১৯৬৪ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে সমাজকর্ম বিষয়টি চালু করা হয়।
যে কোনো বৃত্তিকে পেশার মর্যাদা অর্জনের জন্য সামাজিক স্বীকৃতি আবশ্যক।
কোনো কাজ কল্যাণমূলক ও দক্ষতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক স্বীকৃতি না পেলে সেটি পেশা হিসেবে বিবেচিত হবে না। যেমন-লাইসেন্স বা সনদবিহীন ডাক্তারি, ওকালতি ইত্যাদি। সামাজিক স্বীকৃতির মাধ্যমেই পেশা পরিপূর্ণতা লাভ করে। সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনো বৃত্তিকে পেশা বলা যাবে না।
উদ্দীপকে তত্ত্বাবধায়কের সমাজকর্ম বিষয়ের জ্ঞান থাকা আবশ্যক ছিল।
সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনই সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমাজকর্ম উদ্দেশ্যভিত্তিক বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে কাঙ্ক্ষিত ও গঠনমূলক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি সমাজকর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে পিন্টু ও হেলাল একটি সরকারি শিশু পরিবারে মাঠকর্ম অনুশীলন করছে। এ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছেন। এ থেকে বোঝা যায় তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে জানেন না। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সমস্যার কথা মেট্রন তাকে জানালে তিনি তা সমাধান না করে বরং তাকে বকাঝকা করেন। এছাড়া শিশুদের বিশৃঙ্খলাজনিত অপরাধের জন্য তিনি তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করেন। তত্ত্বাবধায়কের এ সব কাজ সঠিক নয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের জ্ঞান তাকে বিশেষভাবে সহায়তা করবে। কেননা সমাজকর্মে বিশ্বাস করা হয় শাস্তি নয় সংশোধনের মাধ্যমে মানুষের আচরণ পরিবর্তন করা যায়। এছাড়া সমাজকর্ম যে কোনো সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সমাজকর্মের এই জ্ঞানের আলোকে শিশু পরিবারটির তত্ত্বাবধায়ক তার প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। সেই সাথে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে তা সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু তা করেন নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তত্ত্বাবধায়কের জন্য সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োজন।
উদ্দীপকের শিশুদের উন্নয়নে সরকারি শিশু পরিবার তথা এতিমখানার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এতিমখানা অন্যতম। পিতৃ-মাতৃহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, অসহায়, দুস্থ শিশুদের লালন-পালনের ব্যবস্থা যে প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাকে এতিমখানা বলে। এর মাধ্যমে একজন অনাথ ও অসহায় শিশুকে উপযুক্ত শিক্ষা ও সুন্দর পরিবেশে রেখে দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এতিমখানার মাধ্যমে শিশুদের পুনর্বাসন, বিবাহের ব্যবস্থা, মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়।একজন এতিম শিশু যাতে উপযুক্ত শিক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এতিমখানা কাজ করে। সেই সাথে এতিম শিশুদের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে। উদ্দীপকের পিন্টু ও হেলাল মাঠকর্মের সময় সরকারি শিশু পরিবারে কাজ করছে। কিন্তু তারা দেখতে পায়, এখানে সামান্য সমস্যাতেই শিশুদের শাস্তির আওতায় আনা হয়। যা শিশুদের মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ও মনো-দৈহিক উন্নয়নকে বাধা দেয়। সেই সাথে এতিমখানা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
অথচ অসহায় এ সমস্ত শিশুর যথার্থ বিকাশের জন্য যত্ন ও ভালোবাসা প্রয়োজন। যা নিশ্চিত করতে এতিমখানার বিকল্প নেই। তাই বলা যায় যে, শিশুদের উন্নয়নে পিন্টু ও হেলালের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অপরিসীম।
Related Question
View Allসমাজকর্মের বিকাশের ধারা দুই ভাগে বিভক্ত।
আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।
সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সমাজকর্ম পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!