ইমাম মালিক (র) কর্তৃক সংকলিত বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থের নাম হলো- মুয়াত্তা।
আলোচ্য হাদিসাংশে অত্যাচারী ভাইকে অত্যাচার থেকে বিরত রেখে সাহায্য করতে বলা হয়েছে। জুলুম একটি অমার্জনীয় গর্হিত কাজ। কাউকে তার প্রাপ্য হক ও অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নিপীড়ন করাকে জুলুম বলে। আর যে জুলুম করে তাকে জালিম বলে। এক মুমিন অপর মুমিনের ভাই। তাই মহানবি (স) জালিমকে জুলুম করা থেকে বিরত রেখে সাহায্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা জালিম ব্যক্তি জুলম করে নিজের পার্থিব কল্যাণ ও পরকালীন সাফল্যের সম্ভাবনা ধ্বংস করে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। সুতরাং জালিমকে জুলম করা হতে বিরত রাখতে হবে যাতে আর কেউ জুলুমের স্বীকার না হয়।
হাদিসের আলোকে ড. মাহির মদপানের ফলে ইহকালীন ও পরকালীন পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসলাম মানবতার রক্ষাকবচ। মানুষের জন্য ক্ষতি হয় এমন সব বস্তু ইসলাম হারাম করেছে। ইসলামে যেসব বস্তু হারাম তন্মধ্যে মদ অন্যতম। মদ নেশা তৈরি করে। রাসুল (স) বলেছেন, 'প্রত্যেক নেশাজাতীয় বস্তু মদ। আর প্রত্যেক মদ হারাম।' মদ কেবল নিজে অপবিত্র নয় বরং আরো অসংখ্য অপবিত্র কাজের উৎস। রাসুল (স) বলেন, 'মদ সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার জননী।' আর এ ধরনের নেশায় অভ্যস্ত উদ্দীপকের মাহির।
উদ্দীপকের ড. মাহির একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। ছুটি পেলে সে মাদকদ্রব্য পান করে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। দুনিয়াতে ও আখিরাতে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। মদের দ্বারা শুধু ধর্মীয় ক্ষতি সাধিত হয় না বরং দৈহিক ও মানসিক ক্ষতিও হয়। মদপানের ফলে মানুষের চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে পর্যায়ক্রমে তার শরীরে অপুষ্টির উন্মেষ ঘটে। এটি পানের ফলে লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মদ ও নেশাগ্রস্ততা মানব চরিত্রের ধ্বংসের এবং সব অশ্লীল ও অনৈতিক কাজের মূল প্রেরণা। মদ পানকারী তার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। একারণে তার মাধ্যমে সব ধরনের অনৈতিক কাজ ঘটে থাকে। এর ফলে তাকে পরকালেও করুন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
শিফা বাবা-মায়ের চেয়ে রাসুল (স) কে বেশি ভালোবাসে। আর এ ভালোবাসার প্রভাব অপরিসীম। রাসুল (স)-কে ভালোবাসা ছাড়া ইমানদার হওয়া যায় না। আর এ ভালোবাসার পরিচয় দিতে হবে তাঁকে পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন- (হে রাসুল) আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাও, তবে আমাকে অনুসরণ কর (আলে ইমরান: ৩১)। রাসুল (স)-এর প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা ছাড়া বাস্তবজীবনে তাঁর আদর্শের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আর শিফার চরিত্রে এ ভালোবাসা লক্ষ্য করা যায়।
উদ্দীপকের শিফা একজন পর্দাশীল মেয়ে। মাদকাসক্ত ড. মাহিরের সাথে তার বিয়ে ঠিক হলেও সে অস্বীকৃতি জানায়। এজন্য তার মা তাকে বলে, 'তুমি কি তোমার বাবা-মাকে ভালোবাস না?' সে বলে ভালোবাসি। তবে একজনকে পৃথিবীর সব কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসি। তার আদর্শের বিপরীত কোনো কিছু আমি মানতে পারবো না। একজন মুসলিম হিসেবে তার এ কথা যথার্থ। কারণ, 'রাসুল (স)-এর প্রতি ভালোবাসাই পরিপূর্ণ ইমানদারের পরিচয় বহন করে। মুমিনের কর্তব্য হলো রাসুল (স)-এর প্রেমের ওপর অন্য কাউকে প্রধান্য না দেয়া।
সুতরাং বলা যায় যে, পার্থিব ও পরকালীন পরিপূর্ণ সাফল্য লাভের জন্যে এবং ইমানের পূর্ণতা সাধনের জন্য রাসুল (স)-এর ভালোবাসার বিকল্প নেই।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!