সামাজিক মূল্যবোধের একটি উদাহরণ হলো- কারো সাথে দেখা হলে তাকে সালাম/নমস্কার দেওয়া।
ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি বলতে ব্যক্তির অন্তর্নিহিত মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে তাকে গঠনমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করাকে বোঝায়।
ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি হলো সমাজকর্ম পেশার অন্যতম মূল্যবোধ। সমাজকর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ প্রত্যেক ব্যক্তিই বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। এ মৌল সত্যের স্বীকৃতি ব্যক্তির অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনের সাথে 'জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি'র উদ্দেশ্যগত মিল রয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমাজকর্ম পেশার মানোন্নয়নে জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমাজকর্মের পেশাগত সংগঠন হিসেবে ১৯৫৫ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি সমাজকর্মীদের পেশাগত মানোন্নয়ন, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সমাজকর্ম অনুশীলনের আদর্শিক মান বজায় রাখা, বাস্তব
উপযোগী নীতি প্রণয়ন ও বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে পেশাদারিত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনের উদ্দেশ্যও এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকজন কবিরাজ-বৈদ্য প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে শিখেছেন। তারা নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশার মান নিয়ন্ত্রণ ও সেবার মান উন্নয়নে পার্বত্য পল্লি চিকিৎসক সংঘ গড়ে তুলেছেন। তাদের এই সংগঠনের মতোই জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি সমাজকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত মান নিয়ন্ত্রণ ও সেবার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের 'জাতীয় সমাজকর্মী সমিতি'র উদ্দেশ্যগত মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে চিকিৎসা সমাজকর্ম তথা সমাজকর্ম পেশার ইঙ্গিত করা হয়েছে। সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে সমাজকর্ম পেশা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
চিকিৎসা সমাজকর্ম' সমাজকর্ম পেশার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এর মাধ্যমে একজন চিকিৎসা সমাজকর্মী রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নিশ্চিত করেন। হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তিনি রোগীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন। উপযুক্ত চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, আর্থিক ও মানসিক সহায়তাসহ সবক্ষেত্রে চিকিৎসা সমাজকর্মী তাকে সাহায্য করেন। এছাড়া সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। তারা অবহেলিত, বঞ্চিত শ্রেণি বিশেষকরে নারীদের অধিকার 'প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন সামাজিক আইন প্রয়োগ করে সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন। তারা অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে সাহায্যার্থীকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করে।
উদ্দীপকে পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকজন কবিরাজ-বৈদ্য প্রশিক্ষণ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি শিখেছেন। নিজেদের পেশার দক্ষতা বৃদ্ধি ও মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান উন্নয়নে তারা একটি সংঘও গড়ে তোলেন। এ পেশার সদস্যরা চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের কাছে বিনামূল্যে ঔষধসহ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। উদ্দীপকের এ পেশাটি চিকিৎসা সমাজকর্ম পেশাকে নির্দেশ করছে। আর সার্বিকভাবে সমাজকর্ম পেশা সমাজে অবহেলিত, বঞ্চিত, শোষিত শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, একজন অসুস্থ মানুষের জন্য চিকিৎসা সমাজকর্ম যেমন খুবই প্রয়োজনীয়, তেমনি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে সার্বিকভাবে সমাজকর্ম পেশার ভূমিকাও অপরিসীম।
Related Question
View Allমূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
আর্থ-সামাজিক জীবনে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব অপরিসীম এবং এ প্রভাবের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই আছে।
শিল্পবিপ্লবের প্রভাব বিবেচনায় ইতিবাচক দিকই আর্থ-সামাজিক জীবনে আধুনিক সভ্যতার দ্বার উন্মোচন করেছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিত্য নতুন ভোগ্যপণ্যের আবিষ্কার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অকল্পনীয় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আবার শিল্পবিপ্লব সৃষ্ট শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে, আর্থ-সামাজিক জটিলতাসহ অনেক সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
উক্ত সংস্থাটি অর্থাৎ উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়। সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক নীতিকে জনগণের সেবা উপযোগী করে তোলার জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যেমন- শিশুদের কল্যাণে শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ শিশুকল্যাণমূলক অনেক কর্মসূচি সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে রয়েছে। এ সব কর্মসূচির সুষ্ঠু ও কার্যকরী বাস্তবায়নে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটি শিশুনীতি বাস্তবায়নে কাজ করে এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের সোহান তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মূল্যবোধ হলো একটি আদর্শ বা মানদণ্ড যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণের ভালো মন্দ বিচার করা হয়। যেসব নীতিমালা, বিশ্বাস, দর্শন, ধ্যান-ধারণা সংকল্প প্রভৃতি বিভিন্ন পেশাগত আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিকে পেশাগত মূল্যবোধ বলে। এ মূল্যবোধের প্রেক্ষিতেই পেশাদার কর্মীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিশুকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের সেবায় নিয়োজিত থাকে। শিশুদের বিকাশ ও সুরক্ষার বিষয়ে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক আন্তর্জাতিক সেবামূলক, একটি সংস্থায় কাজ করেন সোহান।। আন্তর্জাতিক সেবামূলক এ সংস্থাটি শিশুকল্যাণমূলক কাজ করে। শিশুনীতি বাস্তবায়ন এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুরক্ষার বিষয়ে এটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে সোহান আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। অর্থাৎ তিনি শিশুর চাহিদা, সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে শিশুর সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের চেষ্টা করছেন। এগুলো সমাজকর্মের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, উল্লিখিত কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার মধ্য দিয়ে সোহান সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি হচ্ছে সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি যাঁর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলা হয়।
স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর মত দেন। তাই তার প্রদত্ত রিপোর্টটিকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলা হয়।
ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এ রিপোর্টে সুপারিশকৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই ইংল্যান্ডে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরি করে। বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইংল্যান্ড সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক আইন প্রণয়নের প্রয়াস পেয়েছিল, যা কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!