রাসুল (স) এর যুগে ফিকহ-এর মূলভিত্তি স্থাপিত হয়।
হিদায়েতের পথ নির্দেশ করে ফিকহশাস্ত্র ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীকে পরিণত করে। ফিকহশাস্ত্র চর্চা, সাধনা, গবেষণার ফলে মানুষ শরিয়তের সমস্ত বিধান সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে। বিভিন্ন বিধান প্রবর্তনের কারণ ও তাদের অবস্থানগত মর্যাদা সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করতে সক্ষম হয়। ফলে জ্ঞাত ব্যক্তিকে সহজে বিপথগামী করা যায় না। হাদিসে এসেছে- একজন ফিকহবিদ এক হাজার আবিদের চেয়েও শয়তানের ওপর অধিক শক্তিশালী।
বিচারক তার রায়ে হানাফি মাযহাবের অনুসরণ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা (র) প্রবর্তিত মাযহাব হানাফি মাযহাব নামে পরিচিত। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মুসলিম এই মাযহাবের অনুসারী। অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় এই মাযহাবে মানুষের কল্যাণকামিতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, পার্থিব প্রয়োজনাদির ক্ষেত্রে সহজতা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকেও ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের সুলতানা তার বাবা-মায়ের অমতে নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করে। ফলে সুলতানার বাবা সুলতানা ও তার বরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। কিন্তু মামলার বিচারক সুলতানার পক্ষ্যে রায় দেন। বিচারকের প্রদত্ত রায় হানাফি মাযহাবের নীতির সাথে সাদৃশপূর্ণ। কেননা বিয়ের ক্ষেত্রে হানাফি মাযহাবে প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের মতামত ও পছন্দের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে। শাফিঈ মাযহাবে প্রাপ্ত বয়স্ক কন্যা তার নিজের বিয়ের হকদার নয় বরং এ অধিকার অভিভাবকদের। কিন্তু হানাফি মাযহাব ইসলাম নর-নারীকে সমান মর্যাদা দিয়েছে এই তত্ত্বে বিশ্বাসী। এ কারণে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের মতামত ও পছন্দকে হানাফি মাযহাবে মূল্যায়ন করা হয়। উদ্দীপকের বিচারকের রায়েও নারীর মতামত ও পছন্দের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের সিদ্ধান্তটি ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উৎস কিয়াসের বিধান অনুসারে গৃহীত হয়েছে। কিয়াসের বিধান অনুসারে মদ হারাম। কেননা মদ মানবদেহে মাদকতা তৈরি করে। এতে মানুষের চেতনা লোপ পায়। এজন্য আল্লাহ তায়ালা মদপান হারাম করেছেন। সুতরাং, মাদকতা তৈরি করে এমন ধরনের আধুনিক নেশাজাতীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রেও কিয়াসের উক্ত বিধান কার্যকর হবে। উদ্দীপকে সেটিরই দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পাকিস্তানে কিছু বোতলজাত কোমল পানীয়ের মধ্যে নেশাজাতীয় উপাদান পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার খুব দ্রুত এ ধরনের কোমল পানীয় বাজারে নিষিদ্ধ করেন। এক্ষেত্রে তিনি কিয়াসের বিধানকে অনুসরণ করেন। কেননা এ ধরনের পানীয় মানুষ পান করলে শরীরে মাদকতা আসবে। তাই মদ্যপানের বিধানের সাথে সাদৃশ্য রেখে উদ্দীপকে উল্লেখিত বোতলজাত পানীয়কে হারাম ঘোষণা করা যায়। সরকারের সিদ্ধান্তেও এ বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে নেশাজাতীয় উপাদান মিশ্রিত পানীয় পানের নিষেধাজ্ঞাটি কিয়াসের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে।
Related Question
View Allসিহাহ সিত্তাহ বলতে বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে বোঝায়। হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগে হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে ছয়জন মুহাদ্দিস এবং তাদের সংকলিত গ্রন্থ বিশেষ প্রাধান্য পায়। এগুলো সর্বজনীন ও সর্বাঙ্গীন বিশুদ্ধতার স্বীকৃতি লাভ করে। ইলমে হাদিসের পরিভাষায় তাদের সংকলিত বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়। এগুলো হলো- সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযি, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবন মাজাহ ও সুনানে আবু দাউদ। হাদিস সংকলকদের নাম অনুযায়ী উক্ত হাদিস গ্রন্থগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।
জনাব ময়নুল দ্বিতীয় উৎস হিসেবে হাদিস অধ্যয়ন করেন- যার গুরুত্ব অপরিসীম।
হাদিস অর্থ- কথা বা বাণী। ইসলামি পরিভাষায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে হাদিস বলে। হাদিস হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি আল কুরআনের মূলনীতিসমূহের বাস্তবরূপ ও ব্যাখ্যা। উদ্দীপকে এ উৎসের আলোকপাত হয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব ময়নুল কুরআনের ব্যাখ্যা বোঝার জন্য হাদিস অধ্যয়ন করেন। মূলত ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস হলো হাদিসের জ্ঞান। মানুষ জীবন চলার পথে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্ভূত সব সমস্যার সমাধান দিতে হাদিস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। হাদিস মুসলমান জাতির জন্য জীবন চলার অন্যতম উপকরণ। ইসলামি জীবনধারার অন্যতম শর্ত হলো আল্লাহর বন্দেগি বা ইবাদত করা। এ ইবাদত কীভাবে করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রদান করেছে হাদিস। একজন মুসলমানের সামগ্রিক আচার-আচরণ কেমন হবে তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছে হাদিস। আর মহানবি (স) ছিলেন পরিচ্ছন্ন আচার- আচরনের বাস্তব প্রতিকৃতি। সুতরাং ইসলামি জীবনধারায় প্রত্যেক মুসলমানের জীবনাচরণ নিয়ন্ত্রিত হবে হাদিসের আলোকে।
উদ্দীপকে মাওলানা ফখরুলের কর্মটি ফিকহশাস্ত্র নিয়ে। ইসলামি শিক্ষা প্রসারে যার গুরুত্ব অপরিসীম। ফিকহ শব্দের অর্থ- অনুধাবন করা, বুঝতে পারা ইত্যাদি। পরিভাষায় যে শাস্ত্রে কর্মসংক্রান্ত তথা ব্যাবহারিক জীবনের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত শরিয়তের হুকুম-আহকাম ও বিধি-বিধান আলোচিত হয়, সে শাস্ত্রকে বলা হয় ফিকহশাস্ত্র বা ইলমুল ফিকহ। উদ্দীপকে এ শাস্ত্রেরই ইঙ্গিত এসেছে।
উদ্দীপকের মাওলানা কুরআন হাদিস গবেষণা করে এর বিধি-বিধান একটি বইয়ের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। তার কাজটি ইসলামি আইন সম্পর্কিত জ্ঞান প্রসারে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। কেননা কুরআন নাজিল সমাপ্তি ও রাসুলুল্লাহ (স)-এর ইন্তেকালের পর সর্বসাধারণের উপযোগী করে শরয়ি বিধান পরিবেশনের জন্য মূলনীতি ও বিধানাবলির চুলচেরা বিশ্লেষণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া কুরআন-হাদিসের অবিন্যস্ত ও বিক্ষিপ্ত বর্ণনা ইসলামি আইনের বিন্যাস ও সহজ উপস্থাপনার উপযোগিতা সৃষ্টি করে। ফিকহশাস্ত্র শরয়ি বিধানের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেয়। বিধান গুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুসারে এগুলোকে বিন্যস্ত করে সব দেশের সাধারণ মানুষের উপযোগী করে। সর্বোপরি এ শাস্ত্রবিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে সহজ উপস্থাপনার রীতি গ্রহণ করে আপামর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মানুশীলনকে সহজসাধ্য করেছে।
আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে গভীর সংযোগকারী বিষয় হলো- ইবাদত।
ইসলামের প্রসারের ফলে সাহাবিদের যুগে ফিকহশাস্ত্র বিকশিত হয়। সাহাবিদের যুগে ইসলাম দেশ-দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়। সাহাবিগণ সম্মিলিতভাবে কুরআন-হাদিসের মূলনীতির আলোকে এসব সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ চেষ্টায় তারা ইজতিহাদের সূচনা করেন। এরপর ইজতিহাদি বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত করে সমস্যার সর্বসম্মত সমাধান দেওয়ার প্রয়াস পান। ফলে এ যুগে স্বতন্ত্র ফিকহশাস্ত্র সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!