেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় কবি দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এতটাই বিভোর যে মৃত্যুর পরেও প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের মধ্য দিয়ে তিনি পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে চান এদেশে। কবি মাঠের শালিক হয়ে ফিরে আসতে চেয়েছেন বাংলায়, কখনো আবার ভোরের কাক হয়ে কুয়াশায় মিশে যেতে চেয়েছেন। আবার হাঁস, বকের চিরচেনা দেশে তিনি পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকে নয়ন নিজের দেশে ফিরে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ভেবেছে। কারণ সে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে নিজেকে দূরে কোথাও সরিয়ে রাখতে পারবে না। কিন্তু 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার কবি বাংলার বিভিন্ন অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশে ফিরে আসতে চেয়েছেন। উদ্দীপকের নয়নের মাঝে এ ধরনের কোনো আগ্রহ লক্ষ করা যায়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নয়নের প্রত্যাশা আর 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার প্রত্যাশায় একই সুর বিরাজ করে না।
Related Question
View Allউঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় এক শিশু।
কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রকৃতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকতে চান বলে মানুষ না হলেও শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে এদেশে ফিরে আসতে চান।
কবি জানেন, মৃত্যুর মধ্য একদিন তাঁকে এদেশ থেকে বিদায় নিতে হবে। কিন্তু কবি তাঁর দেশকে ভালোবাসেন। প্রিয় জন্মভূমির অত্যন্ত সাধারণ জিনিসগুলোও তাঁর দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। তিনি এদেশের বিভিন্ন রূপবৈচিত্র্যের অনুষঙ্গ হয়ে আবার ফিরে আসতে চান। তিনি তাই বলেন যে, মানুষ হয়ে তিনি আর এদেশে ফিরে আসতে না পারলেও প্রকৃতির বুকে শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে ফিরে আসবেন।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে।
জন্মভূমির সন্তানদের কাছে জন্মভূমির অত্যন্ত সাধারণ জিনিসগুলোও অনেক মূল্যবান। মানুষ তাই প্রিয় জন্মভূমির রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চায়।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতায় উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে। অমিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে ফ্রান্সে যায়। সেখানকার সুপ্রশস্ত রাজপথ, উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুবই ভালো লাগে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস-স্টপেজ সব জায়গায় দেশি-বিদেশি স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গের মূর্তি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ফরাসিদের দেশপ্রেম প্রকাশ পায় যা 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার কবি জীবনানন্দ দাশের দেশপ্রেমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও বাংলাকে ভালোবেসে বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশের সৌন্দর্য প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, 'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি উদ্দীপকের ফরাসি জাতির দেশপ্রেমের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে।
"অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন"- উক্তিটি যথার্থ।
জন্মভূমির প্রতি সবার অনুভূতি এক নয়। অনেকেই বিদেশে গিয়ে জন্মভূমিকে ছেড়ে থাকতে পারে না। আবার অনেকে বিদেশের সৌন্দর্যে মোহাচ্ছন্ন হয়ে জন্মভূমিকে ভুলতে বসে।
উদ্দীপকের অমিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে ফ্রান্সে যায়। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সুপ্রশস্ত রাজপথ, বিচিত্র উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুবই ভালো লাগে। তাদের ক্যাফে, মিউজিয়াম সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অমিত স্থায়ীভাবে ফ্রান্সে থেকে যায়। ফরাসি সৌন্দর্যের মোহে ক্রমশ ধূসর হয়ে যায় তার স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বদেশের স্মৃতি। উদ্দীপকের অনুভূতি ও চেতনা সম্পূর্ণভাবে জীবনানন্দ দাশের চেতনা ও অনুভূতি থেকে ভিন্ন। কারণ দেশকে ভালোবেসে কবি পুনরায় যেকোনো রূপে স্বদেশে ফিরে আসতে চান।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতার কবি তাঁর নিজের দেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। জন্মভূমির অতি তুচ্ছ জিনিসগুলো তাঁর দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। উদ্দীপকের অমিত উচ্চশিক্ষার্থে ফ্রান্সে গিয়ে সেখানকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার অতীতের স্মৃতি ধূসর হয়ে যায়। আর কবি মৃত্যুর পরও শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে হলেও ফিরে আসতে চান তাঁর জন্মভূমির রূপময় আকর্ষণের টানে। এ বিষয় থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'বাংলার সবুজ করুণ ডাঙা' বলতে সবুজ প্রকৃতি ঘেরা বিষণ্ণ বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
কবি জীবনানন্দ দাশের চোখে তাঁর জন্মভূমি সবচেয়ে সুন্দর। চারদিকে সবুজের ছড়াছড়ি। অসম্ভব সৌন্দর্যের মাঝে বিষণ্ণতাও থাকে। সেই সৌন্দর্য ও বিষণ্ণতা এক সঙ্গে প্রকাশ করতে কবি বাংলাকে সবুজ করুণ ডাঙ্গা আখ্যায়িত করে উক্তিটি করেছেন। তবে যেমনই হোক তিনি মৃত্যুর পরেও এই বাংলায় ফিরে আসতে চান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!