হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল।
জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক কামানের গোলার তীব্র শব্দ নিয়ে শহরে প্রবেশ করেছিল বলে কবি সেটাকে দানব বলেছেন।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্বর পাকিস্তানি যুদ্ধবাজদের নির্মমতার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। তারা বাঙালিদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষকে অকাতরে হত্যা করে। জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক রাস্তায় নেমে আসে। ট্যাঙ্কের কামানের গোলায় ছাত্রাবাস, বস্তি সব ধ্বংস করে দেয়। রূপকথার দানবের মতো চিৎকার করতে করতে সেই ট্যাঙ্কগুলো ছুটে বেড়ায় শহরময়। এ প্রসঙ্গেই কবি জলপাই রঙের ট্যাঙ্ককে দানব বলেছেন।
উদ্দীপকের যে ভাবটি 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে তা হলো- পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম।
যুগে যুগে ভিনদেশি, বিভাষী, বিজাতীয়রা এদেশে এসে নানা রকম শোষণ-অত্যাচার চালিয়েছে। এদেশের মাটির সোনার ফসলই তাদেরকে এখানে টেনে এনেছে। তারা যথাসময়ে লোভ-লালসা চরিতার্থ তথা এদেশের সম্পদ আহরণ করে আবার ফিরে গেছে। প্রতিবারই এদেশের উত্তরাধিকারীদের ভাগ্যে লেপন করে গেছে দুর্ভাগ্যের কালিমা।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি শাসকদের বাংলা ভাষার ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেদিন এদেশের ছাত্র-জনতা বর্বর পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছেন। উদ্দীপকের এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির ভাবটি আলোচ্য কবিতার ভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় 'স্বাধীনতা' অর্জনে আপামর বাঙালি নারী-পুরুষের সংগ্রামী চেতনা এবং তাঁদের মহান আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরা হয়েছে। কবিতায় বর্বর পাকিস্তানি যুদ্ধবাজদের নির্মম অত্যাচার, হত্যা, ধর্ষণ, ধ্বংসলীলা উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীন করেছেন। তাই উদ্দীপকের ভাষার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামী চেতনার ভাব এবং 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য বাঙালির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামী চেতনার ভাব এক ও অভিন্ন।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্ণিত দিকগুলোর একটিমাত্র দিক উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। সেই অধিকার অর্জন করতে হলে মানুষকে অনেক ত্যাগ ও সংগ্রাম করতে হয়। সংগ্রাম ছাড়া স্বাধীনতা পাওয়া যায় না । স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে দেশের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকতে হয়।
উদ্দীপকে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বর্ণিত আত্মত্যাগের দিকটি ফুটে উঠেছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দু চাপিয়ে দেওয়াকে এদেশের আপামর জনতা মেনে নেয়নি, ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। অবশেষে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্দীপকের এই বিষয়টি ছাড়াও কবিতায় যুদ্ধবাজ পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম অত্যাচার, অমানবিক নির্যাতন, বিনা কারণে রাতের আঁধারে নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং ছাত্রাবাস, বস্তি, মানুষের ঘরবাড়ি সব ধ্বংস করে দেওয়া ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় স্বাধীনতা অর্জনে আপামর বাঙালি নারী-পুরুষের সংগ্রামী চেতনা এবং তাদের মহান আত্মত্যাগের মহিমাকে তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে এবং তাদেরকে স্বাধীনতা অর্জনের সমস্ত স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিতে চেয়েছে। এ বিষয়টি উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এছাড়া স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষায় থাকার মতো কোনো বিষয়ও সেখানে নেই। এসব দিক বিবেচনায় বলা যায়, কবিতায় বর্ণিত দিকগুলোর একটি দিক উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!