যে সকল কৃষক তাদের এক বা তা থেকে অল্প কিছু বেশি জমি অথবা কারো কাছ থেকে বর্গা নিয়ে চাষ করে তাদেরকে প্রান্তিক কৃষক বলে।
সীমিত সংখ্যক কৃষক একমত হয়ে নিজেদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কৃষি সমবায় গড়ে তোলেন।
কৃষি সমবায় পদ্ধতিতে সকলে মিলে কাজ করলে কঠিন কাজও সহজ হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও কলাকৌশল ব্যবহার করা যায়। সহজেই কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করা যায়। কৃষিপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়। তাছাড়াও সঠিকভাবে ফসল প্রক্রিয়াজাত এবং গুদামঘরের ব্যবস্থাও করা যায়। যার ফলে সঠিক সময়ে ভালো দামে ফসল বিক্রয় সম্ভব হয়। এভাবে কৃষি সমবায় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়। এ কারণেই কৃষি সমবায় গঠন করা হয়।
পিরোজপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিতে নতুন নতুন ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ও কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় নানামুখী সমস্যায় পড়ে। নিচে তাদের সমস্যাগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
কী কী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন তা তুলে ধরা হলো-
i. আধুনিক কৃষিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় কৃষি বেশ ব্যয়বহুল যা একার পক্ষে বহন করা কষ্টকর ছিল।
ii. কৃষির আধুনিকায়নের জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রয়োজন কিন্তু এ সকল যন্ত্রপাতি ক্রয়, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করা তার একক মালিকানায় সম্ভব হয়নি।
iii. যখন ফসলের বাম্পার ফলন হয় তখন দাম পড়ে যায়, কোনো কোনো সময় উৎপাদন ব্যয়ও উঠে আসেনা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা নিজস্ব ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা একার পক্ষে সম্ভব হয় না।
iv. গুদামের অভাবে ফসল নষ্ট হয়ে যায় কিংবা অল্প দামে বিক্রয়ে বাধ্য হয়।
অর্থাৎ পিরোজপুর গ্রামের কৃষকরা ফসল চাষে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।
'সর্বসান্তের মুখে পিরোজপুরের কৃষকরা' শিরোনামে পত্রিকায় প্রতিবেদন দেখে স্থানীয় সমবায় কর্মকর্তা ঐ গ্রামে একটি সেমিনার আয়োজন করে সকল কৃষককে সমবায় গঠনের পরামর্শ দেন।
কৃষিকাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে এবং কৃষি থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি সমবায় গড়ে তোলা হয়। কৃষি সমবায়গুলো সাধারণত এলাকা বা স্থানভিত্তিক হয়ে থাকে।
আধুনিক কৃষিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় কৃষি বেশ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাম্পার ফলন হলে দাম কমে যাচ্ছে। কোনো কোনো সময় উৎপাদন ব্যয়ও উঠছে না। যদি এলাকায় কৃষকদের নিজস্ব প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র থাকতো বা বড় গুদাম থাকতো তবে এই আর্থিক ক্ষতি এড়ানো যেত। কোনো কৃষকের একার পক্ষে এ সুবিধাগুলো অর্জন সম্ভব। না হলেও প্রত্যেক সমবায়ী কৃষক তার জমি ও পুঁজির আনুপাতিকহারে
মুনাফার শরিকানা লাভের মাধ্যমে একজোট হয়ে সহজেই এ কাজ
করতে পারেন। এটাই সাধারণত সমবায়ের ভিত্তি। পরিবেশবান্ধব কৃষি
প্রযুক্তিসমূহ যেমন- শস্যপর্যায় অবলম্বন, নিবিড় ও সমন্বিত চাষাবাদ
পদ্ধতি, সমন্বিত বালাইদমন পদ্ধতি ইত্যাদি ব্যবহার করে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যান্ত্রিক উপায়ে ফসল সংগ্রহ, পরিবহন, বিপণনের মাধ্যমে অধিক মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে।
উল্লিখিত উপায়ে সমবায় কর্মকর্তার পরামর্শে উক্ত গ্রামের কৃষকেরা কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হন।
Related Question
View Allকৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ, সংগ্রহোত্তর 'পরিচর্যা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কৃষকগণ যে সমবায় গড়ে তোলেন তাকে কৃষি সমবায় বলে।
একই উদ্দেশ্যে একজোট হয়ে কাজ করাকে সমবায় বলে।
কারো একার পক্ষে যে কাজ সম্ভব নয় তা সমবায়ের মাধ্যমে সকলে মিলে সহজেই করা সম্ভব। জমি ও পুঁজির আনুপাতিক হারে মুনাফার শরিকানা লাভ সমবায়ের মূল ভিত্তি। সমবায় পদ্ধতিতে প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হয়। তাই অংশীদারকে তার নির্দিষ্ট কাজ সঠিক ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। এভাবে সমবায় ব্যবস্থা অপরকে সক্রিয় হতে শেখায়।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে পরিমল বাবু মনিপুর গ্রামের কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে কৃষি ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে আগ্রহী কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিমল বাবু সমিতি গঠনের কার্যক্রম সূচনা করেন। এরপর কৃষি সমবায় সমিতির মূল শর্ত তথা বিধিগুলো আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি স্থানীয় উপজেলা কৃষি, পশু পালন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং সমবায় অধিদপ্তরের সহযোগিতা নেন। সমবায় অধিদপ্তর প্রণীত কৃষি সমবায় প্রণালি অনুসরণ করে তিনি কৃষি সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং যথা নিয়মে রেজিস্ট্রি করেন। কেননা সরকারি ও বেসরকারি দাতা সংস্থাগুলো তখনই ঋণ দিতে আগ্রহী হবে যখন ঋণ গ্রহীতার নিবন্ধনকৃত পরিচয়পত্র থাকবে, ঋণ থেকে প্রাপ্ত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের ও পরিশোধের নিশ্চয়তা থাকবে।
অর্থাৎ, পরিমল বাবু কৃষি ঋণ প্রাপ্তির জন্য উল্লিখিত কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন।
যুব উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে গ্রামের কৃষকগণ গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে সমবায়ের মাধ্যমে 'ফুল নার্সারি' স্থাপন করে।
যশোর জেলার মনিপুর গ্রামের কৃষকদের পক্ষে তাদের সামান্য আবাদি জমিতে এককভাবে অধিক উপার্জনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। মাঠ ফসল যেমন- ধান, পাট, গম, আলু ইত্যাদির আবাদও ঐ সামান্য জমিতে করে লাভবান হওয়া যায় না।
যশোর জেলার মাটি ও আবহাওয়া ফুল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সমবায়ের মাধ্যমে গোমেজ বাবুর নেতৃত্বে নার্সারি গড়ে ওঠায় ঐ এলাকার কৃষকগণ ফুল উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন কাজে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে করে তাদের সারা বছর কাজের সংস্থান হয়। কৃষকগণ যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করায় আশানুরুপ ফলন পায়। অর্থাৎ, সমবায়ের মাধ্যমে ঐ সামান্য জমিতে ফুল নার্সারি স্থাপন করে কৃষকগণ অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।
তাই বলা যায়, যশোর অঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গোমেজ বাবুর গৃহীত কার্যক্রম ও নেতৃত্ব যথার্থ ছিল।
কৃষিকাজকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা নেওয়া হয় সেটা হলো কৃষি ঋণ।
কৃষিকাজ সম্পন্ন করতে এবং কৃষি থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি সমবায় গড়ে তোলা হয়।
কৃষক হঠাৎ বিপর্যয়ে যেমন- প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হলে কৃষি সমবায় কৃষককে প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দেয়। এছাড়াও কৃষি সমবায় কৃষককে ঋণ সুবিধা প্রদান করে এবং উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বীজ, সার, ঔষধ, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি উপকরণ সরবরাহ করে থাকে। কৃষি পণ্য গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এই কৃষি সমবায়। ফলে কৃষকেরা ঝুঁকি এড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জন করতে পারে। এভাবেই কৃষি সমবায় কৃষককে হঠাৎ বিপর্যয়ে সহনশীলতা যোগায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!