মাহমুদুল হক রচিত 'পদ্য লেখার জোরে' একটি হাস্যরসাত্মক ছোটো গল্প। গল্পটি রচিত হয়েছে শমশের আলীজান নামের এক বাদশাহর নির্বুদ্ধিতাকে কেন্দ্র করে।
রাজ্যের রাজা শমশের আলীজান একইসঙ্গে বোকা এবং অহংকারী একজন মানুষ। তার নাম দেশের আরও অনেক লোকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় নিজের নামটিকে তিনি তিনবার উচ্চারণের নির্দেশ দেন। এতে তার মোসাহেব উজির আক্কেল আলী খুব খুশি হন। তবে এরই মধ্যে কারা যেন বাদশাহ ও উজিরকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় পদ্য লেখা শুরু করে। এতে রাজা ও উজির বেজায় ক্ষিপ্ত হন। বাচ্চারা রাজা ও উজিরের নামে ব্যঙ্গাত্মক পদ্য লিখে ঘুড়ি ওড়াতে শুরু করে। ফলে রাজা তার রাজ্যে ঘুড়ি বানানো ও ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করেন। ছেলেরা তাতে দমে না গিয়ে আকাশে কলা পাতা কেটে ওড়ানো শুরু করে। বাদশাহ তাতে আপত্তি জানালে ছেলেরা প্রতিবাদ করে বলে এটা ঘুড়ি নয় কলা পাতা। বাদশাহ তা মানতে রাজি না হলে ছেলেরা পাখি, ধুলো ও উড়োজাহাজের উদাহরণ দিয়ে বলে এগুলো কি তাহলে ঘুড়ি? এবার বাদশাহ মুশকিলে পড়ে যান। পণ্ডিতকে ঘুড়ি শব্দের অর্থ অনুসন্ধান করতে দেওয়া হয়। ছেলেদের বুদ্ধিতে পণ্ডিত ঘুড়ি শব্দের মানে খুঁজতে গিয়ে অভিধানের সমুদ্রে ডুবে যান। বাদশাহের তাঁবেদার আক্কেল আলীও তাকে অনুসরণ করে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ডুবে মারা যান। এসবই সম্ভব হয় ছেলেদের বুদ্ধির জোরে পদ্য লেখার গুণে।
হাস্যরসের মাধ্যমে এই গল্পে দুষ্ট লোকের পতন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও জয় তুলে ধরা হয়েছে।
Related Question
View Allচোপরও! ব্যাপারটা গন্ডগোলের ঠেকছে।'- উক্তিটি বাদশা শমশের আলীজানের।
দশমুনে বান্ডিল ঠেলতে গিয়ে ছেলেরা হাঁপিয়ে পড়ল।
পদ্য লেখার জোরে' গল্পে বাদশা শমশের আলীজান 'ঘুড়ি' শব্দের অর্থ খুঁজে দেখার জন্য পণ্ডিতকে নথিপত্র হাতড়ে দেখতে বলেন। পণ্ডিত তখন ছেলেদের নিয়ে নিজের ঘরে যান এবং ঘরের ভিতর থেকে দশমুনে এক বান্ডিল বের করে আনেন। তিনি আঙুল গুণে বলেন- "ঘুড়ি' শব্দ পাওয়া যাবে একেবারে গোড়ার দিকে, আমার শরীরে কুলাবে না।' তখন পিছনে গড়িয়ে নিয়ে সেই বান্ডিলটা ঠেলতে ঠেলতে ছেলেরা একসময় হাঁপিয়ে পড়ল।
উদ্দীপকের ভজহরি চরিত্রটি 'পদ্য লেখার জোরে' গল্পের উজির আক্কেল আলী চরিত্রকে ইঙ্গিত করে।
জীবনে চলার পথে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ধীরস্থির হয়ে সেসব সমস্যার সমাধান করতে হয়। তা হলেই জীবনে সাফল্য আসে।
উদ্দীপকে বাবুর চাকর ভজহরির বোকামির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সে কোনো বিষয় গভীরভাবে ভাবতে পারে না। নৌকায় বেশি লোক ওঠার কারণে নৌকা ডুবে যাওয়ার ভয়ে পুঁটলিটা মাথায় নিয়ে বসেছে। এতে যে নৌকার বোঝার ওজন কমবে না তা সে বুঝতে পারেনি। তেমনই 'পদ্য লেখার জোরে' গল্পের উজির আক্কেল আলীও বাদশা শমশের আলীজানের বোকামি বুঝতে পারেননি। তিনি তাকে, সমর্থন দিয়েছেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত রাজাকে খুশি করার জন্য পণ্ডিতের কথামতো মাঝিদের সাহায্যে সমুদ্রের মাঝখানে নেমে ঘুড়ির অর্থ সন্ধান করতে গিয়ে হারিয়ে গেছেন।
উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'পদ্য লেখার জোরে' গল্পের একটি বিশেষ দিককেই নির্দেশ করে, পুরো বিষয়কে নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জীবনে চলতে গেলে সমস্যা আসবেই। তাই সমস্যাকে ভয় না করে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। সামান্য বিষয়ে অসামান্য আয়োজন বা উদ্ভট চিন্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
উদ্দীপকের বাবুর চাকর ভজহরি যে কাজ করেছে তা এক ধরনের বোকামি। এমন না বুঝে কাজ করলে সমস্যার সমাধান না হয়ে অন্য এক সমস্যা তৈরি হয়। এ বিষয়টি 'পদ্য লেখার জোরে' গল্পের আক্কেল আলীর আক্কেলহীন কর্মকান্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকের চাকরকে যেমন বুদ্ধিমান বলা যায় না তেমনই গল্পের আক্কেল আলীকেও আক্কেলসম্পন্ন মানুষ বলা যায় না। এ দিকটি ছাড়া গল্পের অন্য কোনো দিক উদ্দীপকে নেই।
পদ্য লেখার জোরে' গল্পে দেশের আরও লোকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় নিজের নামকে তিনগুণ করে বলার জন্য বাদশা শমশের আলীজানের হুকুম জারি, আক্কেল আলীর সমর্থন, বাদশা ও উজিরকে নিয়ে কবিতা লেখা, ঘুড়ি শব্দের অর্থ খুঁজতে গিয়ে পণ্ডিত ও ছেলেদের ভোগান্তি ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে রাজ্যের অনেক লোকের নাম রাজার নামের সঙ্গে মিলে যায় বলে রাজা অসুবিধায় পড়লেন।
'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে হাস্যরসের মাধ্যমে দুষ্টলোকের স্বাভাবিক পতন তুলে ধরা হয়েছে। গল্পটির ঘটনা আবর্তিত হয়েছে বাদশাহকে ঘিরে। তিনি কোনো একসময় তাঁর নাম নিয়ে খুব অসুবিধায় পড়েন। কারণ, তাঁর নামের সাথে মিলে যায় রাজ্যে এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। বাদশাহর নাম শমশের আলীজান। আবার ছুতোর, কামার, গাছকাটা শিউলি এদের সবার নামও শমশের। এককথায় গোটা রাজ্য যেন শমশেরময় হয়ে আছে। ফলে নামের মাধ্যমে রাজার ক্ষমতা, প্রভাব ও গাম্ভীর্য প্রকাশ পাচ্ছিল না বিধায় বাদশাহ তাঁর নাম নিয়ে চিন্তিত হয়ে যান।
অর্থাৎ, রাজ্যের সাধারণ মানুষের নামের সাথে নিজের নামের সাদৃশ্য থাকায় বাদশাহ অসুবিধায় পড়েছিলেন।
'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে লেখক মাহমুদুল হক হাস্যরসাত্মকভাবে দুষ্টলোকের স্বাভাবিক পতন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও জয় তুলে ধরেছেন। গল্পটির একটি অন্যতম চরিত্র হলো উজির আক্কেল আলী। লেখক এই চরিত্রটিকে বাদশাহর প্রিয় পাত্র ও চাটুকার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে বাদশাহ শমশের আলীজানের মোসাহেব হলো উজির আক্কেল আলী। সে অত্যন্ত ধুরন্ধর ও চাটুকার। বাদশাহর নাম তিনবার উচ্চারণের ঘোষণায় অন্যরা ঠাট্টা করলেও সে খুব খুশি হয় এবং বাদশাহর প্রশংসা করে। চাটুকারিতার মাধ্যমেই সে বাদশাহর সবচেয়ে প্রিয় পাত্র বিশ্বস্ত ব্যক্তি হয়ে ওঠে। উজিরকে বাদশাহ কাউকে ধরে আনতে বললে সে বেঁধে আনে। বাদশাহ হাঁচলে-কাশলে সে ডুকরে কেঁদে ওঠে। বাদশাহর ন্যায়-অন্যায়, ভালো-খারাপ সব সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে উজির তাকে সমর্থন জানায়।
'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে উজির আক্কেল আলী চরিত্রটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মূলত মেরুদণ্ডহীন একটি চরিত্র। তার নিজস্ব কোনো মতামত বা সিদ্ধান্ত নেই। বাদশাহর হ্যাঁ তে হ্যাঁ বলা এবং বাদশাহর তোষামোদ করাই তার প্রধান কাজ। তবে শেষ পর্যন্ত বাদশাহর সামনে বাহাদুরি দেখানোর চেষ্টাই উজিরের ধ্বংসের কারণ হয়ে যায়। সে সমুদ্রের তলদেশ থেকে ঘুড়ি শব্দের অর্থ খুঁজে আনতে গিয়ে ডুবে মারা পড়ে। এক্ষেত্রে গল্পটিতে তোষামোদে ব্যস্ত উজিরের বোকামো ও বিবেচনাবোধের অভাবও পরিলক্ষিত হয়।
সুতরাং, উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, 'পদ্য লেখার জোরে' গল্পে উজির আক্কেল আলী একাধারে চাটুকার, বোকা ও অবিবেচক একটি চরিত্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
