কাঠামো অনুযায়ী পরিবার তিন প্রকার।
পরিবার হলো একটি গোষ্ঠী বা সংগঠন। পরিবারের প্রধান কাজ সন্তান জন্মদান ও তাকে লালন পালন করা। পরিবারে প্রত্যেক সদস্যদেরই সমাজের প্রতি কিছু দায়িত্ব থাকে। যে ব্যক্তি যে সমাজে বাস করে তাকে সে সমাজের অনুগত হতে হয়। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক, ধর্মীয়, বিনোদনমূলক ও সামাজিক কাজ করে থাকে। প্রতিটি পরিবারই উল্লিখিত কাজগুলো পালন করে থাকে।
রিয়াদের পরিবারে রয়েছে পাঁচ ভাইবোন। এছাড়াও তাদের পরিবারে বাস করে দাদা-দাদি ও চাচা-চাচি। রিয়ার বাবা ছোট একটি প্রতিষ্ঠানে পিয়নের চাকরি করেন। ফলে তার স্বল্প আয়ে তাদের পরিবার চালানো কষ্টকর। আবার দেখা যায়, রিয়ার মা ও ছোট ভাইটি প্রায়ই অসুস্থ থাকে। উল্লিখিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলা যায় রিয়ার বাবা-মা তাদের আর্থিক ও মানসিক সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের সন্তান সংখ্যা নির্ধারণ করে সুস্থ ও সবল সন্তানের মাধ্যমে পরিকল্পিত পরিবার গঠনে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের এই অপরিকল্পিত পরিবারই রিয়ার মা ও ভাইয়ের অসুস্থতার কারণ। অপরিকল্পিতভাবে রিয়ার মায়ের ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের কারণে তার স্বাস্থ্যহানি ঘটেছে। নিজে অসুস্থ থাকায় তিনি সন্তানদেরও যত্ন নিতে পারেন না। ফলে তারাও অযত্নে ও অবহেলায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। পারিবারিক আয়ের তুলনায় সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় রিয়াদের পরিবারে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব রয়েছে। ফলে পরিবারের মা ও শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। অর্থাভাবে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হয়। তাই বলা যায়, অপরিকল্পিত পরিবারই রিয়ার মা ও ছোট ভাইয়ের অসুস্থতার কারণ।
পরিকল্পিত পরিবার সন্তান পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক।
পরিকল্পিত পরিবারে পারিবারিক সচ্ছলতা বজায় থাকে বলে সন্তানদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়। সন্তানদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আহার ইত্যাদির সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকে। পিতামাতা সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় ও স্নেহ দিতে পারেন বলে সন্তানদের সাথে তাদের পারিবারিক বন্ধন অটুট হয়।
মাসুদ আহমেদের অপরিকল্পিত পরিবারটি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়। লোকসংখ্যা বেশি হওয়ায় আর্থিক সংকটে তাদের দিন যাপন করতে হয়। কিন্তু পরিকল্পিত পরিবারে পিতা-মাতার আর্থিক ও মানসিক সঙ্গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত হওয়া প্রয়োজন তা পূর্ব থেকেই নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে।
পরিকল্পিত পরিবারে সন্তান সংখ্যা সীমিত থাকে বলে পিতা-মাতা সন্তান পালনের পর নিজেদের যত্ন নিতে পারেন। সন্তান পালনে মায়ের স্বাস্থ্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে না। সন্তানদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ সুষ্ঠু হয় এবং তাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা সহজ হয়। মাসুদ সাহেবের পরিবারটি পরিকল্পিত হলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সমস্যা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, আর্থিক সংকট ইত্যাদি সমস্যায় তাকে পড়তে হত না।
পরিকল্পিত পরিবারে পিতামাতা ও সন্তানের মধ্যে মধুর সম্পর্ক থাকায় ছেলেমেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে না বরং আত্মবিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে বেড়ে ওঠে।
Related Question
View Allপরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে
যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।
নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।
মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।
সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।
যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।
সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।
যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রূপান্তর।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।
পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!