যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্ত্বা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলা হয়।
যুত ও ঘনীভবন পলিমারকরণের মধ্যে পার্থক্য:
যুত পলিমারকরণ:
i. যে পলিমারকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষুদ্র পদার্থের অপসারণ ব্যতীত মনোমার অণুসমূহ পরপর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল পলিমার গঠন করে তাকে যুত পলিমারকরণ বলে।
ii. সাধারণত, দ্বিবন্ধনযুক্ত যৌগে যুত পলিমারকরণ ঘটে।
ঘনীভবন পলিমারকরণ:
i. যে প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র পদার্থের অণু অপসারিত হয়ে ঘনীভবনের মাধ্যমে পলিমারকরণ ঘটে তাকে ঘনীভবন পলিমারকরণ বলে।
ii. সাধারণত দুটি কার্যকরীমূলক বিশিষ্ট একই বা ভিন্ন মনোমারের মধ্যে এ বিক্রিয়া ঘটে।
কোনো রাসায়নিক দ্রব্য সরবরাহ ও সংরক্ষণ করতে হলে তার পাত্রের গায়ে লেবেলের সাহায্যে শ্রেণিভেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংকেতিক চিহ্ন প্রদান করা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে বিস্ফোরক, দাহ্য, জারক অথবা মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থ সমূহ পৃথক পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ, বিস্ফোরক দ্রব্যসমূহ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে নতুবা আঘাত বা আগুনের সংস্পর্শে আসলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আশেপাশে অবস্থানকারী সকলের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। একইভাবে দাহ্য ও জারক পদার্থসমূহ আগুন ও তাপের সংস্পর্শে আনলে বিস্ফোরণ ঘটবে। উদ্দীপকের দূর্ঘটনাটি রাসায়নিক দ্রব্যের অসতর্কতামূলক সংরক্ষণের কারণেই সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্যসমূহের পাত্রের গায়ে প্রয়োজনীয় সাংকেতিক চিহ্নের অনুপস্থিতি, রাসায়নিক বস্তুর ভান্ডারের খুব কাছেই প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টিজনিত রান্নাবান্নার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে, সংরক্ষণ বিধি মেনে বিস্ফোরক দ্রব্যসমূহ নির্জনে ও স্থিত স্থানে সংরক্ষণ অতীব জরুরি।
নিমতলীতে সংঘটিত ট্র্যাজেডি থেকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, কোন রাসায়নিক দ্রব্য সরবরাহ বা সংরক্ষণ করতে হলে তার পাত্রের গায়ে লেবেলের সাহায্যে শ্রেণিভেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংকেতিক চিহ্ন প্রদান করা বাঞ্ছনীয়। তাহলে ব্যবহারকারী সহজেই কোন রাসায়নিক দ্রব্যের পাত্রের গায়ের লেবেল দেখেই এর কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে পারবে। এর কার্যকারিতার ঝুঁকি মাথায় রেখে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া কোনো আবাসিক ভবনে রাসায়নিক দ্রব্যের অসতর্কতামূলক সংরক্ষণ অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সাংকেতিক চিহ্ন সংবলিত কোনো পাত্রের গায়ের লেবেল দেখে এটা বুঝা যাবে যে, পাত্রের রাসায়নিক দ্রব্যটি কোন প্রকৃতির। ব্যবহারকারী সহজেই রাসায়নিক দ্রব্যটির ব্যবহারে কিংবা তার পাশে কোনো কার্যক্রম গ্রহণে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে পারবে। এছাড়াও রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে পরীক্ষণের পর পরীক্ষণ মিশ্রণ পরিবেশে কীভাবে বর্জিত হবে, কিংবা পরিশোধন করতে হবে কিনা, সে সম্পর্কেও ধারণা নেওয়া যায়। সংগৃহীত রাসায়নিক দ্রব্য কোথায়, কীভাবে সংরক্ষণ করলে এর মান ঠিক থাকবে ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে, সে সব ধারণাও পাওয়া যাবে।
তাই নিমতলীর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসায়নিক দ্রব্যের সার্বজনীন সংকেতিক চিহ্ন ব্যবহারের যথার্থতা অপরিসীম।
Related Question
View Allপরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো কিছু জানার চেষ্টাই হলো গবেষণা।
কাঁচা অবস্থায় আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে। যেমন- অ্যাসকরবিক এসিড, সাইট্রিক, ম্যালিক, অক্সালিক এসিড। তাই কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কিন্তু আম যখন পাকে তখন আমে বিদ্যমান এই এসিডগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে (মিষ্টি) পরিণত হয়। ফলে পাকা আম হয় মিষ্টি।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ঔষধ সেবন করছে।
প্রতিটি ঔষধই কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়। যখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তথা ওষুধ সেবন করি। যেমন: জ্বর হলে আমরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাই। প্যারাসিটামল একটি রাসায়নিক যৌগ, এর রাসায়নিক নাম acetaminophen বা, 4-হাইড্রোক্সি অ্যাসিট্যানিলাইড। এটি আমাদের পাকস্থলিতে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আবার, প্রচণ্ড মাথাব্যথা করলে আমরা আইবুপ্রফেন খাই।
এ রাসায়নিক যৌগটি খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
তাছাড়া আমরা কৃমিনাশক হিসেবে যে ওষুধ খাই, তাও রাসায়নিক যৌগ। এছাড়াও টাইফয়েড, কলেরা, যক্ষ্মা, কাশি, হাঁপানি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ যত প্রকার অসুখ আছে, তার প্রত্যেকটির প্রতিষেধক হিসেবে আমরা যে ওষুধ সেবন করি, তা কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ১ম চিত্রটি অর্থাৎ ওষুধ সেবন, রসায়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে ওষুধ সেবন ও B নং চিত্রে সবজিক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর ছবি দেখানো হয়েছে। এই দুইটি ছবি পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজিক্ষেতে পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে গ্যামাক্সিন (C6H6Cl6), ডিডিটি (D.D.T.), অ্যালড্রিন, ক্লোরডেন, ম্যালাথায়ন, প্যারাথায়ন অন্যতম। এগুলো যখন সবজি ক্ষেতে বিদ্যমান পোকা মাকড়, কীটপতঙ্গ। মারার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় এবং পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কারণ ঐ সমস্ত কীটনাশক যখন জমিতে ছিটানো হয়, তখন সেগুলো বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। এই দূষিত বাতাস মানুষ প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ঐ সমস্ত কীটনাশক মিশ্রিত সবজি খেলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা যেমন- মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, চোখ-জ্বালাপোড়া করা, পেটের পীড়া, বদহজম ইত্যাদি দেখা দেয়।
ঐ সমস্ত কীটনাশক মাটিতে মিশে মাটিকেও দূষিত করে। ফলে জমির। উর্বরতা নষ্ট হয়, জমিতে ভাল ফসল হয় না। আবার বৃষ্টি হলে ঐ সমস্ত কীটনাশক পুকুরে, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির সাথে মিশে, পানিকে দূষিত করে। ফলে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ মরে যায় এবং পুকুর, নদীতে বিদ্যমান বিভিন্ন উদ্ভিদ ও শেওলাও মরে যায়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে তখন এসিডিটির সৃষ্টি হয়। এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তখন এন্টাসিড খাওয়া হয়। কারণ এন্টাসিডে থাকে ক্ষারীয় অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!