সাঁওতালদের মধ্যে তিন প্রকারের বিবাহরীতি প্রচলিত রয়েছে।
মণিপুরিদের প্রধান উপজীবিকা হলো কৃষি। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মণিপুরিরা সাধারণত স্থানান্তর কৃষি উৎপাদন করে এবং সমতলবাসীরা ভূমিতেই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সমতল ভূমিতে বসবাসকারী মণিপুরিদের অবস্থা পাহাড়ি মণিপুরিদের চেয়ে ভালো। পুরুষ ও মহিলা উভয়ই কৃষিকাজ করে। তবে তুলনামূলকভাবে মহিলারা পুরুষদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে থাকেন।
উদ্দীপকে তামিমের দেখা স্থানীয় নৃগোষ্ঠী মূলত চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে নির্দেশ করছে।
বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাস করে। তন্মধ্যে রাঙামাটি জেলায় এরা সবচেয়ে বেশি বাস করে। স্যার রিজলীর মতে, চাকমাদের দেহে ৮৪.৫ ভাগ মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তাদের গায়ের রং ফর্সা, মুখমণ্ডল গোলাকার, উচ্চতায় মাঝারি। শারিরীক গড়নে চাকমারা বেশ শক্তিশালী। তারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। বৌদ্ধ মন্দিরে তারা প্রদীপ জ্বেলে, ফুল দিয়ে বুদ্ধ মূর্তির পূজা করে থাকে। এছাড়াও তাদের মধ্যে সনাতন ধর্মের বৈশিষ্ট্যও লক্ষ্য করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তামিম ও তার বন্ধুরা রাঙামাটি বেড়াতে যান। সেখানে তামিম স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে চীনা মঙ্গোলীয়দের যথেষ্ট মিল পান। এছাড়াও সে দেখলো উক্ত নৃগোষ্ঠীরা বুদ্ধ মূর্তির পূজা করছে।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় যে, তামিমের দেখা নৃগোষ্ঠী উপরে আলোচিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বর্তমানে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ যুগে চাকমা সমাজ কিছুটা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের আওতায় ছিল। ১৯৬০ সালে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। তখন থেকে তাদের নেতৃত্বের স্থলে কেন্দ্রীয় সরকার প্রবর্তিত স্থানীয় সরকারি নেতৃত্বের প্রতিজনগণ আকৃষ্ট হতে থাকে। আগের তুলনায় বর্তমানে চাকমাদের মধ্যে শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। ডাক্তার, প্রকৌশলী, অধ্যাপক, আইনজীবী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসে চাকরিজীবীর সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষার প্রসারের ফলে চাকমা সমাজে সামাজিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কাপ্তাই বাঁধের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার কারণে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সেখানে ভূমির ওপর জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকমা সমাজে উৎপাদন কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। জুম চাষের পাশাপাশি রাবার ও কাঠ গাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকমা সমাজের পরিবর্তনের জন্য চাকমা-বাঙালি সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের সাংস্কৃতিক জীবন, পোশাক, আসবাবপত্র ইত্যাদিতে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। চাকমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। ধর্মীয় উৎসবে কঠিন চীবর দান আগের তুলনায় বর্তমানে জাঁকজমকভাবে পালন করা হচ্ছে।
পরিশেষে উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, চাকমা সমাজে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে।
Related Question
View All১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়।
চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডি এন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্কসবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীর লেখা পাওয়া যায়। এসব সমাজচিন্তাবিদগণ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেন। যার ফলে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে 'ক' দ্বারা সমাজবিজ্ঞান বিষয়কে নির্দেশ করা হচ্ছে।
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাত হয়। ১৯৪৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দখলকারী ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি অর্জনের আগে চল্লিশের দশকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী লেখক রাধাকমল মুখার্জি, ডিএন মজুমদার, নির্মল কুমার বসু ও বিনয় কুমার সরকার বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সে সময় কয়েকজন মার্ক্সবাদী বাঙালি সমাজবিজ্ঞানীদের লেখা পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- এমএন রায়, মোজাফফর আহমদ, সুশোভন সরকার, গোপাল হালদার ও বিনয় ঘোষ। এসব সমাজচিন্তাবিদ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেছেন এবং সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেছেন। এসব সমাজচিন্তাবিদদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পটভূমি নির্মিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সমাজবিজ্ঞান বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা করে। এ বর্ণনার আলোকে বলা যায়, এখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ অর্থে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বোঝায়। নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলর সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র গোষ্ঠীকেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে জেরি ও জেরির ভাষায়, 'ক্ষুদ্র গোষ্ঠী হলো মানুষের এমন এক গোষ্ঠী যারা স্বতন্ত্র ইতিহাসের সম্মিলিত অনুভূতি থেকে উৎসারিত একটি পরিচয় বহন করে'। প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরই নিজস্ব সংস্কৃতি, প্রথা, আদর্শ, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য থাকে। নৃবিজ্ঞানী ন্যারোল-এর মতে, অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন সম্পর্কে দলীয় সচেতনতা হলো ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর সদস্যদের মূল উপাদান। অন্যদিকে, নৃবিজ্ঞানী কোহেন ও ইয়ামস ক্ষুদ্র সম্প্রদায় তথা উপজাতি বলতে এমন এক জনগোষ্ঠীকে বুঝিয়েছেন, যারা তাদের জীবিকার জন্য খাদ্যসংগ্রহ, উদ্যান, কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। আবার উইলিয়াম পি. স্কট-এর মতে, যে গোষ্ঠীর সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং যারা নিজস্ব পরিচিতিসহ বৃহৎ কোনো সমাজের উপগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে তারাই হলো ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। এসব সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতির অধিকারী, তারা আধুনিক পেশাসহ এক ধরনের নির্দিষ্ট জীবিকা পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং তারা বাস করে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। সর্বোপরি তাদের জীবন একই ধরনের সামাজিক আচার-আচরণ, প্রথা, বিশ্বাস, বিচারব্যবস্থা, অনুসরণীয় রীতিনীতি ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।
ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রামে ক্ষমতার বিকাশ ও প্রয়োগ ঘটে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, “শ্রেণিসমূহের অবস্থান ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ সমাজে সামাজিক শক্তিসমূহ যে কাঠামোর মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়, তাকে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বলা যেতে পারে।” উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভূমি মালিক ও বর্গা চাষিদের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় শ্রেণিই গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অংশ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!