পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
ভূমিকা: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অংশ। পৃথিবীতে সুখী জীবনযাপন করতে হলে মানুষের সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজন। আর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। শরীর ও মন সকল প্রকার রোগ থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে সজাগ দৃষ্টি দেওয়া। ব্যক্তিজীবন পরিবার এবং আশপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আবশ্যক।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকটি মানুষের শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার, চুল কাটা, নখ কাটা, ক্ষতিকর লোম উৎপাটন করা, চোখ-নাক-কান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। যাতে কোনো প্রকার রোগ জীবাণু মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে না পারে। নিয়মিত সাবান শ্যাম্পু গোসলে ব্যবহার এবং প্রস্রাব ও পায়খানার পর সাবান বা স্যাভলন দিয়ে হাত-পা ধোয়া প্রয়োজন। খাবার গ্রহণের পূর্বে ভালোভাবে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ।
পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা: ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন ব্যবহৃত পোশাক পরিষ্কার করতে হয়। পোশাকেও পরিবেশ থেকে রোগজীবাণু লেগে থাকতে পারে। ময়লা কাপড়ে বেশি রোগজীবাণু বাসা বাঁধে। তাই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিয়মিত পোশাক পরিচ্ছদ পরিচ্ছন্ন রাখা মানুষের কর্তব্য।
ঘরবাড়ির পরিবেশ সুন্দর রাখতে: বাড়িঘরের পরিবেশ সুষ্ঠু সুন্দর রাখতে প্রতিদিন দুইবেলা ঘর ঝাড়ু দেওয়া, বাড়ির আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং বাড়ির আশপাশের বন-জঙ্গল-আগাছা উৎপাটন করা দরকার। তা না করলে বাড়ির আশপাশে রোগজীবাণু নানারকম ক্ষতিকর জীব-জন্তু আবাসস্থল গড়ে নিতে পারে। তার ফলে ওই সকল ক্ষতিকর জন্তুর বিষাক্ত ছোঁবল ও কামড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে।
স্কুল-কলেজের পরিবেশ সংরক্ষণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ভালো স্থানে বসে পাঠ গ্রহণ করলে, পাঠ গ্রহণের ও জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহ জন্মে। স্কুল-কলেজের কক্ষ ও অজ্ঞান সবসময় নোংরা-কাগজ, অপদ্রব্য মুক্ত করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ সুরক্ষায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন। যাতে শিক্ষার্থীদের শরীর ও মন ভালো থাকে।
বিছানা-বালিশ পরিচ্ছন্ন রাখা: বিছানা বালিশের কাপড় ও চাদর দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে নেই। তা প্রয়োজনে প্রতিদিন ব্যবহারের পর সাবান দিতে ধুতে হবে। মাঝে মাঝে ওই সকল কাপড় বদলাতে হবে।
শৌচাগার পরিচ্ছন্ন রাখা: শৌচাগার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। যেখানে-সেখানে মল-মূত্র ত্যাগ করা চলবে না। অন্যথায় নানা প্রকার রোগ ছড়াতে পারে। নির্দিষ্টস্থানে শৌচাগার তৈরি করতে হবে। তা ব্যবহার করতে হবে।
ঘরবাড়ির নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: বাড়িঘরের বাথরুমের ময়লা পানি বের করার জন্য নর্দমা পরিষ্কার রাখতে হবে।
রোগ-প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: রোগ নিরাময়ের জন্য ওষুধ সেবন করা অপেক্ষা অধিক কার্যকরী রোগ প্রতিরোধে সচেষ্ট হওয়া। তার জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। নিয়মিত গোসলের মাধ্যমে আমাদের দেহের ত্বক রোগজীবাণু মুক্ত রাখতে পারি। খাবার প্রস্তুতের আগে এবং খাবার খাওয়ার আগে আবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। টাটকা খাবার খেতে হবে। বাসি-পচা খাবার খাওয়া যাবে না। এভাবে নিজেরা পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রেখে অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে পারি।
উপসংহার: স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার। নিজে পরিষ্কার থাকা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। নোংরা পরিবেশ সবার জন্য ক্ষতিকর। তাই নিজেরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকি ও পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন রাখি। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।
প্রবন্ধ-রচনার কৌশল
প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়
প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-
১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।
২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।
৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।
৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।
৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।
৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!