ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের প্রধান চারটি অঞ্চলে বাস করে।
সাধারণ অর্থে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়।
বিভিন্ন নৃবিজ্ঞানীর সংজ্ঞাসমূহের আলোকে বলা যায়, এথনিক সম্প্রদায় নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকারী, তারা আধুনিক পেশাসহ এক ধরনের নির্দিষ্ট জীবিকা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং তারা বাস করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। সর্বোপরি তাদের জীবন একই ধরনের সামাজিক আচার, প্রথা, বিশ্বাস, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানজুড়ে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় চাকমারা বসবাস করে এবং তাদের গায়ের রং সুন্দর ও ফর্সা, মুখমণ্ডল গোলাকার, ওষ্ঠাধর পাতলা, নাক ট্যাপ্টা এবং দাড়ি-গোঁফ কম। পরিময় ভৌমিক রাঙামাটির বাসিন্দা এবং তার গায়ের রং সুন্দর এবং ফর্সা, মুখমণ্ডল গোলাকার, ওষ্ঠাধর পাতলা, নাক চ্যাপ্টা এবং দাড়ি-গোঁফ কম। এছাড়া পরিমল ভৌমিকের স্বাস্থ্য সুগঠিত এবং উচ্চতা প্রায় ৫-৬ যা চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে। কেননা চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরও স্বাস্থ্য সুগঠিত এবং উচ্চতা গড়ে প্রায় ৫-৬। পরিমল ভৌমিকের ক্ষেত্রে আরও দেখা যায়, সে গ্রামকে আদাম বলে এবং তাদের সমাজে বিদ্যমান সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতম সংগঠন হলো পরিবার যা চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণও গ্রামকে আদাম বলে এবং তাদের সমাজের মধ্যে বিদ্যমান ক্ষুদ্র সংগঠন হলো পরিবার।
চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাড়িঘর ও বিবাহ রীতি বৈচিত্র্যময়। চাকমারা সাধারণত মাটি থেকে প্রায় ৬ ফুট উঁচুতে মাচার ওপর ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করে। ঘরটিকে কয়েকটি কামরায় ভাগ করা হয়। ঘরে ওঠার জন্য তারা মংগু (মই) ব্যবহার করে। সচরাচর ছোট ছোট নদীর তীরে খোলামেলা জায়গায় এদের গ্রামগুলো গড়ে ওঠে। তবে ছোট ছোট পাহাড়ের ওপর তৈরি করা তাদের গ্রামের বাড়িঘরগুলো দেখতে খুবই সুন্দর হয়।
চাকমা সমাজে নিজ বংশের সাত পুরুষের মধ্যে বিবাহ সম্বন্ধ স্থাপন নিষিদ্ধ। এদের মাঝে অন্তর্বিবাহ ও বহির্বিবাহ উভয়টিই প্রচলিত রয়েছে। চাকমা সমাজে বহু স্ত্রী বিবাহ ও বিধবা বিবাহের অনুমোদন রয়েছে। এছাড়া প্যারালাল কাজিন বিবাহও সীমিত অর্থে প্রচলিত রয়েছে ঠিক, তবে আপন চাচাতো ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে অনুষ্ঠানে সামাজিকভাবে বিধি-নিষেধ রয়েছে। সহজ কথায় পাত্রী পছন্দের ব্যাপারে অভিভাবকের মতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। চাকমাদের বিবাহ রীতিতে সাধারণত বর কনের বাড়িতে যায় না। বরপক্ষের লোকেরা গিয়ে কন্যাকে তুলে এনে বরের বাড়িতেই বিবাহের সামাজিক অনুষ্ঠান পালন করে। সাধারণত চাকমাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিবাহ দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- বন্দোবস্ত বিবাহ ও রোমান্টিক বিবাহ। চাকমা সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনারও প্রচলন রয়েছে।
Related Question
View All১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়।
চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডি এন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্কসবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীর লেখা পাওয়া যায়। এসব সমাজচিন্তাবিদগণ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেন। যার ফলে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে 'ক' দ্বারা সমাজবিজ্ঞান বিষয়কে নির্দেশ করা হচ্ছে।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। ১৯৪৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দখলকারী ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি অর্জনের আগে চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডিএন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্ক্সবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীদের লেখা পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- এমএন রায়, মোজাফফর আহমদ, সুশোভন সরকার, গোপাল হালদার ও বিনয় ঘোষ। এসব সমাজচিন্তাবিদ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেছেন। এসব সমাজচিন্তাবিদদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সমাজবিজ্ঞান বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা করে। এ বর্ণনার আলোকে বলা যায়, এখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ অর্থে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলর সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র গোষ্ঠীকেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে জেরি ও জেরির ভাষায়, 'ক্ষুদ্র গোষ্ঠী হলো মানুষের এমন এক গোষ্ঠী যারা স্বতন্ত্র ইতিহাসের সম্মিলিত অনুভূতি থেকে উৎসারিত একটি পরিচয় বহন করে'। প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরই নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রথা, আদর্শ, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থাকে। নৃবিজ্ঞানী ন্যারোল-এর মতে, অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন সম্পর্কে দলীয় সচেতনতা হলো ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর সদস্যদের মূল উপাদান। অন্যদিকে, নৃবিজ্ঞানী কোহেন ও ইয়ামস ক্ষুদ্র সম্প্রদায় তথা উপজাতি বলতে এমন এক জনগোষ্ঠীকে বুঝিয়েছেন, যারা তাদের জীবিকার জন্য খাদ্যসংগ্রহ, উদ্যান, কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। আবার উইলিয়াম পি. স্কট-এর মতে, যে গোষ্ঠীর সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং যারা নিজস্ব পরিচিতিসহ বৃহৎ কোনো সমাজের উপগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে তারাই হলো ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। এসব সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকারী, তারা আধুনিক পেশাসহ এক ধরনের নির্দিষ্ট জীবিকা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং তারা বাস করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। সর্বোপরি তাদের জীবন একই ধরনের সামাজিক আচার-আচরণ, প্রথা, বিশ্বাস, বিচারব্যবস্থা, অনুসরণীয় রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।
ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রামে ক্ষমতার বিকাশ ও প্রয়োগ ঘটে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, “শ্রেণিসমূহের অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ সমাজে সামাজিক শক্তিসমূহ যে কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়, তাকে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলা যেতে পারে।” উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভূমি মালিক ও বর্গা চাষিদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় শ্রেণিই গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অংশ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!