'গুপ্ত কৃপাণ' হলো- লুকানো ছোট তরবারি।
জামার নিচে তলোয়ার লুকিয়ে রেখে রণবীর চৌহান নামের এক রাজপুত যুবক সম্রাট বাবুরকে হত্যা করার জন্য দিল্লির পথে পথে ঘুরছে।
সম্রাট বাবুর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইব্রাহিম লোদিকে পানিপথের যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। পরে রাজপুতনার অন্তর্গত মেবার রাজ্যের অধিপতি রাজা সংগ্রাম সিংহকেও খানুয়ার প্রান্তরে পরাজিত করে সেই রাজ্যও দখল করেন। এতে মেবারের মানুষ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। ফলে স্বদেশপ্রেমিক রাজপুত যুবক বাবুরকে হত্যা করে তার দেশের অপমান ঘোচাতে জামার নিচে তলোয়ার লুকিয়ে নিয়ে দিল্লির পথে পথে ঘুরে বেড়ায়।
উদ্দীপকের পথিকের সাথে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার রণবীর চৌহান চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মানুষ নানা হিংসাত্মক কাজ করতে পারে। তবে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের পর যখন তার ভুল বুঝতে পারে তখন অনুশোচনায় দগ্ধ হয়। মানবিকতাবোধ জাগরণের ফলে সে তখন হতে পারে খাঁটি মানুষ।
উদ্দীপকের পথিক ইউসুফের পুত্রের হত্যাকারী। সে একদিন বিপদে পড়ে ইউসুফের বাড়িতে আশ্রয় নেয় এবং ঘটনাচক্রে ইউসুফকে জানায় সেই ইব্রাহিমের হত্যাকারী। এ কথা শোনার পরও ইউসুফ পথিককে ক্ষমা করে দিয়ে দূরদেশে পাঠিয়ে দেন। 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় রণবীর চৌহানও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে বাবুরকে হত্যা করতে সংকল্পবদ্ধ হন। সুযোগ খুঁজতে থাকেন কীভাবে বাবুরকে হত্যা করতে পারবেন। কিন্তু যখন দেখেন বাবুর নিজের জীবন বাজি রেখে একজন মেথর শিশুর জীবন বাঁচালেন তখন চৌহান বাবুরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বাবুরও তাকে ক্ষমা করে নিজের দেহরক্ষী নিযুক্ত করেন। রণবীর চৌহানের সঙ্গে উদ্দীপকের পথিকের এখানেই সাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকের ইউসুফ যেন 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার সম্রাট বাবুরের যথার্থ প্রতিনিধি।" মন্তব্যটি যথার্থ।
ক্ষমা মহৎ গুণাবলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠগুণ। মহৎ মানুষ সব সংকীর্ণতা, দীনতা ও হীনতার ঊর্ধ্বে গিয়ে মানুষকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। ক্ষমার মধ্য দিয়েই মাবিকতার চূড়ান্ত আদর্শ গড়ে তোলা যায়।
উদ্দীপকের ইউসুফ একজন ক্ষমাশীল ব্যক্তি। দীর্ঘদিন থেকে অনুসন্ধান করতে থাকা পুত্র হত্যাকারীকে পেয়েও তিনি তাকে ক্ষমা করেছেন, মুক্তি দিয়েছেন। কেননা হত্যাকারী তার কাছে নিজ মুখে দোষ স্বীকার করেছে। 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় সম্রাট বাবুরের মাঝেও এমন ক্ষমাশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি হত্যার ষড়যন্ত্রকারী রণবীর চৌহানকে ক্ষমা করে নিজের দেহরক্ষী নিযুক্ত করেন।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় সম্রাট বাবুরের বিজয় রাজপুতরা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। রাজপুতবীর রণবীর চৌহান বাবুরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে দিল্লির রাজপথে ঘুরছিলেন। এমন সময় বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এক মত্ত হাতির কবল থেকে একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করে। এ দৃশ্য দেখে রণবীর বাবুরের কাছে গিয়ে তার উদ্দেশ্যের কথা বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বাবুর তাকে ক্ষমা করে মানবিকতা ও ক্ষমাশীলতার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। উদ্দীপকের ইউসুফও পুত্র হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন। এসব বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allরণবীর চৌহান হলেন স্বদেশপ্রেমিক রাজপুত যুবক।
প্রশ্নোক্ত কথাটি সম্রাট বাবুর রণবীরর চৌহানকে বলেছেন।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ডারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবুরের মহৎ আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে। রাজপুত-বীর তরুণ রণবীর চৌহান বাবুরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রাজপথে ঘুরছিল। এমন সময় বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মত্ত হাতির কবল থেকে রাজপথে পড়ে থাকা একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেন। রণবীর চৌহান বাবুরের এমন মহানুভবতা দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়। সে বাবুরের পায়ে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি পেতে চায়। তখন বাবুর রণবীর চৌহানকে বলেন, কাউকে শাস্তি দেওয়া সহজ কিন্তু ক্ষমা করে জীবন দান দেওয়া কঠিন।
উদ্দীপকে বর্ণিত বড় মিয়ার আচরণে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ফুটে ওঠা দিকটি হলো- সম্রাট বাবুবের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতা।
পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই একে অন্যের বিপদে-আপদে এগিয়ে এসে মানবিকতার পরিচয় দেয়। কোনো কোনো সময় নিজের জীবন দিয়ে হলেও অন্যের মঙ্গল সাধন করে। কারণ তারা বিশ্বাস করে মানুষ মানুষের জন্য।
উদ্দীপকে বড় মিয়া নামের এক যুবক নিজের জীবন দিয়ে একটি ডুবন্ত শিশুর জীবন বাঁচান। বন্যায় প্রচণ্ড স্রোতের টানে নৌকা উল্টে ডুবে যাওয়া একটি শিশু উদ্ধার করতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন বড় মিয়া। অল্পক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে তিনি পাড়ে ওঠেন। তিনি তখন প্রচন্ড ক্লান্ত। তার দেহ নেতিয়ে পড়ে। ডাক্তার এসে পরীক্ষার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই। তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন একটি মানবশিশুকে বাঁচাতে গিয়ে। উদ্দীপকে তার যে মানবতাবোধের পরিচয় পাওয়া যায় তা 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় বাবুরের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ বাবুর নিজে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। একদিন মত্ত হাতির সামনে থেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতির শুঁড়ের ঘঁষা সহ্য করে একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেছেন। তাকে হত্যা করতে রণবীর চৌহান রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে জেনেও তাকে ক্ষমা করেছেন।
উদ্দীপকটিতে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও সমভাব ধারণ করে না- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষই সমান। ধনী-দরিদ্রের যে বৈষম্য আমাদের সমাজে বিদ্যমান তা মানুষের সুখ-শান্তির অন্তরায়। 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য'- এই সত্যকে সামনে রেখে মানুষ কাজ করলে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে।
উদ্দীপকে দুর্ঘটনা কবলিত একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বড় মিয়া নামের এক মহানুভব যুবকের জীবন বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। এই ব্যক্তির মানবতাবোধ 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার বাবুরের মানবতাবোধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বাবুর যেভাবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং রাজ্যবিস্তারে যুদ্ধ পরিচালনায় সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, সে ধরনের ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় কবি দুটি দিক তুলে ধরেছেন। এক বাবুরের যুদ্ধবিগ্রহ, রাজ্য জয় ও রাজ্য বিস্তার এবং দুই রাজ্যের প্রজাদের মন জয় করার জন্য তাদের প্রতি মহানুভবতা ও সেবা প্রদান। এ দুটির মধ্যে প্রথম বিষয়টি উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকটি কেবল দ্বিতীয় বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
বাবুরের আসল নাম জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ।
সঁপিনু জীবন, করুন এখন দণ্ডবিধান মোর। - রাজপুত বীর রনবীর চৌহান সম্রাট বাবুরের মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে উক্তিটি করেছে।
রাজপুত বীর রণবীর চৌহান প্রতিশোধ নেবার জন্য সম্রাট বাবুরকে হত্যা করার সুযোগ খোঁজেন। একদিন দেখেন বাবুর মত্ত হাতির কবল থেকে এক মেথর শিশুকে বাঁচান আপন জীবন বিপন্ন করে। তার মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে রণবীর বাবুরের কাছে তার উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!