ভার্সাই নগরী ফ্রান্সে অবস্থিত।
নাৎসিবাদ হচ্ছে হিটলারের রাজনৈতিক মতাদর্শ। ১৯১৯ সালে হিটলার জার্মান ওয়ার্কাস পার্টিতে যোগ দেন। ১৯২০ সালের এ দলের নাম পরিবর্তন করে রাখেন 'জাতীয় জার্মান সমাজতন্ত্রবাদী শ্রমিক দল' (National Socialist German Workers Party) সংক্ষেপে নাম ছিল নাৎসি। নাৎসিবাদের লক্ষ্য ছিল বল প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমেই শাসন পরিচালনা করা। নাৎসিবাদ ছিল কমিউনিজম বিরোধী। এ মতবাদের পিছনে ছিল উগ্র জাতীয়তাবাদ।
জার্মান জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠাই ছিল নাৎসিবাদের মূলমন্ত্র।
উদ্দীপকের ঘটনাটি ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় সংঘটিত বলশেভিক বিপ্লবের সাথে মিল রয়েছে।
প্রাচীনপন্থি জরাগ্রস্ত সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য ইউরোপে যেসকল বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে এর মধ্যে বলশেভিক বিপ্লব অন্যতম।
বলশেভিক বিপ্লব আকস্মিকভাবে অথবা স্বল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়নি। 'এ বিপ্লবের সামাজিক পটভূমি তৈরি হয়েছিল উনবিংশ শতাব্দীতে। বলা যায় যে, ইউরোপ মহাদেশে সমাজতন্ত্রের উদ্ভব ও বিকাশ এবং রাশিয়াতে এ আন্দোলনের বিস্তৃতি বলশেভিক বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করেছিল।
রাশিয়ায় প্রকৃতপক্ষে তিনটি বিপ্লব ঘটেছিল। ১৯০৫ সালে জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম বিপ্লব ঘোষিত হয়। এরপর ১৯১৭ সালে মার্চ মাসের বিপ্লবে ডুমা বা রুশ পার্লামেন্টের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ও বুর্জোয়া শ্রেণি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এ সময় লেনিন সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে তার বিখ্যাত 'এপ্রিল থিসিস' ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ায় বুর্জোয়া গণতন্ত্রের কোনো প্রয়োজন নেই। বরং রাশিয়ার সরকার পরিচালিত হবে কৃষক শ্রমিক দ্বারা। ১৯১৭ সালের এপ্রিল-মে মাসে রাশিয়ায় ব্যাপক অরাজকতা দেখা দেয়। বুর্জোয়া সরকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়। দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ফলে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টির লোকজন সমগ্র রাশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর বলশেভিকরা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক দখল করে নেয়। এভাবে বলশেভিক বিপ্লব সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতার নেতৃত্বের ন্যায় রাশিয়ায় সংঘটিত বলশেভিক বিপ্লবের নেতা লেনিনের ভূমিকা অপরিসীম।
লেনিন ছিলেন একজন সম্মোহনী নেতৃত্বগুণের অধিকারী নেতা। তার নেতৃত্বেই বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়। জনগণ রুটির জন্য রাস্তায় নেমে আসে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে সারা রাশিয়ায় ব্যাপক অভ্যুত্থান ঘটে। জনগণের দাবির মুখে জার দ্বিতীয় নিকোলাস সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরকার গঠন করে। এসময় লেনিন সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে তার বিখ্যাত এপ্রিল থিসিস ঘোষণা করেন। ওই থিসিসে লেনিন উল্লেখ করেছিলেন যে, ১. মার্চ বিপ্লবে বুর্জোয়া শ্রেণির জয় হয়েছে, এতে শ্রমিকদের সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। ২. বুর্জোয়া শাসনের তথাকথিত সংকটের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। বুর্জোয়া বিপ্লব এবং শ্রমিক বিপ্লব একসাথে চলবে এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকরা ক্ষমতা দখল করবে। ৩.
শ্রমিকের স্বার্থে এখন ক্ষমতা দখল করতে হবে।
লেনিনের লক্ষ্য ছিল বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপান্তরিত করা এবং জমিদার ও পুঁজিপতিদের উচ্ছেদ সম্পূর্ণ করা।
১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর বলশেভিকরা বিদ্রোহী হয়ে রেলস্টেশন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও অন্যান্য সরকারি ভবন দখল করে নেয়। লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা ক্ষমতা গ্রহণ করে।
এভাবে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, বলশেভিক বিপ্লব সংঘটনে এবং রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লেনিনের ভূমিকা অপরিসীম।
Related Question
View AllUtopia গ্রন্থের লেখক হলেন টমাস ম্যুর।
রাশিয়ার সমাজ বরাবরই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। অভিজাত শ্রেণি ও ভূমিহীন শ্রেণি। আর এ অভিজাত শ্রেণির প্রধান ছিলেন জার। তিনি অনেকটা স্বৈরাচারী শাসকের বেশে আবির্ভূত হন। দেশের সকল জমিই থাকত জারের অধীন। তিনি সকল ক্ষেত্রে অবস্থান অধিপতি হিসেবে পরিগণিত হন।
উদ্দীপকে যে বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে তা ইতিহাসে বলশেভিক বিপ্লবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ সম্রাট তথা জার ও অভিজাতদের হাতে শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণি এবং সাধারণ সৈনিক শ্রেণির মানুষের ন্যূনতম সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। এই অবস্থা থেকে ১৮৯৮ সালে বিপ্লবী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি গঠন করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক এ সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে লেনিন বিপ্লবের জন্য তার দলকে প্রস্তুত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ও সামরিক দুর্ভোগ রাশিয়ার কৃষক, শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে লেনিনের নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক ও সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশ বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে এবং অবশেষে ১৯১৭ সালে বলশেভিক বা বুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে দেখা যায়, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এ বিপ্লবের পিছনে অনেক মহান নেতার অবদান ছিল। 'ক' রাষ্ট্রের মতো বলশেভিক বিপ্লবেও অনেক মহান নেতা অবদান রেখেছেন। বলশেভিক বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল কার্ল মার্কসের লেখনি। এছাড়া লেনিন ট্রটস্কি, লিও টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
সুতরাং বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের বিপ্লবের সাথে বলশেভিক বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, উক্ত বিপ্লব তথা বলশেভিক বিপ্লব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভার বিস্তার করেছিল।
সারা পৃথিবীর নির্যাতিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব একটি আদর্শ হিসেবে পরিগণিত। 1 বলশেভিক বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উপনিবেশের জনগণ স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই শুরু করে। এ বিপ্লব এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার পরাধীন দেশগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম। বিশ শতকের সারা পৃথবীর স্বাধীনতার লড়াই আর জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে বলশেভিক বিপ্লব ছিল অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। মূলত গোটা পৃথিবীর কৃষক ও শ্রমিক সমাজকে শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে উৎসাহিত করে বলশেভিক বিপ্লব। এ বিপ্লবের - ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে চীনে সংঘটিত হয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন একটি প্রধান রাজনৈতিক স্রোতে পরিণত হয়। পৃথিবীব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত ছিল বলশেভিক বিপ্লব।
সুতরাং বলা যায়, এই বিপ্লব শুরু রাশিয়াতেই নয় সারা পৃথিবীর রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিল।
Mein Kampf এডলফ হিটলারের রচিত গ্রন্থ।
কার্ল মার্কসকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়। সমাজতন্ত্রকে একটি বিজ্ঞানসম্মত রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করার জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, চরম দারিদ্র্য কিছুই তাকে তার সংগ্রাম থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। কার্ল মার্কসের সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Das Kapital. এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তার লেখনীতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯১৭ সালে সংঘটিত হয় রুশ বিপ্লব বা বলশেভিক বিপ্লব। পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর এসব কারণেই - কার্ল মার্কস বিশ্ব বিখ্যাত হয়ে আছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!