SEATO গঠিত হয় ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং বোঝাপড়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি পরিবেশ হলো দাঁতাঁত। স্নায়ু যুদ্ধের অবসান প্রক্রিয়ায় দাঁতাঁত সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের স্নায়ুযুদ্ধের মিল রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধ কথাটির ব্যবহার সম্ভবত ১৯৪৬ সালের গোড়া দিকে শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গ রাজ্যের ফুলটনে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা থেকেই স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব শক্তিগুলোর উত্থান-পতন ঘটে ও ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই বিশ্বযুদ্ধের মিত্র পক্ষে থাকলেও যুদ্ধ শেষে মতাদর্শগত পার্থক্যসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক মতবাদ এবং আমেরিকা পুঁজিবাদী মতবাদে বিশ্বাসী ছিল। ধীরে ধীরে গোটা বিশ্ব এই দুই পরাশক্তির অধীনে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিরোধ লেগেই থাকত। দুই পরাশক্তির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধভাব চলতে থাকে। দুই শক্তিই নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য NATO, SEATO, CENTO, WARSAW Pact গঠন করে। উদ্দীপকে দেখা যায় পরস্পর বিরোধী দুই আদর্শের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পেিড়। বিশ্বে নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম হয়। বিশ্বের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। পরিশেষে বলা যায় সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদী রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্যই স্নায়ু যুদ্ধের মূল কারণ এবং তাদের বৈরিতা থেকেই বিশ্বের নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম হয়।
উক্ত আদর্শগত দ্বন্দ্ব তথা সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদ পরবর্তীকালে বিশ্ব রাজনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে- উক্তিটি যথার্থ।
১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন-বিশ্বের প্রথম সমাজতান্তিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। লেনিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে সরে এসে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করে এবং দ্রুতই আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটে। পরবর্তীতে স্ট্যালিন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করে। ফলে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, কোরিয়া ও চীনসহ বেশ কিছু দেশ সমাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করে। যেসব দেশ সমাজতান্ত্রিক নীতি গ্রহণ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন গোপনে তাদের অর্থ ও অস্ত্র প্রদান করে। এর ফলে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক আদর্শ হুমকির সম্মুখীন হয়।
সোভিয়েত রাশিয়ার সাম্যবাদী প্রচারণা ও প্রভাবে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভীত সন্ত্রস্ত্র হয় এবং সাম্যবাদী প্রচারণা ও প্রভাব প্রতিহত করার জন্য ধারকনীতি, ট্রুম্যান মতবাদ ও মার্শাল পরিকল্পনা গ্রহণ করে। মার্শাল পরিকল্পনা তার লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হলেও এ পরিকল্পনার ফলে ইউরোপীয় রাজনীতি ও অর্থনীতি দুটি সুস্পষ্ট বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং ঠান্ডা লড়াইয়ের রাজনৈতিক মাত্রা ঘনীভূত হয়। পরিশেষে বলা যায় আদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে সমাজতন্ত্র তথা সাম্যবাদ এবং পুঁজিবাদ পরবর্তীকালে বিশ্ব রাজনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
Related Question
View Allগ্লাসনস্ত নীতির প্রবক্তা সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিখাইল গর্বাচেভ
মার্শাল পরিকল্পনা ও ট্রুম্যান তত্ত্বের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পদক্ষেপ হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিনকে ৪ ভাগে ভাগ করে শাসন শুরু হয়।আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড তাদের অধিকৃত পশ্চিম বার্লিনে সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিলে রাশিয়ার স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমের সাথে পূর্বের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এ অবরোধ প্রায় ১১ মাস ধরে চলার পর স্ট্যালিন প্রত্যাহার করে নেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থানটি আমার পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো এবং ওয়ারশ জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে শক্তির মহড়া দিতে এবং পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রকে প্রতিহত করতে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সে সময় ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ন্যাটো সামরিক জোট। এ জোটের সব দেশ ছিল পুঁজিবাদের সমর্থক এবং সমাজতন্ত্রের বিরোধী। সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে চাপে রাখা এর মূল উদ্দেশ্য ছিল।
অপরদিকে, সামরিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়ারশ কোট গঠন
করে। প্রকৃতপক্ষে, ন্যাটোর কার্যাবলি চ্যালেঞ্জ করার জন্য ওয়ারশ জোট গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯৫৫ সালে এ জোট গঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের যমুনা নদীর তীরবর্তী সালেমপুর ও মকসুদপুর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রামের সাথে পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো ও ওয়ারশ জোটের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত অবস্থাটি অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল বলে আমি মনে করি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর লেনিন ও স্ট্যালিনের দক্ষ নেতৃত্বে সাম্যবাদ শুধু রাশিয়ায় নয়, বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। অল্প সময়ে পার্শ্ববর্তী ১৫টি রাষ্ট্র নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। এর পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকে। অপরদিকে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই সাম্যবাদের গতিরোধ করতে গিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দেয়। স্নায়ুযুদ্ধ ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। এর ফলে Bipolar System প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মূল ধারণা ছিল দ্বিমেরুকরণ। বৈশ্বিক রাজনীতিতে এ দ্বিমেরুকরণের প্রভাব বহু বছর ধরে বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং বলা যায়, উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ- স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল।
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা হয় যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে।
গ্লাসনস্ত শব্দের অর্থ মুক্তাবস্থা বা Open Air. ১৯৯০ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যে মুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, ইতিহাসে তাই গ্লাসনস্ত নামে পরিচিত। বিদ্যমান সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকবে কিনা বা এর পতনের পক্ষে-বিপক্ষে মুক্ত আলোচনার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এ পদক্ষেপটি গৃহীত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!