'সাঁঝের বেলা' অর্থ সন্ধ্যার সময়।
'চিঠি বিলি' ছড়ায় বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা বলা হয়েছে।
এসব ঘটনা জলজ প্রাণীদের জগতে ঘটেছে। ঘটনার শুরুতেই ব্যাঙ চিঠি বিলি করার জন্য বাড়ি থেকে ছাতা মাথায় বের হয়েছে। কারণ বাইরে টাপুস টুপুস বৃষ্টি ঝরছে। ব্যাঙটিকে খেয়া নৌকায় নদী পাড়ি দিতে হবে। নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করছে চিংড়ি মাছের বাচ্চা। বিলের খলসে মাছ তাকে চিঠি লিখেছে, বিলের কাতলা মাছ চিঠি লিখেছে ভেটকি মাছের নাতনিকে। দেশজুড়ে এ বছর খুব বৃষ্টি হবে বলে ব্যাঙ ছাতা কিনে নিয়েছে। এসব ঘটনা ঘটেছে 'চিঠি বিলি' ছড়ায়।
উদ্দীপকের ছড়ার সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ার মিল রয়েছে পিপীলিকা ও ব্যাঙের ভবিষ্যৎ ভাবনায়।
কথায় আছে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবা জ্ঞানীর কাজ। প্রকৃতি জগতে নানা কিছুর মধ্যে অনেক প্রাণীকে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবতে দেখা যায়। তারা জীবনযাপনের অতি প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো সংগ্রহের জন্য কাজ করে।
উদ্দীপকের ছড়ায় পিপীলিকা কোথায় যাচ্ছে কবি তা জানতে চেয়েছেন। তখন পিপীলিকা কবিকে বলেছে যে, সে শীতের জন্য সঞ্চর করে রাখতে খাদ্য খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাই সে ছয় পায়ে পিলপিল করে চলছে। এখানে পিপীলিকার ভবিষ্যতের খাদ্য সঞ্চয়ের যে ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে তার সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ার ব্যাঙের ভাবনার মিল রয়েছে। ভেটকি মাছের নাতনির কাছে বিলের কাতলা চিঠি লিখে জানিয়েছে যে এ বছর খুব বৃষ্টি হবে। এই বৃষ্টির ভয়ে ব্যাঙ একটি ছাতা কিনে নিয়েছে। কারণ চিংড়ি মাঝির খেয়া নৌকার ওপর ব্যাঙের কোনো ভরসা নেই। এখানে ব্যাঙের ভবিষ্যৎ ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের ছড়ার কবির এবং 'চিঠি বিলি' ছড়ার কবির ভাব প্রকাশের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়।
আমাদের জীবনে নানা কিছুর প্রয়োজন হয়। কাল ও সময়ের উপযোগী হয়ে চলতে গিয়ে আমরা নানা বিষয়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে থাকি। কবিরা কল্পনা ও বাস্তবের সমন্বয়ে আমাদের জীবনের নানা কিছু তুলে ধরেন।
উদ্দীপকের ছড়ার পিপীলিকার ছয় পায়ে পিলপিল করে চলার বিষয়টি বাস্তব। আর 'চিঠি বিলি' ছড়ায় ব্যাঙের ছাতা মাথায় চলাটা কাল্পনিক। এ ছড়ায় কবি তাঁর কল্পনাকে জলজ প্রাণীদের জগতে নিয়ে গেছেন। এখানে তিনি যেসব ঘটনার বর্ণনা করেছেন সেগুলো একদিকে যেমন অদ্ভুত, অন্যদিকে তেমনই অবাস্তব। মাছেদের মাঝি হওয়া, চিঠি লেখা বাস্তবে সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে পিপীলিকাকে কোথাও যাওয়ার কথা জানতে চাওয় এবং তার জবাব কবির ভাবনার হলেও তা বাস্তবসম্মত। এভাবেই উদ্দীপকের কবির এবং 'চিঠি বিলি' কবিতার কবির ভাব প্রকাশের মধ্যে পার্থক্য ফুটে উঠেছে।
Related Question
View Allসাঁঝের বেলার রোদে খলসে মাছের চোখ ঝলসে গেছে।
'জবর মাঝি সাচ্চা' হলো চিংড়ি মাছের বাচ্চা।
ছড়াটতে চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখা যায়। সে যখন নদীর জলে নৌকা ভাসায়, তখন দু'চোখ বুজে, হাল ধরে। তাকে দেখলে একজন দক্ষ মাঝি হিসেবেই মনে হয়। দক্ষ মাঝিরা তার মতো করেই হাল ধরে। এভাবেই তারা নৌকা চালনা করে। তাই চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে উদ্দেশ্য করে তাকে 'জবর মাঝি সাচ্চা' বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সামির চরিত্রের সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ায় ব্যাঙের চরিত্রটি সংগতিপূর্ণ।
পৃথিবীতে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে নির্দিষ্ট কাজের বাইরেও কখনো কখনো কিছু কাজ করতে হয়। আবার কেউ কেউ দ্বেচ্ছায় কিছু কাজ সানন্দে করে থাকে। এতে তারা আনন্দ পায় ।
উদ্দীপকের সামির গরুর দুধ বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে। এই উপার্জিত আয়েই তার সংসার চলে। এলাকার বিভিন্ন গৃহস্থ বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করে বাজারে যাওয়ার সময় সে গ্রামের ভালো-মন্দ নানান খবর অন্যদের জানিয়ে যায়। সামির চরিত্রের এই বৈশিষ্ট্য 'চিঠি 'বিলি' কবিতার ব্যাঙের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। ব্যাঙ চিঠি বিলি করে। চিঠি বিলি করাই তার কাজ। চিঠি বিলি করতে বের হয়ে সে অনেকের খোঁজখবর জানতে পারে। সেসব 'খবর সংগ্রহ করে সে অন্যদের সেগুলো জানায়। ছড়াটিতে চিংড়ি, খলসে, ভেটকি, কাতলা, বর্ষা প্রভৃতির নানান খবর ব্যাঙের মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং এসব দিক বিবেচনায় ব্যাঙের সঙ্গেই উদ্দীপকের সামির চরিত্রটিকে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয়।
"নির্ধারিত কাজের বাইরেও ছোটো ছোটো কাজের মাধ্যমে মানুষ অন্যরকম আনন্দ পেতে ও দিতে পারে"- উদ্দীপক ও 'চিঠি বিলি' ছড়া অবলম্বনে এ উক্তিটি যৌক্তিক।
পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকেই কিছু না কিছু দায়িত্বে নিয়োজিত হতে হয়। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকে। তবে নির্ধারিত কাজের বাইরেও মানুষ কখনো কখনো এমন কিছু কাজ করে থাকে, যা তাকে আনন্দ পেতে ও অন্যকে আনন্দদানে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের সামির এলাকার গৃহস্থ বাড়ি থেকে গরুর দুধ সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে। দুধ বিক্রির টাকা দিয়েই সে জীবিকা নির্বাহ করে। এলাকায় সে বেশ পরিচিত। গ্রামের ভালো-মন্দ নানান খরব তার কাছ থেকে অন্যরা জানতে পারে। দুধ নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় সে এই কাজটি করে থাকে। এ ধরনের কাজ করার মধ্য দিয়ে সামির অন্যরকম আনন্দ বোধ করে। এমনই এক বিষয় 'চিঠি বিলি' ছড়াতেও পরিলক্ষিত হয়।
'চিঠি বিলি' ছড়াটিতে ব্যাঙ চিঠি বিলি করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তার নির্ধারিত কাজ করতে গিয়ে সে বিভিন্ন খবর জানতে পারে এবং সেগুলো অন্যদের জানায়। ভেটকি মাছের নাতনির দেশের বাইরে যাওয়ার কথা, দেশজুড়ে একটানা বৃষ্টি হওয়ার খবরও তার মাধ্যমে জানা যায়। চিঠি বিলি করতে বের হয়ে বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে তা অন্যদের কাছে পৌছে দেওয়ার কাজটি সে স্বেচ্ছায় করে থাকে। এ ধরনের কাজ করলে আনন্দ যেমন পাওয়া যায় তেমনই অন্যদেরও আনন্দ দেওয়া যায়। তাই উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
দেশের বাইরে গেছে ভেটকি মাছের নাতনি।
ব্যাঙ খেয়া নৌকা ধরার জন্য ছুটছে।
ব্যাঙ চিঠি বিলি করতে যাবে। তাকে খেয়া নৌকায় নদী পাড়ি দিতে হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে যাতায়াতের একটি অন্যতম মাধ্যম হলো এই নৌকা। এদেশের নদীগুলোতে ছোটো-বড়ো অসংখ্য নৌকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সাধারণেরা যাতায়াতের জন্য খেয়া নৌকাগুলোই বেশি ব্যবহার করে থাকে। ব্যাঙও খেয়া নৌকাতেই নদীর ওপারে যাবে। তাই সে খেয়া নৌকা ধরার জন্য ছুটছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!