কোনো ফসলের রসালো মাংসল অংশকে পাল্প বলে।
বিভিন্ন ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ক্রিয়ার ফলে ফল গ্রহণের অনুপযোগী ও নষ্ট হয়। ফল নষ্টের কারণগুলো হলো-
i. জীবাণুর কার্যকলাপ যেমন- প্রবেশ, বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার, ii. খাদ্যদ্রব্যে জলীয়কণার পরিমাণ, iii. আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার অসামঞ্জস্যতা এবং iv. অক্সিজেনের ভারসাম্যহীনতা।
উদ্দীপকের শেষ কথাটি হলো কখনও কখনও প্রচুর উৎপাদনের জন্য সংরক্ষণের অভাবে ফসল নষ্ট হয়।
শাকসবজি মাঠ থেকে তোলার পর তাতে শ্বসন হার বেড়ে যায় এবং ইথিলিনের নিঃসরণ হতে থাকে। তাপে বা আঘাতের ফলে ইথিলিন নিঃসরণ ও শ্বসন হার বেড়ে পচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতায় রোগজীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও সংক্রমণ বেড়ে যায়। সংগ্রহের পর ফল ও শাকসবজি গাদা করে রাখলে এতেও জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে। তাই সময়মতো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি নতুবা ফসল পচে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু উপযুক্ত নিয়মনীতি মেনে সংরক্ষণ করলে জমিতে উৎপাদিত অধিক সবজি অনেক দিন ভালো রাখা যায়। যেমন- কম তাপমাত্রায় ও উপযুক্ত আপেক্ষিক আর্দ্রতায় ফসল সংরক্ষণ করা যায়। ক্ষতিকর জীবাণু ও এনজাইমের ক্রিয়া নষ্ট করে জলীয় অংশের পরিমাণ কমিয়ে আনলেও সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি পায়। ফসল সংগ্রহের পর মাঠে থাকা অবস্থায় সঞ্চিত তাপ ও শ্বসন প্রক্রিয়া কমানোর জন্য ঠান্ডা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল করে এমন স্থানে কিছু সময় রেখে দিতে হবে। তাছাড়া ফসল সংগ্রহের পর কিউরিং করে প্রক্রিয়াজাত করেও ফসল সংরক্ষণ করে অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। দীর্ঘ সময়ের জন্য রিফ্রিজারেটর বা হিমাগারেও সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
অতএব বলা যায়, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে ফসলের পচনজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
উদ্দীপকে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলডুলি ইউনিয়নের কৃষকেরা তাদের জমিতে উৎপন্ন ফসল বিক্রি করে।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ আম চাষি ফসল সংগ্রহের পূর্বেই ঠিকাদার, আড়তদার, ফড়িয়া কিংবা অনুরূপ ব্যক্তিদের নিকট ফসল বিক্রি করে দেন। ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ফসল কিনে ভোক্তাদের নিকট বেশি দামে বিক্রি করে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। কখনও দেখা যায়, কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ৪-৫ জন ফড়িয়ার কাছে বিক্রি হয়ে ভোক্তার কাছে বিক্রি হয়। নিম্নে ফসল বাজারজাতকরণ পদ্ধতি ছকাকারে উপস্থাপন করা হলো-
পরিশেষে বলা যায়, মুলডুলি ইউনিয়নের কৃষকরা উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় তাদের উৎপাদিত ফসল গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায় এবং তা উচ্চমূল্যের হয়।
Related Question
View Allকারখানার কাঁচামাল যোগান দেওয়ার জন্য যে সকল ফসল উৎপাদন করা হয় তাদেরকে শিল্প ফসল বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে মাঝে মাঝে কৃষকদের নিয়ে যে সভা বা বৈঠক করে তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
উঠোন বৈঠক আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণ তথা কৃষি তথ্য সরবরাহ ও কৃষি সেবার একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। এই কৌশলের একটি প্রধান সুবিধা হলো যে এতে সকল ধরনের নারী-পুরুষ কৃষক স্থানীয়ভাবে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তারা সেখানে • নিঃসংকোচে তথ্য বিনিময় করতে পারে।
ফাহাদ বিভিন্ন কৃষি তথ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি বিষয়ক নানান তথ্য ও সেবা দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করে থাকে। ফাহাদ তার বাগানের ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য নেয়। এই ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল কৃষি ফার্ম, পলিটেকনিক ও কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও সরবরাহ করা হয়। এ সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি 'এ টু আই' প্রকল্প, কৃষি তথ্য সংস্থা, কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের সেন্টারসমূহ হতেও সে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়াও সে কৃষিতথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ইন্টারনেটের থেকেও এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে উল্লিখিত উৎসগুলো ছাড়াও ফাহাদ অভিজ্ঞ কৃষক, উঠোন বৈঠক বা কৃষক সভা থেকেও ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদ তাই এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদকে তথ্য সার্ভিস সংস্থা প্রক্রিয়াজাত করে ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণ করতে পরামর্শ দেয়।
বিভিন্ন উপায়ে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়। যেমন- চিনি ও অ্যাসিড সংযোজন করে জ্যাম, জেলি, মোরব্বা ও ক্যান্ডি তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি সংরক্ষণ করা। প্রক্রিয়াজাতকৃত এইসব খাদ্যকে বেশ সুগন্ধযুক্ত ও দর্শনীয় করার জন্য অনেক রকম খাদ্য রং ও এসেন্স মিশ্রিত করা হয়।
জেলি তৈরির সময় ফলের রস ব্যবহার করা হয়। মিহি চালনী বা কাপড়ের সাহায্যে ফলের শাঁসকে ছেঁকে নেওয়া হয় বলে ফলের আঁশ বাদ পড়ে যায়। জ্যাম তৈরির সময় ফলের পাল্প ব্যবহার করা হয়। যে সকল ফল বা সবজিতে পেকটিন কম সে ক্ষেত্রে পালপের সাথে পেকটিন যোগ করে নেওয়া হয়। এছাড়া জ্যাম ও জেলির সাথে সাইট্রিক অ্যাসিডও মিশিয়ে নেওয়া হয়। ফল বা সবজির বড় টুকরা চিনির সিরায় ডুবিয়ে সিরা নিংড়িয়ে মোরব্বা তৈরি করা হয়। রকমারি মশলা মেশানো ফল বা সবজিকে খাওয়ার তেল বা ভিনেগারে ডুবিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে আচার তৈরি করা হয়। মশলা হিসেবে আদা, রসুন, হলুদ, মরিচ, মেথি, কালজিরা ব্যবহার করা হয়। লবণ ও চিনি মিশিয়ে চাটনি তৈরি করা যায়। বিভিন্ন মশলা মিশিয়ে চাটনির স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানো হয়।
উল্লিখিত যেকোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করেই ফাহাদ তার ফল ও শাকসবজিগুলো প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবে।
যে সকল ফসল উদ্যানে বেড়াযুক্ত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে উদ্যান ফসল বলে।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠে তাকে সামাজিক বন বলে। সামাজিক বনে বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়। সামাজিক বন মানুষের ফলের চাহিদা পূরণ, ভূমিক্ষয় রোধ হয়, কুটির শিল্প তৈরির কাঁচামাল, ঘরবাড়ি তৈরির কাঠ ও জ্বালানি কাঠ পায়। এছাড়াও সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। অতএব বলা যায়, সামাজিক বন জনগণের উপকার করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!