পা ফুলো-ফুলো অল্পবয়সি একদল মেয়ে বেরিবেরির আসামি।
কুকুরটিকে স্টেশনে ফেলে বাড়ি ফিরতে হলো বলে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখকের মনে হতে লাগল, কুকুরটির মতো তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই।
লেখক অসুস্থ হয়ে দেওঘরে আসেন বায়ু পরিবর্তনের জন্য। এখানে এসে তাঁর সঙ্গে একটি কুকুরের মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক কুকুরটিকে অতিথির মর্যাদা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যান। সেই বাড়ির চাকর-মালিনী কুকুরটিকে খেতে দেয় না, মেরে তাড়িয়ে দেয়। তাদের কাছে কুকুরটি অত্যন্ত অবাঞ্ছিত। কিন্তু লেখকের দেওঘর ছেড়ে যাওয়ার সময় হলে তিনি এই কুকুরটির কথা ভেবে কষ্ট পান, কিন্তু তাকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাঁর মনে হতে লাগল- হয়তো ওর মতো তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই।
উদ্দীপকের বিপ্লব দাস ও মাছ দুটোর সম্পর্কের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক ও অতিথির সম্পর্কের সাদৃশ্য রয়েছে স্নেহের, ভালোবাসার ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার।
পশু-পাখি ও জীবজন্তু মানব পরিবেশের অংশ। এরা মানুষের মতো কথা বলতে পারে না। কিন্তু এদেরও অনুভূতি রয়েছে। এরাও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক দেওঘরে এলে একটি পথের কুকুরের সাথে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। কুকুরটিকে তিনি অতিথির মর্যাদা দেন। তাকে খেতে দেন। তার খোঁজখবর নেন, আশ্রয় দেন। অতিথি কুকুরটিও লেখকের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করে। লেখক বেড়াতে বের হলে তাঁর সঙ্গী হয়। উদ্দীপকের কৃষক বিপ্লব দাসের মধ্যে লেখকের গুণগুলো প্রকাশ পায়। বিপ্লব দাসের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে তার পুকুরের দুটি কাতলা মাছের। তিনি প্রতিদিন তাদের খাবার দেন। তাদের যত্ন নেন। বিপ্লব দাস পুকুরে স্নান করতে নামলে মাছ দুটিও তার ভালোবাসার প্রতিদান দেয়। তারা তার কাছে চলে আসে এবং বিপ্লব দাসের সাথে খেলে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের বিপ্লব দাস ও মাছ দুটোর সম্পর্কের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক ও অতিথির সম্পর্কের সাদৃশ্য রয়েছে স্নেহের, ভালোবাসার ও ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার।
"উদ্দীপক ও 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের মূল বক্তব্য এক হলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের সাথে মানুষের যেমন স্নেহ-মমতার সম্পর্ক রয়েছে তেমনই পশু-পাখির সাথেও মানুষের মমতার সম্পর্ক তৈরি হয়। পশু-পাখিও মানুষের ভালোবাসা বুঝতে পেরে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে কৃষক বিপ্লব দাসের মাছ চাষের কথা বলা হয়েছে। তিনি তার পুকুরে বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করেন। তার মধ্যে দুটি কাতলা মাছের সাথে বিপ্লব দাসের রয়েছে খুব সখ্য। তিনি সেগুলোকে নিজ হাতে খাবার দেন। মাছ দুটি তার অত্যন্ত প্রিয় ও আদরের। তিনি স্নান করতে নামলে মাছ দুটি কাছে এসে খেলা করে। এরাও যেন বিপ্লব দাসকে ভালোবাসে। অন্যদিকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসা লেখকের সাঙ্গে একটি পথের কুকুরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক কুকুরটিকে বাড়িতে আশ্রয় দেন, অতিথির মর্যাদা দেন। তাকে ফেলে নিজ বাড়ি ফিরে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কুকুরটিও লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে।
উদ্দীপক ও 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের মূল বক্তব্য হলো মানবেতর প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। এদের প্রতি নিষ্ঠুর না হয়ে এদেরকে স্নেহ-মমতা দিলে প্রতিদানে এরাও মানুষকে ভালোবাসা দেয়। উদ্দীপকে এক কৃষকের তার চাষ করা মাছের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে আর আলোচ্য গল্পের লেখকের ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে একটি কুকুরের প্রতি। উভয় জায়গায় স্নেহ-মমতা প্রকাশ পেলেও উভয় গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ভিন্ন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তন।
চাকরদের ভয়ে লেখকের অতিথি কুকুরটি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।
লেখক কুকুরটিকে অন্ধকার পথে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার জন্য বললেন। তার লেজ নাড়তে দেখে লেখক বুঝলেন সে রাজি আছে। তিনি কুকুরটিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনে এলেন। গেট খুলে ওই কুকুরকে ভেতরে ডাকলেন। কিন্তু কুকুরটি বাইরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়তে লাগল। ভেতরে ঢুকল না কারণ কুকুরটি ভয় পেয়েছিল। সে ভেবেছিল ভেতরে ঢুকলে হয়তো তাকে প্রহার করা হবে।
উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক কুকুরের প্রতি যে স্নেহপূর্ণ আচরণ করেছেন সেই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক মানুষ পশু-পাখিকে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করে। এই পশু-পাখি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথিও হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের মহেশ হলো দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড়। দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না বলে কষ্টে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, মহেশ তার ছেলে, তাকে পেটপুরে খেতে দিতে না পারলেও তাকে সে অনেক ভালোবাসে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অতিথি পথের একটি কুকুর, বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গী। লেখক চাকরকে বলেন, কুকুরটি যদি গেটের ভেতরে আসে তবে তাঁকে যেন খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু অতিথি গেটের ভেতর না ঢুকে চলে যায়। পরদিন তিনি অতিথিকে গেটের বাইরে দেখে জানতে চাইলেন, গতকাল তার নিমন্ত্রণে সে এলো না কেন। আজ যেন সে খেয়ে যায়, না খেয়ে যেন যায় না। এছাড়াও দেওঘর থেকে ফেরার সময় লেখকের খুব কষ্ট হয় তাকে ছেড়ে আসতে। এভাবে উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের কুকুরের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
"উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের সাথে মানুষের যেমন স্নেহ-মমতার সম্পর্ক বিদ্যমান তেমনই প্রাণীর সাথেও মানুষের মমতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। পশু-পাখিও মানুষের ভালোবাসা বুঝতে পেরে তার প্রতিদান দেয়।
উদ্দীপকের গফুরের পোষা প্রাণী একটি ষাঁড়- নাম মহেশ। সে দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি দিতে পারে না। খাবারের জন্য মহেশের দুঃখের সীমা নেই দেখে সন্তানতুল্য মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদে গফুর। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসা লেখকের সাথে একটি কুকুরের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তাকে রেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য লেখকের মনে আগ্রহ ছিল না।
উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির দিক দিয়ে মিল লক্ষ করা যায়। কিন্তু গফুর দারিদ্র্যের কারণে তার পোষা প্রাণী মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছে না। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক বেড়াতে এসে একটি কুকুরের সাথে স্নেহের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি চাকরদের দিয়ে তাকে খাবার খেতে দেন। প্রাণীর প্রতি গফুর ও আলোচ্য গল্পের লেখকের মমতা প্রমাণ করে চেতনাগতভাবে তারা এক। কিন্তু পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
লেখকের অতিথি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক পথে বেড়াতে বের হতেন একা একা। একদিন বাড়ি ফিরতে তার সন্ধ্যা হয়ে যায়, পথের একটি কুকুর সঙ্গী হয়। তারপর থেকে প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে। কুকুরটির এরূপ আচরণে লেখকের মনে কুকুরটির জন্য অকৃত্রিম মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে যখন বিদায় নেওয়ার দিন এসে পড়ে তখন কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!