পুঞ্জীভূত রাগ ও ক্ষোভে আমি অন্ধ। নিজের অসহায়তায় নিজেই লজ্জিত। মা আমার মুখের পানে চেয়ে বুঝতে পারছেন আমার ব্যথা। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না। বাবা হঠাৎ বাড়ি ঢুকে পড়লেন। তাকে খুবই উত্তেজিত মনে হল এবং অসময়ে অফিস থেকে বাসায় চলে, আসার জন্য মাও আমার মতো অবাক হলেন। তিনি কোনো কথা না বলে নামাজ পড়তে বসলেন। আমার অন্তরাত্মা কাঁদছে, কাঁপছে। আমি কি এমন অসহায়! এত শিশু! আমি কি যেতে পারব না দশজনের সঙ্গে? আমি কি গলা ছেড়ে বলতে পারব না রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। আমি কি যাব না মিছিলে? মৃত্যু-হত্যা-অশ্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলব না ভাষা আমার মা!

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

তপুর জন্য গড়াগড়ি দিয়ে তপুর মা কান্না করেছিলেন।

উত্তরঃ

তপু তার হোস্টেলের কামরায় আবিষ্কৃত হলো নতুন রুমটেটের ব্যবহৃত কঙ্কালের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে তপু চার বছর আগে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গিয়ে শহিদ হয়। তপুর সিটে আসা নতুন ছেলেটি এনাটমির বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে একটি মাথার খুলি বের করে, তাতে সে কপালের মাঝখানে একটি গর্ত দেখে রাহাতকে ডাকে। রাহাত কৌতূহলী হয়ে কঙ্কালটি হাতে নেয় এবং কঙ্কালের পা মেপে দেখে যে, ডান পায়ের তুলনায় বাম পা-টি দু ইঞ্চি ছোট এবং তার কপালে ঠিক মাঝখানটায় গুলি লেগেছিল। এভাবে গল্পকথক ও রাহাত নিশ্চিত হয় যে, কঙ্কালটি তপুরই।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।

যারা দেশকে মনে-প্রাণে ভালোবাসেন তারা দেশের ক্রান্তিকালে কোনোমতেই ঘরে বসে থাকতে পারেন না। দেশের জন্য লড়াই করতে তারা সব সময় প্রস্তুত থাকেন। এমন সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষদের কাছে দেশই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

উদ্দীপকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে এক ব্যক্তির মিছিলে যাওয়ার আগ্রহ এবং যেতে না পারার ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে তিনি। অন্যদের সঙ্গে মিছিলে যেতে না পারার রাগ ও ক্ষোভের কথা বলেছেন। তার এ ক্ষোভের কারণ তার বাবা তাকে মিছিলে যেতে দিচ্ছেন না। অথচ তিনি মিছিলে যেতে চান, মৃত্যু-হত্যা-অশ্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলতে চান 'ভাষা আমার মা'। 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পেও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে দলে দলে মানুষ রাজপথে মিছিল করে। সব বাধা-নিষেধ, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা রাজপথে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' জ্বালাময়ী স্লোগান দেয়। সেখানে তপু মিলিটারির গুলিতে শহিদ হয়। চেতনাকেই নির্দেশ করে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের চেতনা এবং 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের চেতনা একসূত্রে গাঁথা। মন্তব্যটি যথার্থ।

বাঙালি ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন বিলিয়ে দেয়। অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন বাঙালি জাতিকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ও শক্তিশালী করে তোলে।

উদ্দীপকের লেখক রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে গিয়ে গলা ছেড়ে বলতে চান 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'- 'ভাষা আমার মা'। অথচ তার বাবার কারণে তিনি মিছিলে যোগ দিতে পারেন না। "একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পেও অনুরূপ চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। এ গল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে তপু গল্পকথক ও রাহাতও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে তপু কপালে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হয়।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে গল্পকথকের জবানিতে ভাষা আন্দোলনের কালপর্বের বাংলাদেশের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলার ভাষার জন্যে মিছিল হলে সেই মিছিলে গল্পকথক, তপু ও রাহাত অংশগ্রহণ করে। তাদের এমন চেতনা মূলত সংগ্রামী চেতনাকেই নির্দেশ করে যা উদ্দীপকের চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

62
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
773
উত্তরঃ

তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর মৃতদেহ দুজন মিলিটারি নিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তপুর কঙ্কাল দেখছে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের কথক তপুর বন্ধু। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তপু, রাহাত ও গল্পকথক অংশ নিয়েছিল। তারা চার বছর আগে ভাষার মিছিলে যোগ দিয়ে হাইকোর্টের মোড়ে যাওয়ার পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মিছিলে গুলি চালায়। লাল কালিতে লেখা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড-নিয়ে তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন মিলিটারি এসে তপুর মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। সেই ঘটনার চার বছর পর হোস্টেলে তপুর সিটে আসা নতুন রুমমেটের কাছে থাকা কঙ্কালটি কাকতালীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর। অন্যরূপে হলেও প্রিয় বন্ধু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।

626
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' রচনার তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

বাঙালি হলো বীরের জাতি। তারা অধিকার আদায়ে ছিল তৎপর। তাদের উপর যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার হয়েছে তখনই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। আদায় করেছে নিজেদের অধিকার।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক তরুণের আত্মদানের কথা বলা হয়েছে। এই তরুণের নাম মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। তিনি আগস্ট মাসে ধরা পড়ে শত্রুর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তবুও সহযোদ্ধাদের কোনো তথ্য তিনি শত্রুদের দেননি। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চেতনা 'একুশের গল্প' ছোটগল্পের তপুর সাহসী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তপু 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছে। স্ত্রী রেণুর বাধা, অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। এভাবে উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' শীর্ষক গল্পটির তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ

323
উত্তরঃ

যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্প কথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় মানুষের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে।

একজন দেশপ্রেমিক সব সময় দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। অধিকার আদায়ের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন আন্দোলন করতে হয়। মানুষ ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে।

'একুশের গল্প' গল্পে গল্পকথক, রাহাত ও তপু- তারা তিন বন্ধু ভাষা আন্দোলনে যোগ দেয় এবং 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' বলে স্লোগান দেয়। মিছিলে শত্রুরা গুলি চালালে তপু পুলিবিদ্ধ হয়ে প্লাকার্ডসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার জন্য তার এ আত্মদানের সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের মিল রয়েছে। তিনিও প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে শত্রুর নির্মমতা সহ্য করেছেন, তবুও সহযোদ্ধাদের বিষয়ে কোনো প্রকার তথ্য দেননি।

'একুশের গল্প' গল্পে তপু ও তার বন্ধুরা অসীম সাহস নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে পড়ে। তাদের মতো উদ্দীপকের আজাদও দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য একই কাতারে দাঁড়িয়েছে। আসলে তরুণের ধর্মই এই। দেশে যখনই কোনো ক্রান্তিকালে পড়ে তখনই তরুণরা দেশ উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, দেশমাতৃকার প্রশ্নে যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়।

244
উত্তরঃ

"তুমিও চলো না আমাদের সাথে।"- কথাটি তপু বলেছে তার স্ত্রী রেণুকে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যেতে।

'একুশের গল্প' শীর্ষক ছোটগল্পে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও জীবনদানের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তপু তার বন্ধু গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়। একটু পরে তপুর স্ত্রী রেণু এসে তপুর হাত ধরে, তাকে মিছিলে থেকে সরিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। তপু তখন স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তাকেও মিছিলে যোগ দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।

146
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews