ব্যাংকিং লেনদেন থেকে সৃষ্ট আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনার নিষ্পত্তিস্থলই হলো নিকাশ ঘর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহ যেকোনো কারণেই তারল্য সংকটে 'বা আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। এ সময় ব্যাংকগুলো অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সরবরাহে এগিয়ে আসে। এক্ষেত্রে এই ব্যাংক ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও ব্যাংক বাণিজ্যিক হুন্ডি, প্রতিজ্ঞাপত্র ইত্যাদি পুনঃবাট্টা করে ঋণ দেয়।
উদ্দীপকের 'B' ব্যাংক কার্যাবলির ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
যে ব্যাংককে কেন্দ্র করে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং পরিচালিত হয় তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা ও মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়াও নোট ও মুদ্রার প্রচলন করে। এটি প্রত্যেক দেশের প্রধান ব্যাংক।
উদ্দীপকের 'B' ব্যাংক হলো একটি ব্যাংক, যা সরকারের পক্ষে আর্থিক ও ব্যাংকিং কাজ সম্পাদন করে। এছাড়াও 'মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন ও দেশের অন্যান্য ব্যাংককে সহায়তা করতে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত এ ধরনের কাজ করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে বিভিন্ন মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করে। এছাড়া অন্যান্য তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর দেখাশোনা ও নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
আবার, 'সরকারের পক্ষে বিভিন্ন প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ করে থাকে। উদ্দীপকের 'B' ব্যাংকের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য মিলে যায়। তাই বলা যায়, 'B' ব্যাংক হলো একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
উদ্দীপকের পদ্মা লি. তালিকাভুক্ত ব্যাংক হওয়ায় 'B ব্যাংক'-এর সহযোগিতা পাবে।
তালিকাভুক্ত ব্যাংক বলতে বোঝায় যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনপ্রাপ্ত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশ নির্দেশ মানতে বাধ্য। তালিকাভুক্তির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকের আইনগত সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকটির অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। ফলে বিপদে-আপদে বাণিজ্যিক ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের 'B' ব্যাংক সরকারের পক্ষে ব্যাংকিং কাজ সম্পাদন করে। এটি মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন ছাড়াও অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে থাকে। অন্যদিকে, পদ্মা লি. হচ্ছে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এটা দেশের মুরব্বি ব্যাংকের নিয়ম-নীতি মেনে কাজ পরিচালনা করে। আবার, আশা ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক হয়েও নিজের নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকের 'B' ব্যাংক হচ্ছে একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি হচ্ছে সব ব্যাংকের মুরব্বি ব্যাংক। অন্যদিকে পদ্মা লি. হচ্ছে একটি তালিকাভুক্ত ব্যাংক। এছাড়া, আশা, লি. হচ্ছে একটি অতালিকাভুক্ত ব্যাংক।
তালিকাভুক্ত ব্যাংকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। আবার, তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সুবিধা-অসুবিধায় সাহায্য ও পরামর্শ দেয়। অতালিকাভুক্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা হয় না। তাই এ ব্যাংকগুলোর বিপদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাহায্য করতে বাধ্য নয়। বিপদে পড়লে পদ্মা লি. কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সাহায্য পেলেও আশা লি. কোনো সাহায্য পাবে না। তাই বলা যায়, তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণেই পদ্মা লি. 'B' ব্যাংক থেকে সহযোগিতা পাবে।
Related Question
View Allতালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নগদে ও অংশবিশেষ বন্ড, সিকিউরিটিজ কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখার বিধানকে বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত হার বা Statutory Liquidity Ratio (SLR) বলে। বর্তমানে SLR-এর হার ১৩%।
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।
তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহ যেকোনো কারণেই তারল্য সংকটে 'বা আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। এ সময় ব্যাংকগুলো অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সরবরাহে এগিয়ে আসে। এক্ষেত্রে এই ব্যাংক ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও ব্যাংক বাণিজ্যিক হুন্ডি, প্রতিজ্ঞাপত্র ইত্যাদি পুনঃবাট্টা করে ঋণ দেয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশঘর নামক বিশেষ কক্ষের কথা উল্লেখ রয়েছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মধ্যকার আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির স্থান হলো নিকাশঘর। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সদস্য ব্যাংকগুলো প্রতি কার্যদিবসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সেবার মাধ্যমে তাদের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত আন্তঃব্যাংকিং নিকাশঘর পরিচালনা করে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক হলো মুদ্রাবাজারের অভিভাবক। এই ব্যাংকের একটি বিশেষ কক্ষ রয়েছে। উক্ত কক্ষে তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহের পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ কক্ষ হলো নিকাশঘর। এখানে সদস্য ব্যাংকগুলো প্রতি কার্য দিবসে তাদের দেনা-পাওনার বিবরণী নিয়ে উপস্থিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবার দেনা ও পাওনা সমন্বয় করে। ফলে খুব সহজেই ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকের চেক, বিল, ড্রাফট ইত্যাদি নিষ্পত্তি করতে পারে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশঘরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংক হার 'নীতি ও জমার হার পরিবর্তন নীতি গ্রহণ করেছে।
ব্যাংক ঋণের হার হ্রাস-বৃদ্ধি করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল হলো ব্যাংক হার নীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধে ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। আবার, প্রতিটি তালিকাভুক্ত ব্যাংক আমানতের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এ হার হ্রাস-বৃদ্ধি করে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করাই হলো জমার হার পরিবর্তন নীতি।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ ও আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে। সম্প্রতি দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি তার সুদের হার ৫% থেকে ৬%-এ উন্নীত করে। তবুও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক CRR বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে তাই ব্যাংক হার। উদ্দীপকে প্রথমত ব্যাংক হার বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক কম ঋণ গ্রহণ করবে এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস পাবে। কিন্তু ব্যাংকগুলো যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয় তাহলে এ নীতি তেমন কার্যকর হয় না। আবার প্রতিটি তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংককে আমানতের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এই হারকে জমার হার বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ হার বৃদ্ধি করলে ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বাজারে ঋণ সরবরাহও হ্রাস পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যাংক হার নীতি ও জমার হার পরিবর্তন নীতির মধ্যে জমার হার পরিবর্তন নীতি অধিক কার্যকর।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয় বা প্রথম শ্রেণির বিল বা সিকিউরিটিজ বাট্টা করে, সেই হারকে ব্যাংক হার বলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে খোলাবাজারে বন্ড, সিকিউরিটিজ, বিল, শেয়ার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি কেনা-বেচা করাকে খোলাবাজার নীতি বলে।
বাজারে অর্থের সরবরাহ বেশি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে জনগণকে শেয়ার, বন্ড, সিকিউরিটিজ ইত্যাদি কেনার আহ্বান জানায়। আবার অর্থ সরবরাহ কম হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে শেয়ার, বন্ড, সিকিউরিটিজ ইত্যাদি ক্রয় করে। এতে ঋণের প্রবাহ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!