যেকোনো কাজের সঠিক বাস্তবায়নের আকাঙ্ক্ষাকে লক্ষ্য বলে।
সামাজিক বিধি-নিষেধ ও নিয়ম-কানুন হতে যে মানের সৃষ্টি হয় তাকে প্রচলিত মান বলে।
প্রচলিত মান নির্দিষ্ট হয়। এ মান সহজে পরিবর্তন করা যায় না। এ ধরনের মান ঐতিহ্যগত এবং সমাজ দ্বারা স্বীকৃত। সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির আঙ্গিকে প্রচলিত মান গড়ে ওঠে। যেমন- আমাদের দেশের ছেলেরা শার্ট-প্যান্ট এবং মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ি পরিধান করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত A চিহ্নিত স্থান গৃহ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে 'নিয়ন্ত্রণ' ধাপটিকে ইঙ্গিত করে।
নিয়ন্ত্রণের আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কিছু পরিচালনা করা, দমন করা, বিরত রাখা, আয়ত্তে রাখা ইত্যাদি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কিনা তা যাচাই এবং কোনো ভুল-ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করাকে নিয়ন্ত্রণ বলে। ব্যবস্থাপনার জনক Henri Fayol এর মতে, "নিয়ন্ত্রণ হলো গৃহীত পরিকল্পনা ও জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করা।"
গৃহ ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ধাপটি কাজের সঠিক গতি নির্ধারণ করে। এটি পরিবারের সব কাজে প্রয়োগ করা হয়। নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যত পরিবেশ বা অবস্থায় প্রভাব বিস্তার করে। নিয়ন্ত্রণ নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের যেসব কাজ দেওয়া হয় সব সময় সেসব কাজ তারা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। তখন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে কাজের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বের করা হয় এবং সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে পরিবারের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঠামোতে A চিহ্নিত স্থানটি 'নিয়ন্ত্রণ' আর 'B' চিহ্নিত স্থানটি 'লক্ষ্য অর্জন' নির্দেশ করছে।
লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের সব কর্মকান্ড আবর্তিত হয়। নিয়ন্ত্রণ ছাড়া লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। নিয়ন্ত্রণ ধাপের মাধ্যমেই দেখা হয় পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ পরিচালিত হচ্ছে কি না। এটি কাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে ও গতিকে সহজ সরল করে। কাজে যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয় তাহলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় তা সহজেই ধরা পড়ে। এতে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। নিয়ন্ত্রণ সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করে। কাজ চলাকালীন সময়ে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হয়, যে পরিকল্পনা করা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না এবং যাকে যে কাজ দেওয়া হয়েছে সে সঠিকভাবে করছে কি না। প্রয়োজনে কাজের ধারা পরিবর্তন করে সম্পাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজ চলাকালীন সময়ে সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বজায় থাকলে সেটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়। যেকোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে নতুন সিদ্বান্ত অথবা কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ কোনো গৃহিণী মেনু পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি তালিকা তৈরি করে বাজার করতে গেলেন। বাজারে গিয়ে দেখলেন তালিকার কিছু কিছু দ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে না। তখন তালিকাভূক্ত না পাওয়া জিনিসের বিকল্প হিসেবে কি নেওয়া যায় সে বিষয়ে গৃহিণীকে নতুন করে সিদ্বান্ত নিতে হবে। এভাবে ভবিষ্যতে কী ধরনের বাধা ও সমস্যা আসতে পারে সে সম্বন্ধে দূরদৃষ্টি
Related Question
View Allলক্ষ্য অর্জনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন এবং মূল্যবান বলে মনে করা হয় তাকে মান বলে।
পরিকল্পনা গৃহে সময়, শক্তি ও অর্থের সাশ্রয় করে।
পরিকল্পনার সাথে কাজ করলে বাস্তববাদীভাবে অর্থ ব্যয় করা যায়।পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের মতামতের ওপর এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা চিন্তা করে পরিকল্পনা করলে কাজে সফল হওয়া যায়। তাই গৃহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।:
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত স্থান গৃহ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ধাপটি নির্দেশ করে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ গৃহ ব্যবস্থাপনা কার্যকলাপের মৌলিক অঙ্গ। এটি গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রাণস্বরূপ। সিদ্ধান্ত ছাড়া গৃহ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা যায় না।গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ যেকোনো সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ নির্দেশ দেয়।ফলে সর্বোত্তম সমাধান নিশ্চিত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সমস্যার স্বরূপ উদঘাটন করতে হয়। এজন্য সমস্যা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হয়। এতে মেধা, মননশীলতা, যুক্তি ও অনুসন্ধানী মনোভাব গড়ে ওঠে। সীমিত সম্পদ সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের ওপর পরিবারের সাফল্য নির্ভর করে। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এগুলো এমনভাবে ব্যবহার করাহয় যা থেকে সর্বোত্তম ফল লাভ করা যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিকল্প পন্থা নির্ধারণ করা হয় বলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অযথা সময় নষ্ট হয় না। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিবারকে নানা প্রতিকূলতা ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যায়
উদ্দীপকে 'B' গৃহ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য ধাপকে নির্দেশ করছে। আর এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গৃহ ব্যবস্থাপনার সবগুলো ধাপ চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপ বা পদ্ধতিসমূহ হচ্ছে পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, সমন্বয় সাধন, নিয়ন্ত্রণ, মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ। আমরা যদি কর্মসম্পাদনের সময় সচেতনভাবে ব্যবস্থাপনার এই ধাপসমূহ অনুসরণ করি তাহলে সহজেই লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব। লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে সিন্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে গৃহ ব্যবস্থাপনার ধাপসমূহ চক্রাকারে আবর্তিত থাকে।
পরিকল্পনা গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ও মৌলিক কাজ। লক্ষ্য অর্জনের জন্য কী করতে হবে, কখন ও কত সময় নিয়ে করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে পূর্বসিদ্ধান্ত গ্রহণই পরিকল্পনা। গৃহ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় ধাপ হলো সংগঠন। এই পর্যায়ে কোনো কাজ কোথায়, কীভাবে করা হবে তা স্থির করা হয়। সংগঠনের পরবর্তী ধাপ হলো নির্দেশনা। নির্দেশনা হলো কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মূল লক্ষ্যের আলোকে কাজ সম্পাদনের জন্য আদেশ-নির্দেশ প্রদান করা। পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুসারে কোনো কাজ বাস্তবে রূপান্তরিত করাই হলো বাস্তবায়ন। আর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সকল ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করে সংশোধনের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্দেশ্য অর্জন নিশ্চিত করা হয়। বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণের পরবর্তী ধাপ হচ্ছে সমন্বয়সাধন। এর মাধ্যমে মতানৈক্য দূর করে ব্যক্তিবর্গ ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য, সমঝোতা, সহযোগিতা ও সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। এতে কাজের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। গৃহ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে মূল্যায়ন। মূল্যায়নের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জিত হলো কি না আর যদি হয়ে থাকে সেটা কতোটা তা পরিমাপ করা যায়।
কোনো একটি কাজ সম্পূর্ণভাবে করার জন্য কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বর্ণনাই প্রসেস চার্ট।
কাজ করার স্থানের পরিসর এমন হওয়া উচিত, যাতে স্বাভাবিক দেহভঙ্গি ও দেহের অবস্থান ঠিক রেখে কাজ করা যায়। সময় এবং শক্তি সংরক্ষণে দেহভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসে বা দাঁড়িয়ে সহজভাবে হাতের নাগালের মধ্যে কাজের স্থান হলে সময় ও শ্রম বাঁচে এবং সহজে কাজ করা যায়। কাজ সহজ করার জন্য একইভাবে কাজ না করে সহজ উপায়ে সময় ও শক্তি ব্যয় করে কাজটি শেষ করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!