সমাজের মূল চালিকাশক্তি অর্থনীতি।
ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি যার ওপর ব্যক্তির স্বত্ব বর্তমান।
যে সব বস্তু বা বিষয় ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ক্রয় বিক্রয় করতে পারে তাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে গণ্য করা যায়। ব্যক্তিমালিকানার সম্পত্তি ব্যক্তি তার ইচ্ছানুযায়ী ভোগ, দান, লগ্নি ইত্যাদি কাজেও ব্যবহার করতে পারে। বস্তুত ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর ব্যক্তির সর্বোচ্চ ভোগাধিকার ক্ষমতা থাকে যা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিবারের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে।
সন্তান-সন্ততির জন্মদানের সাথে সাথে পরিবারে তাদের দৈহিক ও মানসিক পরিচর্যা এবং আত্মবিকাশের শিক্ষা শুরু হয়। এক্ষেত্রে পিতামাতা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা শিশুদের আচার-ব্যবহারের সার্বিক শিক্ষাদান করে। প্রাচীন ও মধ্যযুগেও পারিবারিক পরিমণ্ডলে সন্তানদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা দেওয়া হতো। পরিবারই অনানুষ্ঠানিক পন্থায় শিশুদের প্রাথমিক বর্ণ পরিচয় বা হাতেখড়ি এবং নীতি নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। সন্তান-সন্ততির মধ্যে নিজস্ব ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করার মাধ্যমে পরিবারের আদর্শ প্রকাশ পায়। ব্যক্তিগত লোভ-লালসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং উত্তম চরিত্র গঠনে ধর্মের সঠিক শিক্ষা পরিবার প্রদান করে। ফলে পরিবার থেকেই মানুষ সৎ, নীতিবান ও সত্যনুসন্ধানী হয়ে ওঠে। পরিবারের গণ্ডিতেই সন্তান-সন্ততি যোগ্য নেতৃত্ব, দায়িত্ব, কর্তব্য, নিয়মশৃঙ্খলা ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। 'আদেশ ও আনুগত্য রাজনীতির এ মূল কথা শিশুরা পরিবার থেকেই অর্জন করে। শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নিয়মনিষ্ঠা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ইত্যাদি গুণাবলি শিশুরা পরিবার থেকেই পায়।
উদ্দীপকে রিফাত ও শায়লার ছেলে আকাশের মাতৃভাষা শেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পারিবারিক পরিমণ্ডলে। একই সাথে আদব কায়দাও শিখছে। এক্ষেত্রে আমরা পরিবার নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার প্রতিফলন লক্ষ করি। পরিবার তার বহুমুখী কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমেই এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। তাই এ মানুষের পরিপূর্ণ বিকাশ এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ তৈরিতে পরিবারের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।
আকাশের সামাজিকীকরণে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবারই শিশুর সমাজিকীকরণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সন্তান-সন্ততিকে উপযুক্ত সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। সমাজের কাঙ্ক্ষিত মূল্যবোধ অনুযায়ী পরিবার শিশুকে গড়ে তোলে। তাদেরকে সামাজিক মূল্যবোধ, আচার-প্রথা, রীতিনীতি তথা সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান সরবরাহ করে। সামাজিক জীব হিসেবে সমাজে বসবাস করতে গেলে মানুষকে প্রতিনিয়তই তার চারপাশের মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। পরিবার তার শিশু- কিশোরদের এসব সামাজিক গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে। ফলে শিশু এসব সামাজিক গুণাবলি অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজেকে সমাজ কাঙ্ক্ষিত ধারায় পরিচালিত করতে সচেষ্ট হয়।
উদ্দীপকের রিফাত ও শায়লা তাদের সন্তান আকাশকে নিয়ে কানাডা থেকে এসে রিফাতের বাবার বাড়িতে ওঠে। সেখানে রিফাতের বাবা-মা, ভাই, ভাইয়ের ছেলেমেয়ে, চাচা-চাচি, চাচাতো ভাই-বোন একত্রে বাস করে। এদের সাহচর্যে আকাশ দ্রুত বাংলায় কথা বলতে এবং বাঙালি আদব-কায়দা রপ্ত করতে শুরু করে, যা সামাজিকীকরণে পরিবারের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আকাশের মতো যেকোনো শিশুর সামাজিকীকরণে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমকে ক্রিয়াবাদের জনক বলা হয়।
শিক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'শাস' ধাতু থেকে। এর অর্থ হলো শাসন করা, শৃঙ্খলিত করা, নিয়ন্ত্রিত করা, শিক্ষা দেওয়া বা নির্দেশনা দেওয়া। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় আমরা যে শিক্ষা কথাটা ব্যবহার করি, তা বিশেষভাবে শিক্ষা কৌশলকেই বোঝায়।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবার থেকে গঠিত মৌলিক ব্যক্তিত্ব সহযোগে শিশুরা শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে আসে। সেখানে নতুন পরিবেশে নানা নিয়ম-কানুনের মধ্যে নতুন সহপাঠী ও অন্যান্যদের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে হয়। শিশুর মূল্যবোধ সৃষ্টিতে পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদি শিশুর মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা নানা প্রকারের হলে শিশুর ব্যক্তিত্বও নানাভাবে গড়ে ওঠে। যেমন- আমাদের দেশেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। তাই ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ধরনও বিভিন্ন রকম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে অন্যতম সামাজিক সমস্যা 'নিরক্ষরতা' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সমাজে নিরক্ষরতার মতো সমস্যা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের যে গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা হলো সামাজিক জরিপ পদ্ধতি।
সামাজিক গবেষণার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার মধ্যে সামাজিক জরিপ অন্যতম। জরিপ কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু সরেজমিনে পরিমাপ বা নিরূপণ করা। কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বাছাই, তথ্য যাচাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে জরিপ একটি কার্যকরী পদ্ধতি। বস্তুত জরিপ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব। সামাজিক জরিপ সামাজিক অনুসন্ধানের একটি পদ্ধতি যা বর্ণনা, বিবরণ, উদ্ঘাটন ও ব্যাখ্যামূলক বিভিন্ন সামাজিক তথ্য সরবরাহ করে। এছাড়া উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মসূচির পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, নিরক্ষরতার মতো সামাজিক সমস্যার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ICT-এর পূর্ণরূপ- Information and Communication Technology |
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে একীভূত করা হয়।
বিশ্বায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর সকল দেশকে একটি ছাতার নিচে। সমবেত করা। মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বায়নের পথচলা। (১) তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ (২) আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং (৩) উৎপাদিত পণ্যের অবাধ প্রবাহ। সাধারণত সারাবিশ্বে এই তিনটি বিষয়ের অবাধ প্রচলন উপস্থিতি থাকলেই সেই প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!