হুমায়ুনের রোগ দুরন্ত অর্থাৎ প্রতিবিধান কষ্টসাধ্য এমন রোগ।
অসুস্থ ছেলের জীবননাশের আশঙ্কায় বাদশা বাবর চোখে অন্ধকার দেখছিলেন।
বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাগত। কোনো চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রমাগত হুমায়ুন মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ কেউ তার রোগমুক্তির কোনো ভরসা দিতে পারছেন না। এমতাবস্থায় প্রিয় সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় বাদশা বাবর চোখে অন্ধকার দেখছিলেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সন্তানের অসুস্থতায় দিশেহারা বাবার মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশ হওয়ার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
সন্তানের সুখ, সুস্থতা সব বাবা-মায়ের একমাত্র কামনা। বাবা-মা সন্তানের খুশি মুখটা দেখে নিজেদের সব কষ্ট ভুলে যান। সন্তানের মুখের হাসি বাবা-মায়ের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
উদ্দীপকের পল্লিজননী সুফিয়া তার একমাত্র ছেলের অসুস্থতায় দিশেহারা। সন্তানকে হারানোর চিন্তায় অস্থিরতায় তিনি চারদিকে অন্ধকার দেখতে লাগলেন। পরিচিত সব ডাক্তার-কবিরাজ দিয়ে তিনি ছেলের চিকিৎসা করান। তবু রোগ মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না। এমনকি ডাক্তার-কবিরাজের কাছে জিজ্ঞাসা করলেও তারাও কোনো ভরসা দিতে পারছেন না। 'জীবন বিনিময়' কবিতায়ও সম্রাট বাবর তাঁর সন্তানের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন। বিজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে তিনি সন্তানের চিকিৎসা করালেও ভালো কোনো ফল আসছে না, এমনকি কেউ ভালো হওয়ার কোনো আশাও দিতে পারছেন না। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সন্তানের অসুস্থতায় দিশেহারা বাবার মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশ হওয়ার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকের পল্লিজননী সুফিয়া এবং 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর একই ব্যথায় ব্যথিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সন্তানের অসুস্থতা সব বাবা-মায়ের কষ্টের কারণ। আর সন্তান যদি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয় তাহলে বাবা-মা গভীর বেদনায় মুষড়ে পড়েন। সন্তানের কষ্ট কোনো বাবা-মা সহ্য করতে পারেন না।
উদ্দীপকের পল্লিজননী সুফিয়া তার একমাত্র ছেলের অসুস্থতায় চারদিকে অন্ধকার দেখতে লাগলেন। সন্তান হারানোর ভয় তাকে সারাক্ষণ তাড়া করে ফেরে। তিনি সন্তানের কষ্টে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্নভাবে সন্তানকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। ভালো কোনো ফল না দেখতে পেয়ে তিনি আরও বেশি ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার-কবিরাজ কেউ কোনো ভরসা না দেওয়ায় সন্তান হারানোর ভয় তার হৃদয়কে বেদনাভারাক্রান্ত করে। 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরও একই ব্যথায় জর্জরিত। তিনিও তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। কারণ নানাভাবে সন্তানের চিকিৎসা করালেও ভালো কোনো ফল দেখতে পাচ্ছেন না।
একমাত্র সন্তানকে রোগশয্যায় দেখে উদ্দীপকের মা সুফিয়া হতাশা ও যন্ত্রণায় নিমজ্জিত। 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরও পুত্র হুমায়ূনের অসুস্থতার কথা ভেবে বেদনাহত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের হৃদয় যেন শেলবিদ্ধ। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'জীবন বিনিময়' কবিতায় প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবনকে 'সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন' বলা হয়েছে।
কবি 'জীবন বিনিময়' কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন হুমায়ুনের রোগমুক্তির উপায় নেই এমন ভাব প্রকাশ পাওয়ায়।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাবরপুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত চিকিৎসক আছেন সবাই আসার পরও হুমায়ুনের রোগমুক্তির কোনো উপায় হয় না। একসময় বাবর যখন রাগান্বিত হয়ে চিকিৎসকদের বলেন, রোগ থেকে বাদশাজাদার মুক্তি মিলবে কি না, তখন রোগ থেকে মুক্তি সম্ভব নয় ভেবে চিকিৎসকরা নীরব থাকেন। এ কারণেই নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলা হয়েছে।
উৎপলকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের যে পরিচয় মেলে তা হলো পুত্রের জন্য পিতার আত্মত্যাগ।
সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহের তুলনা হয় না। পিতা হলেন সন্তানের জীবনের প্রধান ছায়া। পিতা সন্তানের সুখের জন্য হাজারো কষ্ট সহ্য করেন। সন্তানকে ভালো রাখতে পিতার চেষ্টার শেষ নেই।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়। রাজ্যের কোনো চিকিৎসক তার রোগমুক্তির উপায় বের করতে পারেন না। শেষে যখন এক দরবেশ বাবরকে শ্রেষ্ঠ ধন কোরবানি দিতে বলেন তখন তিনি নিজের প্রাণই দিয়ে দেন। সন্তানকে ভালো রাখার জন্য এমন আত্মত্যাগ উদ্দীপকের উৎপলের পিতার মধ্যেও দেখা যায়। যখন তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তখন উৎপলকে সরিয়ে তার পিত্য ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হন। এভাবে উদ্দীপকের পিতার মাঝে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের আত্মত্যাগের পরিচয় মেলে।
"ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জগতে পিতা ও সন্তানের সম্পর্ক চিরন্তন। সন্তানের সুখের জন্য অনেক পিতা নিজ জীবন পর্যন্ত দিয়ে দেন। আবার সন্তানও পিতাকে অনেক শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে। তারা একে অপরের ঢালস্বরূপ।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের এক মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে। কবিতায় মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। বিজ্ঞ চিকিৎসকেরা তার রোগমুক্তির কোনো উপায় বের করতে পারেন না। তারপর এক দরবেশ যখন বাবরকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন কোরবানি করতে বলেন তখন বাবর উপলব্ধি করেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ধন হলো নিজের প্রাণ। তিনি বিধাতার কাছে নিজের প্রাণের বিনিময়ে অসুস্থ পুত্রের প্রাণভিক্ষা চান। উদ্দীপকেও পুত্রের প্রতি পিতার ভালোবাসার দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। তবে 'জীবন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহ অনেক বেশি হৃদয়স্পর্শী।
উদ্দীপক ও কবিতা উভয় জায়গাতেই পিতার অপত্যস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। তবে আলোচ্য কবিতায় পিতার প্রাণদানের বিনিময়ে পুত্রের প্রাণরক্ষা অনেক বেশি মর্মস্পর্শী। উদ্দীপকে এমন কিছুর ইঙ্গিত নেই। উদ্দীপকে পিতা ও পুত্র দুজন দুজনের ঢালস্বরূপ। তাই বলা যায়, ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'জীরন বিনিময়' কবিতার ঘটনাপ্রবাহের সমার্থক নয়।
'জীবন বিনিময়' কবিতায় রোগ হলো বাদশাজাদা হুমায়ুনের।
"জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অন্তরবির প্রায়"- কথাটি দ্বারা কবি বোঝাতে চেয়েছেন, বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবন অন্তপ্রায় সূর্যের মতো শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত বিজ্ঞ হাকিম, কবিরাজ, দরবেশ দিন-রাত তার চিকিৎসায় ব্যস্ত। সেবা-যত্নের কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু বাদশাজাদার কঠিন রোগ কিছুতেই সারে না। যত দিন যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ অস্তপ্রায় সূর্যের মতো নিভে যেতে বসেছে। দিনের শেষে সূর্য যেমন পশ্চিম দিগন্তে হারিয়ে যায় তেমনই বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবনও শেষ হয়ে যাচ্ছে- কবি প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!