উত্তরঃ
দৈবায়িত ব্লক নকশা (Randomized Block Design - RBD) হলো পরীক্ষামূলক নকশার একটি পদ্ধতি যেখানে সমজাতীয় পরীক্ষামূলক এককগুলোকে (experimental units) পূর্ব-নির্ধারিত ব্লক বা গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ব্লকের অভ্যন্তরে পরীক্ষামূলক এককগুলো যথাসম্ভব সমজাতীয় হয়, কিন্তু ব্লকগুলোর মধ্যে অসমজাতীয়তা থাকতে পারে। প্রতিটি ব্লকের অভ্যন্তরে প্রতিটি চিকিত্সা (treatment) একবার করে দৈবচয়নের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। এই নকশার মূল উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষামূলক ত্রুটি (experimental error) হ্রাস করা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্ভুলতা বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে যখন পরীক্ষামূলক উপাদানের মধ্যে তারতম্য থাকে যা পরীক্ষার ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই নকশার মাধ্যমে, ব্লকগুলোর কারণে সৃষ্ট তারতম্যকে আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়, ফলে চিকিত্সার প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়। কৃষি, জীববিজ্ঞান, ঔষধপত্র পরীক্ষা এবং শিল্প গবেষণা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৈবায়িত ব্লক নকশা বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে বিভিন্ন অবস্থার কারণে পরীক্ষামূলক উপাদানের মধ্যে সহজাত তারতম্য বিদ্যমান থাকে।
দৈবায়িত ব্লক নকশার ক্ষেত্রে উপাত্ত বিশ্লেষণ পদ্ধতি:
দৈবায়িত ব্লক নকশার উপাত্ত বিশ্লেষণের জন্য প্রধানত তারতম্য বিশ্লেষণ (Analysis of Variance - ANOVA) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে উপাত্তের মোট তারতম্যকে বিভিন্ন উৎস বা কারণে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি উৎসের তারতম্যের অবদান পরীক্ষা করা হয়। আরবিডি (RBD) এর জন্য আনোভা মডেলটি সাধারণত নিম্নরূপ:
১. কল্পিত অনুমান (Hypotheses Formulation):
শূন্য অনুমান (Null Hypothesis), \(H_0\): সমস্ত চিকিত্সার গড় প্রভাব সমান। অর্থাৎ, চিকিত্সার মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।
বিকল্প অনুমান (Alternative Hypothesis), \(H_1\): অন্তত একটি চিকিত্সার গড় প্রভাব ভিন্ন। অর্থাৎ, চিকিত্সার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান।
২. তারতম্যের উৎস (Sources of Variation): দৈবায়িত ব্লক নকশার ক্ষেত্রে উপাত্তের মোট তারতম্যকে তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত করা হয়:
চিকিত্সার কারণে তারতম্য (Variation due to Treatments): এটি বিভিন্ন চিকিত্সার কারণে ফলাফলে যে পার্থক্য হয় তা পরিমাপ করে।
ব্লকের কারণে তারতম্য (Variation due to Blocks): এটি ব্লকগুলোর মধ্যেকার অসমজাতীয়তার কারণে ফলাফলে যে পার্থক্য হয় তা পরিমাপ করে। এই তারতম্যকে পরীক্ষামূলক ত্রুটি থেকে আলাদা করা হয়।
ত্রুটির কারণে তারতম্য (Variation due to Error): এটি অনিয়ন্ত্রিত বা অজানা কারণসমূহের ফলে সৃষ্ট অবশিষ্ট তারতম্যকে নির্দেশ করে। এটি একটি পরিমাপ, যা চিকিত্সা এবং ব্লকের প্রভাব বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট থাকে।
৩. তারতম্য বিশ্লেষণ সারণী (ANOVA Table): উপাত্ত বিশ্লেষণের ফলাফল সাধারণত একটি ANOVA সারণীতে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে নিম্নলিখিত উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:
স্বাধীনতার মাত্রা (Degrees of Freedom - df): প্রতিটি তারতম্যের উৎসের জন্য স্বাধীনতার মাত্রা গণনা করা হয়।
বর্গের সমষ্টি (Sum of Squares - SS): প্রতিটি তারতম্যের উৎসের জন্য বর্গের সমষ্টি গণনা করা হয়, যা তারতম্যের পরিমাণ নির্দেশ করে।
গড় বর্গ (Mean Squares - MS): বর্গের সমষ্টিকে স্বাধীনতার মাত্রা দিয়ে ভাগ করে গড় বর্গ (MS) পাওয়া যায়।
F-পরিসংখ্যান (F-statistic): এটি চিকিত্সার গড় বর্গ (MSTreatment) এবং ত্রুটির গড় বর্গ (MSError) এর অনুপাত (MSTreatment/MSError) হিসেবে গণনা করা হয়।
৪. সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decision Making): গণনাকৃত F-পরিসংখ্যানকে একটি নির্দিষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ স্তরে (যেমন: 5% বা 1%) F-বণ্টনের সারণীভুক্ত মানের (table value) সাথে তুলনা করা হয়।
যদি গণনাকৃত F-মান সারণীভুক্ত F-মানের চেয়ে বড় হয়, তাহলে শূন্য অনুমান প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর অর্থ হলো, চিকিত্সার মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান।
যদি গণনাকৃত F-মান সারণীভুক্ত F-মানের চেয়ে ছোট হয়, তাহলে শূন্য অনুমান গ্রহণ করা হয়। এর অর্থ হলো, চিকিত্সার মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।
আনোভা (ANOVA) এর মাধ্যমে, দৈবায়িত ব্লক নকশা পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা এবং নির্ভুলতা বৃদ্ধি করে, কারণ এটি পরীক্ষামূলক ত্রুটি থেকে ব্লকগুলোর প্রভাবকে কার্যকরভাবে পৃথক করে দেয়।