পদ্মার তীব্র ভাঙনে দোতলা বাড়ি আর অজস্র ফসলি জমি হারিয়ে মরিয়মের ঠাঁই হয়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সব হারিয়ে দমে না গিয়ে মরিয়ম ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তোলে। তার স্বামী অতীত বিত্তবৈভবের জন্য হাহাকার করলেও সে স্বামীকে সান্ত্বনা দেয় এবং তাকে সাহস জোগায়।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

'বাহ্যদৃশ্য' শব্দের অর্থ বাইরের জগতের চাকচিক্যময় রূপ বা জিনিস।

উত্তরঃ

জীবাত্মা অনিত্য নয়, কারণ জীবকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মানবজীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করেছেন। মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সার্থক করে তোলা যায় জগতের কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে। মানুষকে এ পৃথিবীতে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। আবার মৃত্যুকে অনিবার্য জেনে জীবনবিমুখ হলেও চলবে না। কারণ মানব- জনম অত্যন্ত মূল্যবান। জগতে কল্যাণকর কর্মের মাধ্যমে মানবজীবনকে সার্থক করে তোলা যায়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের মরিয়মের স্বামীর মানসিকতায় 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার জীবনসংগ্রামে ভীত-হতাশাগ্রস্ত মানুষের বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। 

সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়েই মানুষের জীবন। সাফল্যের কাছে পৌঁছতে হলে পথের নানা সমস্যা, সংকট অতিক্রম করতে হয়। ব্যর্থ মনোরথে কেউ জীবনে উন্নতি করতে পারে না।

উদ্দীপকে পদ্মার তীব্র ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সমস্যা ও সংকটের কথা বলা হয়েছে। দোতলা বাড়ি, ফসলের জমি সবকিছু হারিয়ে মরিয়ম ও স্বামী সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। মরিয়মের স্বামী সেখানে অতীত বিত্ত-বৈভবের জন্য হাহাকার করে। তার এ হাহাকার 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার বাহ্যদৃশ্যে ভুলে থাকা হতাশাগ্রস্ত মানুষের না পাওয়ার হাহাকারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি মিথ্যা সুখের জন্য হাহাকার না করে মানুষকে প্রাণপণে নিজ নিজ কাজ যথার্থভাবে সম্পন্ন করতে বলেছেন। উদ্দীপকের মরিময়ও তার স্বামীকে সান্ত্বনা দিয়ে হতাশা কাটিয়ে উঠতে বলেছেন। কবিও এ কবিতায় মানুষকে হতাশামুক্ত জীবনের জন্য যত্ন করতে বলেছেন।

উত্তরঃ

হতাশা নয় বরং মরিয়মের ধৈর্য ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাবই 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- মন্তব্যটি যথার্থ। 

মানুষের জীবন শৈবালের নীরের মতো ক্ষণস্থায়ী। তাই জগৎ-সংসারে মানুষকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হয়। তাই জীবনকে মহিমান্বিত করতে হলে ব্যর্থতা পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

উদ্দীপকে পদ্মার তীব্র ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মরিয়মের মধ্যে হতাশা দূর করে কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে জীবনে সফলতা অর্জনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সে দোতলা বাড়ি, ফসলের জমি হারিয়েও হতাশ হয়নি। কারণ তার মূল্যবান জীবন সে হারায়নি। অতীত বিত্তবৈভবের জন্য হাহাকারকারী স্বামীকে সে সান্ত্বনা দিয়েছে। উদ্দীপকের মরিয়মের এই ধৈর্য ও আত্মপ্রত্যয় 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার কবির পরামর্শের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি এখানে মানুষকে পৃথিবীতে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে টিকে থাকতে বলেছেন। তিনি মানুষকে জীবনযুদ্ধে ভীত না হয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন।

'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি মানবজীবনের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করেছেন। মানবজীবন যে- অত্যন্ত মূল্যবান তা বোঝাতে তিনি এর প্রতি সবাইকে যত্নবান হতে বলেছেন। জীবনের সমস্ত জড়তা, হতাশা পিছনে ফেলে নতুন উদ্যমে মূল্যবানতো বোঝাড়ে তোলার যে দিক 'জীবন-সঙ্গেীত' কবিতায় প্রতিফলিত তা উদ্দীপকের মরিয়মের মানসিকতায় পাওয়া যায়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

176

বলো না কাতর স্বরে                    বৃথা জন্ম এ সংসারে

                       এ জীবন নিশার স্বপন,

দারা পুত্র পরিবার                        তুমি কার কে তোমার

                     বলে জীব করো না ক্ৰন্দন;

মানব-জনম সার,                        এমন পাবে না আর

                     বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;

কর যত্ন হবে জয়,                        জীবাত্মা অনিত্য নয়

                     ওহে জীব কর আকিঞ্চন ।

করো না সুখের আশ,                    পরো না দুখের ফাঁস

                      জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,

সংসারে সংসারী সাজ,                    করো নিত্য নিজ কাজ,

                      ভবের উন্নতি যাতে হয় ।

দিন যায় ক্ষণ যায়,                          সময় কাহারো নয়,

                      বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,

সহায় সম্পদ বল,                            সকলি ঘুচায় কাল,

                       আয়ু যেন শৈবালের নীর ।

সংসার-সমরাঙ্গনে                           যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে,

                        ভয়ে ভীত হইও না মানব;

কর যুদ্ধ বীর্যবান,                            যায় যাবে যাক প্ৰাণ

                          মহিমাই জগতে দুর্লভ।

মনোহর মূর্তি হেরে,                          ওহে জীব অন্ধকারে,

                          ভবিষ্যতে করো না নির্ভর

অতীত সুখের দিনে,                         পুনঃ আর ডেকে এনে,

                            চিন্তা করে হইও না কাতর ।

মহাজ্ঞানী মহাজন,                          যে পথে করে গমন,
                          হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,

সেই পথ লক্ষ্য করে                         স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে

                          আমরাও হব বরণীয়

সমর-সাগর-তীরে,                         পদাঙ্ক অঙ্কিত করে

                         আমরাও হব হে অমর;

সেই চিহ্ন লক্ষ করে,                     অন্য কোনো জন পরে,

                         যশোদ্বারে আসিবে সত্বর ।

করো না মানবগণ,                      বৃথা ক্ষয় এ জীবন,

                        সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে;

সঙ্কল্প করেছ যাহা,                       সাধন করহ তাহা,

                       রত হয়ে নিজ নিজ কাজে ।
 

Related Question

View All
উত্তরঃ

'বাহ্যদৃশ্য' শব্দের অর্থ বাইরের জগতের চাকচিক্যময় রূপ বা জিনিস।

Sharif
Sharif
2 years ago
2.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews