আমাদের দেশের রমণীরা হাওয়ার শাড়ি পরেন।
লেখিকা বাঙালি পুরুষের পোশাককে সূক্ষ্ম ও বায়ুসঞ্চালনের উপযোগী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা সূক্ষ্ম হাস্যরস সহযোগে বাঙালি পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদ তুলে ধরেছেন। খাদ্যাভ্যাস সরস, সুস্বাদু ও রসালো হওয়ায় বাঙালি পুরুষের দেহ তেলতেলে ও কোমল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ফলে তাদের পরিধেয় বস্ত্রও অতি সূক্ষ্ম। বিশেষত তাদের পরিধেয় ধুতি-চাদর তৈরি হয় সূক্ষ্ম শিমুল তুলা থেকে। এ ধরনের হালকা পোশাক বায়ু সঞ্চালনের বিশেষ উপযোগী। এছাড়া কখনো কখনো তারা আধুনিক সভ্যতার অনুকরণে কোট-শার্ট প্রভৃতি ইউরোপীয় পোশাক পরে থাকে।
উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের পুরুষের দেখাদেখি নারীদের আলস্যপ্রিয় হয়ে ওঠার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মানুষ তার সঙ্গীর দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। সৎ সঙ্গীর সঙ্গে মিশে মানুষ নিজেকে সৎ করে তুলতে পারে, আবার অসৎ সঙ্গী তাকে অসৎ পথে নিয়ে যেতে পারে। একইভাবে পরিশ্রমী বন্ধুর অনুপ্রেরণায় নিজেকে পরিশ্রমী করে তোলা যায়।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালিকে দুর্বল নিরীহ বলে কটাক্ষ করেছেন। বাঙালি পুরুষরা কষ্টসহিষ্ণু নয়। তারা আলস্যে অভ্যন্ত। তাদের দেখাদেখি তাদের রমণীরাও শ্রমবিমুখ হয়ে উঠেছে। তারা কোমলাঙ্গ হওয়ায় রান্নার কাজে সহিষ্ণুতা অর্জন করেনি। উদ্দীপকে পুরুষদের প্ররোচনায় নারীদের অকর্মণ্য হয়ে ওঠার দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এদেশের ভদ্রমহিলারা তাদের কর্তব্যের তুলনায় কম পরিশ্রম করে। তাদের আলোচনায় অন্যের নিন্দা, বাকপটুতার মতো অসংগতি লক্ষণীয়। নারীদের শ্রমবিমুখতার দিক দিয়ে উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এভাবে উদ্দীপকটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের পুরুষের দেখাদেখি নারীদের আলস্যপ্রিয় হয়ে ওঠার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটিতে যদি রমণীদের পাশাপাশি বাঙালি পুরুষদের অলসতার দিকটি উঠে আসত তাহলে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তুর প্রতিনিধিত্ব করত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলে নারী-পুরুষ একে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়। এজন্য সঙ্গীর প্রভাবে মানুষের আচরণ-অভ্যাসেও পরিবর্তন ঘটতে দেখা যায়। কারণ, “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।”
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারীদের মূর্তিমান কবিতা বলে কটাক্ষ করেছেন। লেখিকা বাঙালির আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ ও কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে দেখিয়েছেন যে, এরা শ্রমবিমুখ, অকর্মণ্য, দুর্বল, অলস জাতি। বাঙালি নারীরা এই ক্ষেত্রে আরও অগ্রণী। তারা নিজেদের খাবার রান্না করার তাপটুকু সহ্য করতে নারাজ। উদ্দীপকে পুরুষের কুচক্রান্তে নারীরা শিক্ষাবিমুখ হয়ে অকর্মণ্য থাকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এদেশের ভদ্রমহিলারা কর্তব্যের চেয়ে কম কাজ করে। এজন্য দশজন নারী একত্র হলে পরনিন্দা, পরচর্চা বা কোন্দল বাধিয়ে দেয়।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণিকে অকর্মণ্য বলে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি পুরুষরা কায়িক শ্রমের কৃষিকাজ এবং অনিশ্চিত শ্রমলব্ধ বাণিজ্য করতে প্রস্তুত নয়। এজন্য তারা জমি কর্ষণ করে ফসল ফলানোর চেয়ে কৃষি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকে প্রাধান্য দেয়। এই দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allশেমিজ জ্যাকেট জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন তাদের আলস্য বা অলসতার জন্য।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির জীবনাচরণের নানা অসংগতিকে কটাক্ষ করেছেন। পুরুষরা আলস্যপ্রিয়। আর নারী অহেতুক রূপচর্চা, পরনিন্দা এবং নিজেকে হীনবল মনে করে গৃহকোণে বন্দি জীবনযাপন করতে বেশি পছন্দ করে। ফলে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উন্নতি নেই। তাই লেখিকা বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন।
নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে আলোচিত অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। বাঙালির এ স্বভাব তাদের উন্নতির প্রধান অন্তরায়।
উদ্দীপকে নন্দলালের শ্রমবিমুখতা এবং তার আলস্যভরা জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বাড়ির বাইরে গেলে কোথায় কোন সমস্যায় পড়ে এই ভয়ে সে সব কাজ ফেলে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে পছন্দ করে। তার এই মূল্যহীন যুক্তি ও অলসতা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি পুরুষদের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা প্রভৃতি নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। পরিশ্রম না করা ও ভোজনপ্রিয়তার ফলে বাঙালি পুরুষদের ভুঁড়িটি সজিনার মতোই স্কুল দেখায়। এভাবে উদ্দীপকের নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উপেক্ষিত দিকটি হলো বাঙালির আলস্যের প্রতি লেখিকার কঠোর সমালোচনা।
বাঙালি শ্রমবিমুখ, অলস। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আরামপ্রিয়তার কারণেই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি থেকে পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে বাঙালি জাতি পরিশ্রম অপেক্ষা তোষামোদ করতে বেশি পছন্দ করে।
উদ্দীপকে নন্দলালের অজানা কোনো একটা সমস্যা-সংকটের ভয় এবং অলসতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তার এই ভয়, কর্মবিমুখতা বাঙালির মজ্জাগত স্বভাববৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে নন্দলালের আলস্যকে সবাই সমর্থন করলেও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা তাদের কঠোর সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছেন। লেখিকা বাঙালির এমন আরামপ্রিয়তা ও পরিশ্রম না করার দিকগুলোকে নির্বুদ্ধিতা ও অনুচিত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা উদ্দীপকে উপেক্ষিত।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা হাস্যরসের মাধ্যমে বাঙালি পুরুষের কর্মবিমুখতা এবং বাঙালি নারীর দুর্বলচিত্ত ও অহেতুক রূপচর্চা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। লেখিকা দেখিয়েছেন বাঙালির এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তাদেরকে কতটা নিচুস্তরে নামিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধটির মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। অথচ উদ্দীপকে সকলে নন্দলালের উদ্ভট কাজগুলোকে সমর্থন করছে, তার আচরণগুলো পরিবর্তনের জন্য কিছুই বলছে না। ফলে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উল্লিখিত দিকগুলো উদ্দীপকে উপেক্ষিত হতে দেখা যায়।
মূলত যৌতুক প্রথা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক উক্তিটি করেছেন।
বাঙালিরা আরামপ্রিয় হওয়ার কারণে বর অর্থাৎ ছেলেরা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জনের চেয়ে পাশ বিক্রয় করে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা গ্রহণকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যার কারণে ছেলের যত পড়াশোনা যৌতুকের বাজারে তার মূল্য তত বেশি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি বরেরা পাশ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!