সিপাহি বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয়।
ব্রিটিশ সরকারের রাওলাট আইন পাস এবং ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালবাগের হত্যাকান্ড ভারতীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছিল। মহাত্মা গান্ধী ইংরেজ সরকারকে অত্যাচার বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু ব্রিটিশ দমনমূলক আইন ও শাসন বন্ধ না হলে মহাত্মা গান্ধী ১৯২০ সালের ২০ আগষ্ট অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এ অসহযোগিতার মধ্যে ছিল ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করা, সরকারি স্কুল, কলেজ ও আদালত বর্জন করা এবং এর পরিবর্তে দেশিয় স্কুল স্থাপন ও বেসরকারি সালিসি আদালত স্থাপন। কিন্তু এ অসহযোগ আন্দোলন সন্ত্ররূপলাভ করলে এবং ১৯২২ সালে ২১ চৌরিচৌরা থানায় ২১ জন পুলিশকে পুড়িয়ে মারলে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করেন।
উদ্দীপকে আলোচিত নির্বাচনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের পর ইয়াহিয়া খান সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদের এবং ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ধার্য করা হয়। কিন্তু ১২ নভেম্বর পূর্ব বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে উপদ্রব এলাকায় ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩টি। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি। আওয়ামী লীগ এ ১৬৯টি আসনের মধ্যে সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৭টি আসন লাভকরে। অন্যদিকে, পিপিপি পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশে মোট ৮৮টি আসন লাভ করে দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। পক্ষান্তরে, মুসলিম লীগ পেয়েছিল মাত্র ৯টি আসুন। আবার পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন লাভ করে। এভাবে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এবং এ নির্বাচন স্বাধীনতার পথকে অনেক এগিয়ে দিয়েছিল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ নির্বাচনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথকে সহজ ও ত্বরান্বিত করেছে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের অধিকার থাকলেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান সাধারণ পরিষদে অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক শাসন বিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ২ মার্চ ঢাকা এবং ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালন করা হয়। ৩ মার্চ পল্টনে জনসভা হয় এবং সেখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দিবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং কৌশলে এ ভাষণের মধ্যে স্বাধীনতার ডাক দেন।
পাকিস্তান সরকার বাঙালির স্বাধীনতার আন্দোলন চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি লীগ নকশা প্রণয়ন করে। এ ষড়যন্ত্র অনুযায়ী ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবে শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতা আন্দোলন। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর এবং ৩০ লক্ষ শহিদের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
পরিশেষে বলা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ নির্বাচনে জয়লাভই বাঙ্গালিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস যুগিয়েছে।
Related Question
View Allমুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একটি রাজনৈতিক দল হলো জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন আদায়, সামরিক শাসনের অবসান ও ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ইয়াহিয়া খান ১৯৬৯ সালের ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে দেশবাসীকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। ফলে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে সামরিক শাসনের অবসান, পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্ত্বশাসন ও ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
কেননা এতে ক্ষমতার পালা বদলের আশা তৈরি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফিলিস্তিনের নির্বাচনের সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নির্বাচনে হামাসের কাছে পিএলও হেরে গেলেও প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করে। এতে ফিলিস্তিনের দুই অংশ গাজা ও পশ্চিম তীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্দীপকের নির্বাচন ও ক্ষমতা ছাড়ার অস্বীকৃতির সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা ছাড়ার অস্বীকৃতির ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা ফিলিস্তিনের অনুরুপ ঘটনা পাকিস্তানেও ঘটেছিল। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতনের পর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করে ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে দেশবাসীকে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে নির্বাচিতদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই ঘোষণা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। ১৯৭০ সালের ২৮ মার্চ ইয়াহিয়া খান নির্বাচনসংক্রান্ত আইন কাঠামোর ধারাগুলো ঘোষণা করে বলেন ১৯৭০ সালের ১ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৩ জন মহিলা প্রতিনিধি নিয়ে ৩১৩ আসনের জাতীয় পরিষদ ও ৬২১ জন সদস্য নিয়ে এটি প্রাদেশিক পরিষদ হবে। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ ও ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১২ নভেম্বর ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ংকরী ঝড়ের কারণে ৯টি প্রাদেশিক পরিষদের ১৭টি আসনের নির্বাচন হয় ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি।
বঙ্গবন্ধু এ নির্বাচনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। এ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৭টি আসন লাভ করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা করতে থাকে। যার প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
অতএব উদ্দীপকের নির্বাচন ও নির্বাচনে হেরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতির ঘটনার সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।'
উদ্দীপকের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা পাকিস্তানের অবস্থার মতো ছিল না। উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত
উদ্দীপকে প্রেসিডেন্ট ইসমাইল হানিয়া ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জনালে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হামাসের অধীনে গাজা এবং পিএলও-এর অধীনে থাকে পশ্চিম তীর। যদি উভয়ই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অধীনেই থাকে। কিন্তু উদ্দীপকের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থার মতো পাকিস্তানের অবস্থা ছিল না। কেননা। ফিলিস্তিন একই রাষ্ট্র থাকলেও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সৃষ্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও এর প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলে একসময় পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। আওয়ামী লীগ ৭০-এর নির্বাচনে জিতলে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা শুরু করে। ১৯৭১ সালে ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও ১ মার্চ তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেন। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনে পরিণত হয়। 'জয় বাংলা' "পদ্মা-মেঘনা-যমুনা/তোমার আমার ঠিকানা" 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর।' স্লোগানে সারাদেশ মুখরিত হয় এবং ২ মার্চ পুলিশের গুলিতে শত শত লোক হতাহত হয়। পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ঢাকার পল্টন ময়দানে আহূত জনসভা থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশ শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালির বুকের তাজা রক্ত মাড়িয়ে ১০ মার্চে সর্বদলীয় বৈঠক বর্জন করেন। তিনি ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠে আন্দোলন। পাকিস্তান সরকার এ আন্দোলন দমনে ২৫ মার্চ গণহত্যায় চালায় ফলে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ৯ মাসের যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক নতুন দেশ।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও তার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন দেশ সৃষ্টির সাথে উদ্দীপকের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থার ভিন্নতা রয়েছে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫ জন আসামি ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দিক নির্দেশনা ও বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয়।
৭ মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ৭ মার্চের ভাষণে লক্ষকোটি জনতার, উপস্থিত অনুপস্থিত শ্রোতার মনে স্বাধীনতার বীজ বপিত হয়। তারা এ ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝুঁপিয়ে পড়ে এবং মুক্তির আশা লাভ করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে 'ডকুমেন্টরি হেরিটেজ' বা বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!